“জলের শ্যাওলা”- সোমালিয়ার জলদস্যুদের নিয়ে লিখতে গেলে অনেকটাই ‘কান টানিলে মাথা আসে’ এমন সূত্রের মতন হয়। এক বা দুটি লেখায় পুরো ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়। কেন সোমালিয়ায় এত ভয়াবহ জলদস্যুদের উৎপত্তি ? সেটাও প্রকাশ করা দূরহ হবে। সোমালিয়া, সোমালিয়ার খনিজ সম্পদ, সোমালিয়ার জলদস্যু, সোমালিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস, সোমালিয়ার জাতীগোষ্ঠি, সোমালিয়ার অর্থনৈতীক ভয়াবহতা কিংবা কালোদের উপরে বর্বরতা ইত্যাদির বহুবিধ ইতিহাস থেকে খণ্ড খণ্ড অংশ লিখলে প্রকৃত ইতিহাস খুঁজে পাওয়া ভার।
৮০ দশকের শুরুর দিকে বিটিভিতে হলিউডের একটি ফ্লিম প্রদর্শিত হতো যার নাম ছিল “Rudes” (অসভ্যতা) । Rudes ফ্লিমের সাথে সোমালিয়ার জলদস্যুদের সম্পর্ক নেই তবে কালোদের উপর সাদাদের বর্বরতার কথা স্মরণে উল্লেখ করা। এমনকি ২০১২ সালে অস্কারে ভূষিত দুই বিখ্যাত শিল্পী Leonardo Dicaprio এবং Christop Waltz এর সেই বিখ্যাত ফ্লিম “Django” ছবির কথাও বলতে হয়, কিভাবে কালোদের উপরে সাদারা বর্বরতা চালায? Django একজন কালো আফ্রিকানের নামে ফ্লিমটি তৈরী হয়েছিল। যেখানে এই ফ্লিমে একটি চমৎকার ডায়লগ ছিল, আমার নাম Jango তবে ‘D’ উহ্য তোমাদের সাদাদের কারণেই। সোমালিয়ার সাধারণ জেলেরা সাদাদের বর্বরতা ও অত্যাচারের কারণে বাধ্য হয়েই জলদস্যুর পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং আজও চলছে।
১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ইতালির উপনিবেশ থেকে বেরিয়ে সোমালিয়ার জন্ম। আফ্রিকা অঞ্চলের সুইজারল্যান্ড নামে পরিচিত ছিল সোমালিয়া। কিন্তু আজ সোমালিয়া এক বিভীষিকার নাম। দেশটির নাম শুনলেই সবার চোখে ভাসে যুদ্ধ বিগ্রহ আর জলদস্যুদের কথা। প্রশ্নটি স্বাভাবিক কারণেই উঠে কেন ? অথচ এই সোমালিয়াতো আফ্রিকার সুইজারল্যান্ড ছিল।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সোমালিয়ার জলদস্যুদের সাথে মধ্যযুগের ইউরোপীয় জলদস্যুদের বেশ মিল পাওয়া যায়। ইতিহাসে আরও পাওয়া যায়, জলদস্যুতার স্বর্ণযুগ ছিল ১৬৫০ থেকে ১৭৩০ সাল (সেই ইতিহাসে যাচ্ছি না)। বর্তমানে সেই যুগ সোমালিয়া যেন দায়িত্ব নিয়েছে। মাঝে বেশ কয়েক বছর স্তিমিত থাকলেও সম্প্রতিককালে নতুন করে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে সোমালি জলদস্যুদের। গত মঙ্গলবার ১২ মার্চ এই জলদস্যুরা বাংলাদেশি একটি জাহাজ ছিনতাই করে ২৩ জন নাবিককে জিম্মি করেছে।
ছোট্ট করে বললে বলা যায়, ১৯৯১ সালে সামরিক শাসনের উৎখাতের পরে নৈরাজ্যের মধ্যে পড়ে দেশটি। পরের দুই দশকের বেশি সময় যুদ্ধবিগ্রহে বিধ্বস্ত সোমলিয়াতে কার্যকর কোন সরকার ছিল না। ইন্ডিয়ান ওশান কমিশনের সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতেও জলদস্যুতার নেপথ্যে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে, সোমালিয়ায় যখন নৈরাজ্যেতা চলছে এই সময়টাতে আফ্রিকার মধ্যে দীর্ঘতম উপকূল সমৃদ্ধ দেশটির জলসীমার নিরাপত্তায় কোন কোস্টগার্ড বা বাহিনী ছিল না। এতে এই অঞ্চলে বিদেশি মাছ ধরা নৌযানের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়তে থাকে। এতে স্থানীয় জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে, তারা দস্যুবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাছাড়া ইন্ডিয়ান ওশান আরও একটি কারণ দেখিয়েছে, মৎস শিকারের চেয়ে দস্যুতায় আয়ের পরিমাণও অনেকগুণ বেশি। জাতসিংঘের ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের উৎস থেকেও জানা যায় সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা মূলত এই উপকূলে অবৈধভাবে মাছ ধরার ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল।
১৯৯১ সালে সোমালিয়ায় যখন ব্যপক নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয় পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রশক্তিগুলো তখন মওকা বুঝে সোমালিয়ার খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং নৈরাজ্যের সুযোগ গ্রহণ করে পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রশক্তিগুলো সোমালিয়ার উপকূলে পাশ্চাত্যের তেজষ্ক্রিয় বর্জ্র্যপদার্থ ফেলতে শুরু করে। সরকার গায়েব হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত থেকেই সোমালিয়ার উপকূলে হানা দিতে থাকে রহস্যময় ইউরোপীয় জাহাজ। তারা বিরাট বিরাট ব্যারেল ফেলতে থাকে সেখানে।
সোমালিয়ার উপকূলের অধিবাসীরা পাশ্চাত্যের তেজষ্ক্রিয় বর্জ্র্যপদার্থের ফলে অসুস্থ হতে শুরু করে। প্রথম প্রথম তাদের গায়ে অদ্ভুত একপ্রকার দেখা দিত, তারপর শুরু হলো বমি এবং বিকলাঙ্গ শিশু প্রসব। ২০০৫ সালের সুনামির পর, তাদের উপকূল ভরে যায় হাজার হাজার পরিত্যক্ত ও ছিদ্রযুক্ত ব্যারেলে। মানুষ তেজষ্ক্রিয়তায় ভুগতে থাকে। ৩০০ এরও বেশি মানুষ মারা যায়। সেসময়ে সোমালিয়ায় জাতিসংঘ প্রতিনিধি আহমেদু আবদাল্লাহ বলেন, ‘কেউ এখানে একটানা পারমানবিক উপাদান ফেলছে। আরও ফেলছে সীসা, ক্যামিয়াম ও মার্কারি।’ খুঁজলে দেখবেন এর বেশিরভাগই আসছে ইউরোপীয় হাসপাতাল ও কল কারখানাগুলো থেকে। ইতালিয় মাফিয়াদের মাধ্যমে সস্তায় তারা এগুলো সোমালিয়ার জলসীমায় খালাস করে। ইওরোপীয় সরকারগুলো এ বিষয়ের কোন প্রতিকার করেনি। এমনকি ইওরোপীয় সরকারগুলো এগুলো পরিষ্কার করার জন্য কিছুই করেনি, এমনকি একপয়সাও ক্ষতিপূরণ দেয়নি এবং বর্জ্র্যপদার্থ ফেলা ঠেকাচ্ছিলোও না।
বিদেশী জাহাজ দ্বারা সোমালি জলের মধ্যে বিষাক্ত বর্জ্য ডাম্পিং করার ফলে স্থানীয়দের পরিবেশ বসবাসের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। এই তথ্য ডিআইডব্লিউ এবং মার্কিন হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটিও প্রদান করেছিল।
পাশ্চাত্যদের প্রতিরোধে স্থানীয় জেলেরা সশস্ত্র দলে বিভক্ত হয়ে বিদেশী জাহাজ অত্র অঞ্চলে প্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে বিকল্প আয় হিসেবে তারা বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ মুক্তিপণের জন্য ছিনতাই শুরু করে। প্রায় ৭০ শতাংশের মত উপকূলবর্তী সম্প্রদায় দেশের জলসীমার মধ্যে বিদেশী জাহাজের প্রবেশ বন্ধে জলদস্যুতাকে শক্তভাবে সমর্থন করে। এই তথ্য ২০০৯ সালের ওয়ার্ডিরনিউজ কর্তৃক পরিচালিত এক জড়িপেও উল্লেখ আছে।
জলদস্যুরা এটাও বিশ্বাস করে যে তারা তাদের মাছ ধরার অঞ্চল রক্ষা করছে, ন্যায় বিচারের মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ বহি:দেশের কাছ থেকে রক্ষা কর চলেছে। কিছু কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমালিয়ায় উপযোগী কোস্টগার্ড বাহিনী না থাকায় এবং দেশে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সামরিক বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় জেলেরা একত্রিত হয়ে দেশের জলসীমা রক্ষায় বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পাহারায় নিউজিত রয়েছে। এ ধরনের সংবাদ মূলত জলদস্যুতাকে একপ্রকার উৎসাহিত করেছে বলেও কোন কোন প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।
তথ্য সূত্থে দেখা যায়, ২০০৫ সালের পর থেকে সোমালিয়ান জলদস্যুরা সংঘবদ্ধ হয়ে বৃহৎ পরিসরে আক্রমণ শুরু করে। সমুদ্র বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতার কারণে তারা কেবল ক্ষিপ্রগতিতেই নয় বরং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হানা দেয়। যা তাদের দস্যুবৃত্তিতে অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছে। আক্রমণের সময় হিসেবে তারা মূলত রাত কিংবা ভোরের আলোকেই বেছে নেয়। জলদস্যুরা বড় জাহাজগুলোর কাছে পৌঁছাতে ছোট ছোট মোটর চালিত নৌকা ব্যবহার করত। যা দ্রুত গতির পাশাপাশি বড় জাহাজের রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। সোমালিয়ার জলদস্যুদের সাহসের কোন কমতি নেই। এই জলদস্যুরা বেশ রূঢ় মেজাজের ও শারীরিচভাবে বেশ শক্তিশালী গড়নের।
একটি তথ্যসূত্র রিপোর্ট অনুযায়ী শুধুমাত্র ২০১১ সালেই সোমালিয়ার জলদস্যুরা ২১২টি জাহাজে হামলা করেছিল। ওই সময় জলদস্যুদের দমনে তৎপর হয়ে ওঠে নানা মহল। অত্র উপকূলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমাতে তৎপর রয়েছে জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন। কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশ, জোট ও সংস্থা। নিরাপত্তার জন্য বিদেশি নৌ ও বিমানশক্তি ওই অঞ্চলে টহল দেয়। এসব কারণে সোমালিয়ার জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে এসেছিল। এভাবে অত্র অঞ্চলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্ত পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত সোমলিয়ার জলদস্যুদের দমনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সাতটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল
২০২২ সালে জলদস্যুতার ১৫০ টি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ১২০, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের আওতাধীন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যুরো (আইএমবি) প্রকাশিত ‘পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি রিপোর্ট’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা এ তথ্য তুলে ধরা হয়। লন্ডনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) এর বরাতে একটি তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে, সোমালিয়ার উপকূলসহ ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলে গত তিন মাসে যতগুলো জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে, গত ছয় বছরেও তা হয়নি।
সমুদ্রে জলদস্যুদের উপদ্রবের কতগুলো অঞ্চল বেশ প্রসিদ্ধ বলা যায়। সেগুলোর মধ্য উল্লেখযোগ্য কতগুলো অঞ্চল:
‘এডেন উপসাগর’- বেশ আলোচিত অঞ্চল। লোহিতসাগরে ঢোকার মুখে অবস্থিত এডেন উপসাগর। এই পথ দিয়ে সুয়েজখালের দিকে যাওয়া মালবাহী জাহাজ চলাচল করে বলে এটা ভৌগোলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর কাছেই অবস্থিত বিশৃঙ্খল দেশ সোমালিয়া। এই বাণিজ্যপথে সোমালি জলদস্যুদের তাণ্ডব চলে। এটা অনেক দেশের সরকার ও বড় শিল্পগোষ্ঠীর জন্য বড় চিন্তার কারণ।
‘মালাক্কা প্রণালি’- ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মালাক্কা প্রণালি ঘিরে আছে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের এক প্রান্ত। সুয়েজখাল, মিসর আর ইউরোপের দিকে যাত্রাপথে এই প্রণালি পার হওয়ার সময় জলদস্যুরা জাহাজগুলো ধরে। তবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে তাদের উপদ্রব কমিয়ে এনেছে।
‘বেনিন’- আফ্রিকার দেশ বেনিনের জলসীমায় জলদস্যুতের উপদ্রব ব্যাপক। এই এলাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জলপথগুলোর একটি। এখানকার জলদস্যুদের সহজে ধরা যায় না। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংস্থা (আইএমও) এই অঞ্চলে জলদস্যুতা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিলেও এখনো ফলাফল দেখা যায়নি।
‘গিনি উপসাগর’- উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা আর দক্ষিণের অ্যাঙ্গোলার কাছে গিনি উপসাগরও জলদস্যুরা হানা দেয়। ইউরোপীয় দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের তেলের জাহাজগুলো এই পথ দিয়েই চলাচল করে। ওত পেতে থেকে জলদস্যুরা এসব জাহাজে হামলা করে। এখানে অজানা অনেক আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
‘আরবসাগর’- আরবসাগরে ওমান উপসাগরের এলাকাতেই জলদস্যুদের বেশি বিচরণ। এই এলাকা বারবার সামুদ্রিক জলদস্যুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকার এডেন উপসাগর ও সোমালি উপকূলের মতো এখানকার নিরাপত্তা নিয়ে ততটা উদ্বিগ্ন নয়। এ কারণে আরব সাগরে পণ্য পরিবহনে তাই মোটা অঙ্কের ইন্স্যুরেন্স করতে হয়।
‘ভারত মহাসাগর’- ভারত মহাসাগরে জলসীমায় মূলত সোমালিয়ার জলদস্যুরা হানা দেয়। ভারতীয় জাহাজের পাশাপাশি অন্য দেশের জাহাজও তাদের হামলার শিকার হয়। ভারত মহাসাগর সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া অন্যতম সামুদ্রিক পথ হওয়ায় এখানে জলদস্যুতার প্রভাব মারাত্মক।
জলদস্যুতার কারণে বেড়েছে জাহাজের নাবিক ও ক্রুদের জীবনের হুমকি। সামুদ্রিক জলদস্যুতার মতো অপরাধের শিগগির সমাধান দরকার। আইএমও কমিটি ও সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের সরকারের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকায় সব ক্ষেত্রে সামাধান মিলছে না। এ কারণে জলদস্যুতা দিনকে দিন আবার নতুন করে বাড়ছে।
মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরব আমিরাত যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরের সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে এমভি আবদুল্লাহ। জলদস্যুরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২৩ নাবিকের সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।
সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও এখনও জাহাজ ছাড়িয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এমনকি উপায়ও এখন অবধি বের হয়ে আসেনি। জলদস্যুদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা মালিক পক্ষ (এবং সরকার থেকেও হবে নিশ্চয়ই) থেকে করা হচ্ছে, পত্রিকার খবর। তবে গত পাঁচ দিনেও জলদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সূত্রের সাক্ষাৎ মেলেনি, পত্রিকার খবর।
ইতিপূর্বেও কয়েকবার বাংলাদেশী জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পেরেছিল এবং জাহাজের সকল ক্রুদের জিম্মি করা হয়েছিল। তবে সেগুলোর সমাধান নগদ টাকার মাধ্যমেই করা হয়েছিল এবং সকল ক্রুররা নিরাপদেই ফিরে এসেছিল। এবারও আটক জাহাজের সকলেই সুস্থভাবে ফিরে আসুক, সেটাই হবে আমাদের সকলের চাওয়া। তবে আগামীতে বাংলাদেশকে জাহাজ সংক্রান্ত বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতেই হবে। নিশ্চয়ই সরকার সহ সকল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রাখবেন।

বুলবুল তালুকদার
শুদ্ধস্বর ডটকম

