বাংলাদেশি জাহাজ এম ভি আব্দুল্লাহ ছিনতাইয়ের ৫ দিন পরও কোনো যোগাযোগ করেনি সোমালিয়ান জলদস্যুরা। তবে ১৪ বছরে আগে অপহৃত জাহাজ এমভি জাহান মনির নাবিক মোহাম্মদ ইদ্রিসের আশা নাবিকদের ছেড়ে দেবে দস্যুরা। সেসময় জিম্মি থাকা এই নাবিক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, দস্যুরা জিম্মিদের সাথে ভাল ব্যবহার করে। শিগগিরই তারা আলোচনায় বসবে বলেও মনে করেন তিনি।
সোমালিয়ান জলদস্যুরা ২০১০ সালে ছিনতাই করে জাহান মনি নামের বাংলাদেশি একটি জাহাজ। সিঙ্গাপুর থেকে গ্রিস যাওয়ার সময় ছিনতাই হওয়া জাহান মনির মালিক ছিলো চট্টগ্রামের কবির গ্রুপ। গত মঙ্গলবার ভারত সাগরে ছিনতাই হওয়া এমভি আব্দুল্লাহ’র মালিকও একই প্রতিষ্ঠান।
সেই জাহান মনিতে তিনমাসেরও বেশি সময় জিম্মি ছিলেন নাবিক মোহাম্মদ ইদ্রিস। সে সময়ের দুঃসহ স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, জাহান মনিকে দ্বিতীয় বার ছিনতাইয়ের জন্য আক্রমণ করেছিল আরেকটি পক্ষ। এমভি আব্দুল্লাহর মতো তাদেরও উদ্ধার করতে এসে পিছু হটতে হয় দুটি ভারতীয় জাহাজকে।
জাহান মনিতে জিম্মি থাকা নাবিক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘তখন ডাকাত সরদার আমাদের ক্যাপ্টেনের মাথায় অস্ত্র ধরে রেখেছে। আর আমাদের সবাইকে ইনডিভিজ্যুয়ালি বসিয়ে অস্ত্র তাক করে রাখে। পরে ডাকাত সরদার ক্যাপ্টেনকে বলে যে তুমি দুই মিনিটের মধ্যে নেভিকে চলে যেতে বলো। দুই মিনিটের মধ্যে যদি নেভি না যায় তাহলে সবাইকে মেরে ফেলব। তখন আমাদের ক্যাপ্টেন বললো যে প্লিজ আপনারা চলে যান। নাহতে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে।’
সোমালিয়ান দস্যুরা সে সময় জিম্মিদের সাথে ভাল ব্যবহার করেছে জানিয়ে ইদ্রিসের আশা, এম ভি আবদুল্লার নাবিকরাও সুস্থ ভাবে ফিরবেন।
মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘ওদেরও সিকিউরিটির ব্যাপার আছে। মিনিমান আরো দুই থেকে চারদিন সময় লাগবে। শ্যোরে যে গ্রুপটা আছে ওরা আসবে। তারপর ডাকাতদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসবে। বসার পর ওরা কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি একটা লিয়াজ্যুঁতে আসবে। কারণ বাংলাদেশ সরকার বা এসআর শিপিং কারোই ওদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার মতো অবস্থা নেই।’
সেখানে অনেক জিম্মি জাহাজ থাকলেও জাহান মনি ছাড়া পায় ১০০ দিনে। মালিকপক্ষ এবারও নাবিকদের মুক্তির জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে মনে করেন নাবিক ইদ্রিস।

