জার্মানিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জনবল সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে নার্সিং ও নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট পেশায় বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ সৃষ্টি হওয়ায় বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ উন্মুক্ত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জার্মান ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থান ও পেশাগত উন্নয়নের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জার্মানির ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা, হাসপাতাল ও কেয়ার সেন্টারে কর্মীর ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দেশটির নার্সিং খাতে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত তরুণদের জন্য সেখানে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জার্মানিতে বর্তমানে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো Pflegefachmann/Pflegefachfrau (Qualified Nurse)। তিন বছর মেয়াদি এই প্রশিক্ষণে হাসপাতাল, নার্সিং হোম, পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং হোম কেয়ার সেবায় কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা যায়। পাশাপাশি Pflegeassistent/Pflegehelfer (Nursing Assistant) প্রশিক্ষণও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই খাতে সফলতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো জার্মান ভাষায় দক্ষতা। যদিও অনেক ক্ষেত্রে B1 লেভেলের ভাষাগত যোগ্যতা গ্রহণ করা হয়, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে B2 লেভেলের ভাষাজ্ঞান চাকরি ও প্রশিক্ষণ লাভের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা প্রদান করে। রোগী, চিকিৎসক, সহকর্মী এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কারণে ভাষাগত দক্ষতা নার্সিং পেশার একটি অপরিহার্য অংশ।
বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের জন্য সাধারণত এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। এছাড়া এইচএসসি বা উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে আবেদন আরও শক্তিশালী হয়। যাদের ইতোমধ্যে নার্সিং ডিপ্লোমা, বিএসসি নার্সিং, মিডওয়াইফারি বা নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রশিক্ষণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে জার্মানিতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে Anerkennung (Qualification Recognition) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
আগ্রহীদের জন্য জার্মান ভাষা শিক্ষা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, অনলাইনে আবেদন, সাক্ষাৎকার এবং Ausbildung ভিসা প্রাপ্তির ধাপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন জার্মান হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত আবেদন করার মাধ্যমে এ সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব।
এদিকে সম্প্রতি হামবুর্গে অনুষ্ঠিত একটি ভোকেশনাল ট্রেনিংবিষয়ক কর্মশালায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জুলকার নাঈন অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় তিনি বিভিন্ন ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। জার্মানিতে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে তাঁর এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আগ্রহ ইতোমধ্যেই প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, রাষ্ট্রদূত জুলকার নাঈনের এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশি যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্পর্কে সচেতন করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি জার্মানির মতো উন্নত দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জার্মান ভাষায় দক্ষতা অর্জন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে পারলে আগামী বছরগুলোতে জার্মানির নার্সিং খাত বাংলাদেশি তরুণদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
সৈয়দ জুলফিকার মনা
প্রধান সমন্বয়ক , জিয়া সাইবার ফোর্স , কেন্দ্রীয় কমিটি ।

