একটি রুটিন টেস্ট মিশনে উড্ডয়নের পরপরই বিশাল আকৃতির এই যুদ্ধবিমানটি রানওয়ের ওপর আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে এতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়, যা মাইলের পর মাইল দূর থেকেও দৃশ্যমান ছিল।
বিমান ঘাঁটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বি-৫২ বোমারু বিমানটি ঘাঁটির রাডার আধুনিকীকরণ কর্মসূচির একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। দুর্ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে এডওয়ার্ডস ঘাঁটির রানওয়ের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। দুর্ঘটনার পর ঘাঁটির সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং আগত সব বিমানকে বিকল্প রুটে ডাইভার্ট করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। কর্নেল হেইস জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত শেষ হতে অন্তত ৩০ দিন সময় লাগবে এবং দুর্ঘটনার গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ কারণ বিশ্লেষণ করতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
পৃথক এক বিবৃতিতে বোয়িং কর্তৃপক্ষ তাদের দুই কর্মীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের পাশাপাশি মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করেছেন।
১৯৫০-এর দশক থেকে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কাল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তির অন্যতম প্রধান প্রতীক এই বোয়িং বি-৫২ স্ট্র্যাটফোর্ট্রেস। বিশাল আকৃতির কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এটি ‘দ্য বাফ’ ডাকনামে পরিচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এই দূরপাল্লার ভারী বোমারু বিমানগুলো নিয়মিত অংশ নিচ্ছিল। চলমান আন্তর্জাতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার মোজাভে মরুভূমিতে অবস্থিত আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষামূলক বিমান ঘাঁটিতে এমন একটি অত্যাধুনিক ও কৌশলগত বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য বড় ধরণের ধাক্কা বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

