চলমান ডলার সংকটের মধ্যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো কমছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ কমে ৩৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। গত বৃহস্পতিবার যা ছিল ৩৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। আর রফতানি উন্নয়ন তহবিলসহ (ইডিএফ) বিভিন্ন তহবিলে রিজার্ভ থেকে জোগান দেওয়া অর্থ বাদ দিলে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়াবে ২৬ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানান গিয়েছে, আজ সোমবার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে। এদিনও রিজার্ভ থেকে ১৩১ মিলিয়ন বা ১৩ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। আকু পরিশোধের এ অর্থ মঙ্গলবার সমন্বয় করা হবে। এতেই রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নামবে।
তথ্য বলছে, আকু হলো আন্তঃদেশীয় এক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। আকুর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মধ্যকার লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরানে আকুর কেন্দ্রীয় কার্যালয়। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানির অর্থ পরিশোধ করে। সূত্র জানায়,গতকাল রোববার আকু পেমেন্ট হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার রিজার্ভ থেকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার বা ১৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হবে। আকু পরিশোধের পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে চলে আসবে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালান্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন (বিপিএম৬) ম্যানুয়াল অনুযায়ী ‘কেবল ব্যবহারযোগ্য অংশকেই রিজার্ভ হিসেবে দেখাতে হবে।’ আইএমএফ’র শর্ত অনুযায়ী, ইডিএফে জোগান দেওয়া ৬০০ কোটি ডলার, জিটিএফে দেওয়া ২০ কোটি, এলটিএফএফে তিন কোটি ৮৫ লাখ এবং সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানকে দেওয়া ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার রিজার্ভে দেখানো হচ্ছে। যেটি ব্যবহারযোগ্য নয়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় গত অক্টোবরে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। গত মাসে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় উভয়ই ৭ শতাংশের বেশি হারে কমেছে। বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান দুই উৎসেই পতন হওয়ায় বিওপির ঘাটতি স্ফীত হয়েছে। এ ঘাটতি পূরণ করতে প্রতিনিয়ত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই (জুলাই-অক্টোবর) রিজার্ভ থেকে বিক্রি করেছে ৫ বিলিয়ন ডলার। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। যদিও গত বছরের আগস্টে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল।

