যে ইউক্রেনীয়দের আপনি বন্দি করে রেখেছেন, তাঁদের ফেরত দিন। বদলে আপনার ‘প্রিয় বন্ধু’কে ফিরিয়ে নিয়ে যান! রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নাকি খুল্লামখুল্লা এই ‘সওদা’ করারই সুযোগ দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি
সূত্রের দাবি, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েছেন এক পলাতক রুশপন্থী ধনকুবের। তাঁর নাম ভিক্টর মেদভেদচুক । ৬৭ বছরের এই বৃদ্ধ ব্যবসায়ী ইউক্রেনের সবথেকে ধনী বাসিন্দাদের মধ্যে একজন! শোনা যায়, পুতিনের সঙ্গে তাঁর নাকি ভীষণ ঘনিষ্ঠতা! বস্তুত, সম্পর্কটা একেবারেই পারিবারিক।
ভিক্টর নিজে নাকি সকলকে বলে বেড়ান, ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু! এবং তিনি নাকি ভিক্টরের ছোট মেয়ের গডফাদার! বস্তুত, দীর্ঘ সময় ধরেই ভিক্টরকে নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। ইউক্রেনের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও মস্কোর সঙ্গে তাঁর মাখামাখি কোনও দিনই ভালো চোখে দেখেননি রাশিয়া এবং পুতিনের বিরোধীরা। বরং, রাশিয়ার শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন ইউক্রেনে থাকেন, সেই প্রশ্নও বহুবার উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাঁর ইউক্রেনে থাকার অভিসন্ধী নিয়েও।
এহেন একটি চরত্র নাকি বর্তমানে বন্দি হয়ে রয়েছেন ইউক্রেনীয় সেনার হাতে! সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে ছবি তোলার দিনক্ষণ লেখা না থাকলেও বৃদ্ধ ভিক্টরকে একটি চেয়ারে বসে তাকতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর পরনে ইউক্রেনীয় সেনার জংলা ছাপা পোশাক। হাতে হাতকড়া! চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তিনি বিধ্বস্ত!
ইউক্রেনীয় নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিক্টরকে পাকড়াও করতে রীতিমতো পরিকল্পনা ছকে অভিযান চালাতে হয়েছে। তবেই তাঁকে ধরা সম্ভব হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ইভান বাকানভ জানিয়েছেন, “খুব দ্রুত এবং একাধিক স্তরে অভিযান চালিয়ে তবেই ভিক্টরকে ধরা সম্ভব হয়েছে। কোনও বিশ্বাসঘাতকই পরিত্রাণ পাবে না। তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সূত্রের খবর, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনের উপর আক্রমণ শুরু করতেই গা-ঢাকা দেন ভিক্টর। সেই থেকেই তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে ইউক্রেনীয় সেনবাহিনী। অবশেষে তাঁকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়েছে। তবে, কবে, কোথা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই বিষয়ে সরকারের তরফে কিছু খোলসা করে বলা হয়নি।

