বাংলাদেশে ষষ্ঠবার ও ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথমবারের মতো উদ্ধার করা হয়েছে বিরল প্রজাতির ‘রেড কোরাল কুকরি সাপ’।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার ভুল্লী বড় বালিয়া থেকে জয়নাল নামে এক ব্যক্তি সাপটি রাস্তা থেকে উদ্ধার করেন। এর আগে দেশে পাঁচ বার এই সাপের দেখে মিলেছে।
পাঁচ বারই দেখা মিলেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পাশের জেলা পঞ্চগড়ে। গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক বাজারের কাছে নির্মাণাধীন ভবনে থেকে আহত অবস্থায় পঞ্চগড় তথা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই সাপ উদ্ধার হয়।
উদ্ধারকারী জয়নাল বলেন, ‘বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সাপটি দেখতে পাই। এর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখে জানতে পেরেছি, এটা বিরল প্রজাতির সাপ। তাই সঙ্গে সঙ্গে সাপটি আটক করে প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের খবর দিয়েছি।’
বন্য প্রাণী সংরক্ষক ও উদ্ধারকারী সহিদুল ইসলাম (বিএসএস) বলেন, ‘স্থানীয়রা সাপটি দেখতে পেয়ে না মেরে আটক করেন এবং আমাকে খবর দেন। আগামীকাল সেখানে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করবো। এরই মধ্যে এই সাপটি বাংলাদেশে রেকর্ডসহ আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রে প্রকাশ পেয়েছে। মানুষ এখন মোটামুটি সচেতন। সাপ দেখলে না মেরে উদ্ধারকারীকে ফোন দিচ্ছেন তারা।’
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, ‘সাপ উদ্ধারের খবরটি শুনেছি। বিরল প্রজাতির সাপটি সংরক্ষণের জন্য বন্য ও প্রাণী অধিদপ্তরকে দ্রুত বার্তা পাঠানো হবে।’
এর আগে পুরো পৃথিবীতে মাত্র ২৫ বার এ সাপের দেখা মিলেছে বলে জানা গেছে। গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ে তথা বাংলাদেশে মধ্যে প্রথমবার এই সাপ উদ্ধার হয়। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার চাকলাহাট এলাকা থেকে দ্বিতীয় বার মৃত অবস্থায়, ২০ এপ্রিল টুনিরহাট এলাকা থেকে তৃতীয় বার জীবিত অবস্থায় এবং গত ১০ মে একই এলাকা থেকে চতুর্থ বার মৃত অবস্থায় সাপ উদ্ধার করা হয়।’
রেড কোরাল কুকরি বিরল প্রজাতির সাপ। উজ্জ্বল কমলা ও প্রবাল লাল বর্ণের এই প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম ওলিগোডন খেরেনসিস (Oligodon Kheriennsis)। ১৯৩৬ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের খেরি বিভাগের উত্তরাঞ্চলে এই সাপ আবিষ্কৃত হয়। সাপটি মৃদু বিষধারী ও অত্যন্ত নিরীহ। সাপটি নিশাচর এবং জীবনের বেশিরভাগ সময় মাটির নিচে থাকে। সম্ভবত মাটির নিচে কেঁচো ও লার্ভা পিঁপড়ার ডিম ও উইপোকার ডিম খেয়ে জীবনধারণ করে।

