জ্বালানি তেলের মূল্যসহ সুনির্দিষ্ট তিনটি দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন খাতের মালিক-শ্রমিকরা। এসব দাবির বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া না মিললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাতে বৈঠকে বসছেন ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির নেতারা।
বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীতে একটি অফিসে আলোচনায় বসেন তারা। সেখান থেকে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির দাবি থাকলেও ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন সড়কে বা মোড়ে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে কয়েকজন নেতা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুধু ঢাকা সিটি করপোরেশনের আশপাশে ৩২টি স্থানে নিয়মিত চাঁদাবাজি হয়ে আসছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানাবেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।
নেতারা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এর আগের বৈঠকে টার্মিনাল ব্যতীত অন্য কোনো সড়ক বা মহাসড়কে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার চাঁদা বা টোল উত্তোলন বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। এর মধ্যে আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় পরিবহন খাতে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এবং বাংলাদেশে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান রাইজিংবিডিকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা দাবি আদায়ে অনড় আছি। এর মধ্যে চাঁদাবাজি বিষয়টি পুরনো দাবি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। সেই বৈঠকে মোট ১০টি সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার কোনটি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
যেসব দাবিতে তারা ধর্মঘট করছে সেগুলো হলো- জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তারপুর সেতুর বর্ধিত টোল প্রত্যাহার এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় পণ্যবাহী যান থেকে টোল আদায় বন্ধ।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে বাংলাদেশে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমেদ মজুমদার বলেন, বৈঠকে ওপর নির্ভর করছে আমাদের কর্মসূচি কী হবে। আশা করছি সরকার আমাদের দাবির প্রতি গুরুত্ব দেবে।
তিনি বলেন, এমন বৈঠক এর আগেও হয়েছে। তবে আমাদের দাবির পক্ষে যেসব সিদ্ধান্ত হয় তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ দেখা যায় না।

