রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার যে ছয়তলা বাণিজ্যিক ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) জিল্লুর রহমান।
আজ শনিবার (২১ আগস্ট) বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে জিল্লুর রহমান বলেন, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী এখনো ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। ভবনের নিজস্ব কোনো ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা ছিল না। তবে পাশের একটি ভবনে পানি যা ছিল, প্রথম আধাঘণ্টা সেই পানি দিয়ে আমরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, ভবনটিতে এমিকন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে ক্রেস্ট তৈরি হতো। গোডাউনের ভেতর প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নেভাতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। প্রচুর পরিমাণে পানি দেওয়া হলেও দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ থাকায়, আবারও যেকোনো সময় আগুন বেড়ে যেতে পারে এই আশঙ্কা থেকে আমরা এখনো নিয়ন্ত্রণ দিচ্ছি না। ভবনের ভেতরে আমাদের তিনটি টিম কাজ করে যাচ্ছে। আগুন আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তবে ভেতরের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে আরো দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা হবে বলেও উল্লেখ করেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের অভিযান এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। শেষ হয়নি। অভিযান শেষ হলে আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব। সার্চিং অভিযানের প্রস্তুতি হলেও আগুনের তীব্রতা থাকায় আমরা এখনো তা শুরু করতে পারিনি।
এর আগে আজ শনিবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে বেসরকারি আনন্দ টিভির অফিস রয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রচুর ধোঁয়ার কারণে আগুন নেভাতে যথেষ্ট বেগ হয় তাঁদের।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে জিয়াউর রহমান জানান, চেয়ারম্যান বাড়ি আনন্দ টিভির ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি সেখানে বিভিন্ন ক্রেস্ট তৈরি করত। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে। তিনি জানান, একে একে ১০ থেকে এখন ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

