সুইজারল্যান্ড পার্লামেন্টে কোন বাঙ্গালী এখন পর্যন্ত সরাসরি নির্বাচিত হন নি

বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। আমার সোনার বাংলা। আমি তাকে খুব ভালবাসি। সেই দেশের মাটির ঘ্রাণ আমার নাকে লেগে থাকে ২৪ ঘন্টা। থাকি খাই কানাডায়, কিন্তু মন পড়ে থাকে সেই বাংলায়। সেই দেশের মানুষ বিশেষ করে আমার এলাকার মানুষ কোন ভুল তথ্য প্রচার করুক তা আমি চাই না। ফেসবুকে যা কিছু লিখি আমার অগোচরে কিংবা অনুপস্হিতিতে যে কেউ আমার টাইম লাইন বা প্রোফাইল ভিজিট করলে যাতে দেখতে পায়, কে আমি, কি ছিলাম আমি, সেভাবেই প্রতিটি অক্ষর আমি সাজিয়ে যেতে চেষ্টা করি। নীতি নৈতিকতা, জ্ঞান অর্জন, গনতন্ত্র আইনের শাসন ও দায়বদ্ধতা পরিপুর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমার ক্ষুদ্র ও সীমিত সাধ্যের প্রচেষ্টা আমার টাইমলাইন। তবে এও জানি সত্য বলার চেষ্টা করা একটা অজনপ্রিয় কাজ। এ পৃথিবীতে জনপ্রিয় থাকার সহজ উপায় হলো গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে চলা। স্রোতে নাউ ভাসানো। আমি সে ধরনের মানুষ না। সেই যে ছোটবেলা থেকে স্রোতের বিপরীতে বাদাম টেনে ধরে আছি এখনো সে ভাবেই আছি।
না, সুইজারল্যান্ড থেকে আমাদের দেশের কেউ এখন পর্যন্ত সরাসরি এমপি নির্বাচিত হন নি। বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত যে খবর পাঠানো ও ছাপানো হয়েছে তা শুধু ভুলই নয় চরম অনৈতিক, অর্ধসত্য ও অন্যায়। এমপি নির্বাচিত হবার খবর পুরোটাই ভুয়া। মহিলাদের প্রতিনিধি বা এক্টিভিষ্ট নির্বাচিত হবার খবর সঠিক। আমি নিজেও কমবেশী একজন মিডিয়া কর্মী বলে বাংলাদেশের মিডিয়া জগত সম্পর্কে বলতে খারাপ লাগছে। এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউজ কোন রকম যাচাই না করে কপি পেষ্ট করে মানুষের বাহবা নেয়া খুবই অন্যায়। কিন্তু কে কার কথা শুনবে? ন্যায় আর অন্যায়ের আজ আর কোন পার্থক্য নেই।
যাহোক সুইস পার্লামেন্টে টরন্টো সময় ভোর চারটার দিকে ইমেইল করেছিলাম। অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই জবাব পেয়েছি। তারাও আমাকে কনফার্ম করে বলেছে সে দেশের এমপিদের পুরো তালিকা ওয়েব সাইটে দেয়া আছে ছবি সহ। আমি যেন সেখান থেকে যাচাই করি। মনে মনে বলি সেই কাজটাই আমি সবার আগে করেছি।
দ্বিতীয়ত তারা বলেছে, উইমেন সেশন যেখানে বাংলাদেশের সুলতানা খান বসবেন আগামী অক্টোবরে দুদিনের জন্য, সেটা তাদের পার্লামেন্টের কোন অংশ নয়। এলায়েন্স এফ নামে একটি সংগঠনের একটা উদ্যোগ যেখানে মহিলাদের অধিকার নিয়ে, জেন্ডার সমতা নিয়ে আলোচনা হয়। একই কথা রাত তিনটায় আমাকে জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ড প্রবাসী আমার ঘনিষ্ট এক বন্ধু। তিনি তখন জানিয়েছিলেন “সেখানে ২০১৯ শের অক্টোবরে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছে। ২০২১ এ নুতন কোন পার্লামেন্ট নির্বাচন হয় নি। এটা কোনো নির্বাচন না , অনলাইনের প্রার্থী অনলাইনে মহিলারাই শুধু অংশ নিয়েছে, বিভিন্ন ভাষা গোত্র সংস্কৃতি দেশ এই সবের ভিত্তিতে দুইদিনের একটা অধিবেশন হয় শুধুমাত্র মহিলারাই অংশ নেয় তারই একজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সুলতানা খান।বিভিন্ন গণমাধ্যম এটাকে না বুঝে এমপি বানিয়ে দিয়েছে, ধন্যবাদ।”
এরপরও যাদের কৌতুহুল থাকবে, তাদের উচিত প্রশ্ন করা, তিনি কোন দল থেকে এমপি হয়েছেন? কে বা কারা ভোট দিয়েছে? কত ভোট তিনি পেয়েছেন? কবে শপথ নিবেন? চার বছর পর পর নির্বাচন হয় সেখানে। ২০১৯ এ নির্বাচন হয়েছে। তাহলে জুরিখে কি কেউ মারা গেছে বা পদত্যাগ করেছে? ইন্টারেষ্টিং বিষয় হলো ওই দেশে কেউ মারা গেলে শূন্য পদে নির্বাচন হয় না। আগের নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তিকে শপথ পড়ানো হয়।
গতরাতে একেবারেই ঘুম হয় নি। কাজেই এখন থামি। এ বিষয়ে পরে আরো লিখবো। সুইস পার্লামেন্টের মুখপাত্রের ইমেইল জবাবটা সংযুক্ত করে দিলাম এখানে। দেখুন। তবে এত কিছুর পরও অভিনন্দন জানাই গোয়ালন্দের মেয়ে সুলতানা খানকে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে নির্বাচিত হবার জন্য। ভবিষ্যতে তিনি সুইস এমপি হবেন ইনশাল্লাহ এ কামনা ও দোয়া করি।
আব্দুল হালিম মিয়া , সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি সাপ্তাহিক বাংলা মেইল টরণ্টো, কানাডা ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.