‘আমায় ক্ষমা করে দিও’, মেয়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি, তারপরেই সব শেষ করে দিলেন পুলক

বাংলাদেশের বরিশাল শহরের প্যারারা রোডে অবস্থিত জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক সমকাল ব্যুরো অফিসের ভিতর থেকে প্রবীণ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভিতর থেকে তালাবদ্ধ অফিসের দরজা ভেঙে পুলিশ পুলকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে। রেখে গেলেন স্ত্রী এবং কন্যাকে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মহম্মদ সালেহ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের ধারণা, পুলক হয়তো আত্মহত্যা করেছেন। কমিশনার বলেন, “চিঠিগুলি এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে  মনে হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। চিঠিগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে তিনি অসুস্থতা ও বেকারত্ব নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।”

 

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি সুইসাইড নোটের একটিতে লেখা রয়েছে, “আমি আমার অসুস্থতার যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছি না। আমি সুস্থ হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। এমনকি আমি ভারতের ভেলোরের ডাক্তারদের সঙ্গেও পরামর্শ করেছি, কিন্তু আমার অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি।”

তাঁর মেয়ে এবং পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠিতে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন এবং মেয়েকে পড়াশোনা ও গানের তালিম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি এও বলেছেন যে, মেয়ে তাঁর কাকা দীপকের কাছে থেকে যাবে এবং দীপকই তাঁদের দেখাশোনা করবে। কন্যা প্রকৃতির উদ্দেশ্যে পুলক লিখে গিয়েছেন, “আমাকে ক্ষমা করে দিও– এই পৃথিবীতে কেউ অন্য কারও জন্য চিরকাল অপেক্ষা করতে পারে না।”

শুক্রবার সন্ধ্যায় সমকাল-এর ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরি পুলকের দেহটি দেখতে পান। সুমনা জানিয়েছেন, ফোনে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলকের স্ত্রী তাঁকে ফোন করেন। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় অফিসে গিয়ে দেখেন দরজাটি ভিতর থেকে তালা দেওয়া। দরজার ফাঁক দিয়ে পুলককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে।

২০২৩ পর্যন্ত পুলক সমকালের প্রাক্তন ব্যুরো প্রধান ছিলেন এবং এর আগে বরিশাল প্রতিনিধি ও যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বরিশালের বরিশাল প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। সহকর্মীরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে সমকাল পত্রিকায় চাকরি হারানোর পর থেকে পুলক মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। তিনি মাঝে মাঝে সমকালের বরিশাল অফিসে যেতেন, যেখানে তিনি খবর পড়তেন এবং প্রাক্তন সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন।

সুমন জানিয়েন, সংবাদপত্রটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে পুলককে অফিসের একটি চাবি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের সন্দেহ, পুলক শুক্রবার কোনও এক সময় ওই চাবি ব্যবহার করে অফিসে প্রবেশ করেন এবং পরে আত্মহত্যা করেন। অফিসের পিয়ন শুক্রবার ছুটিতে ছিলেন। জানা গিয়েছে, সে সময় পুলক অফিসে একাই ছিলেন। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from শুদ্ধস্বর ডটকম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading