হেফাজত নেতা মাহমুদ কাসেমী ও খালেদ সাইফুল্লাহ রিমান্ডে

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা হাফেজ মো. মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী এবং মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবীর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাদের দু’জনের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি পল্টন থানায় করা মামলায় কাসেমীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৮ এপ্রিল বিকেলে মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ওয়ারির ডেমরা জোনের একটি দল।

তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ভয়াবহ সহিংসতায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী সম্প্রতি পল্টন এলাকায় নাশকতার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি বছর রাজধানী পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা খালেদ সাইফুল্লাহকে আদালতে হাজির করেন। একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে এদিন পল্টন থানার এক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছিলেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই আদালত।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) ভোরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে র‍্যাব-১ এর একটি দল।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এ অবরোধ কর্মসূচির নামে লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও আরামবাগসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহনসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হেফাজতের কর্মীরা। এ ঘটনায় পল্টন ও মতিঝিল থানায় হেফাজত এ নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.