নিজের হতাশা ও মানসিক শক্তির কাছে হেরে লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে বলিউডের তরুণ ও প্রতিভাবান অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে জীবনের কাছে হার মেনে আত্মহ’ত্যার পথ বেছে নেয় এই গুণী অভিনেতা। অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী সুশান্ত ছিলেন বিজ্ঞান ও মহাকাশের বিশাল বড় ভক্ত। নিজের ৫০ টি গোপন ইচ্ছার মধ্যে অন্তত ডজন খানেক ইচ্ছাই ছিল মহাকাশ ও নাসা কেন্দ্রিক। শুধু তাই নয়, সুশান্তই ছিলেন বলিউডের প্রথম অভিনেতা যিনি চাঁদের নিজের নামে জায়গাও কিনে রেখেছিলেন!
ইন্টারন্যাশনাল লুনার ল্যান্ডস রেজিস্ট্রি থেকে চাঁদের ওই অংশটি নিজের নামে কিনেছিলেন সুশান্ত। শুধু তাই নয়, সৌরজগত নিয়ে এতটাই আগ্রহী ছিলেন, যে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ টেলিস্কোপ ছিল তার সংগ্রহে । যার মাধ্যমে শনির বলয় দেখতেন তিনি। চাঁদের যে অংশটি সুশান্ত কিনেছিলেন, তার নাম ‘সি অব মাস্কভি’। এর আগে সুপারস্টার শাহরুখ খানকে তার ভক্তরা চাঁদে এক টুকরো জমি উপহার দিয়েছিলেন, তবে সুশান্ত হলেন প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র অভিনেতা যিনি চাঁদে আইনীভাবে সম্পত্তি কিনেছেন। সুশান্ত সিং রাজপুতের নিজের বাড়িতে একটি উন্নত টেলিস্কোপ মেড ১৪, এলএক্স০০ ছিল যা থেকে তিনি মহাকাশে তার জমির উপর নজর রাখতেন।
১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি পটনায় জন্মগ্রহণ করেন সুশান্ত সিংহ রাজপুত। পরবর্তীকালে দিল্লিতে চলে আসে তাঁর পরিবার। দিল্লি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও ভর্তি হন। কিন্তু সেইসময় থেকেই থিয়েটারের দিকে ঝোঁকেন তিনি। নাচও শেখেন। তার জন্য পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। অভিনয়ের তাগিদ থেকেই শেষ মেশ মুম্বাইয়ে চলে আসেন সুশান্ত। সেখানে ২০০৮ সালে প্রথম একতা কাপুরের প্রযোজনায় ‘কিস দেশ মে হ্যাঁ মেরা দিল’ সিরিয়ালে অভিনয় করার সুযোগ পান। সিরিয়ালে অল্প দিনের মধ্যেই তাঁর চরিত্রটির মৃত্যু হয়। তবে সেখান থেকেই একতা কপূরের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায় তাঁর। সেই সূত্রেই ২০০৯ সালে ‘পবিত্র রিস্তা’ সিরিয়ালে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। তার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। সুশান্তের আত্মহত্যার খবর স্তব্ধ করে দিয়েছে সকলকে। তার ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী থেকে শুরু করে ভক্তরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার চলে যাওয়া। সুশান্তের এই অকালমৃত্যুতে সকলেরই একটি প্রশ্ন, কী এমন আঘাত পেয়েছিলেন তিনি যার ফলে এই কঠিন পথটি বেছে নিতে হয়েছে তাকে?

