সব ফকফকা সুতরাং লকডাউন তুলে দিন

করোনা মহামারীর বয়স অনেকদিন হতে চললো, তবুও আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে ( একান্তই ব্যক্তিগত মত ) লকডাউন কি ? কেন লকডাউন? কিভাবে লকডাউন? কখন শেষ লকডাউন ? এই বিষয়গুলো আজ অব্দি সবার কাছে মোটেও পরিষ্কার নয় ! সরকারের কাজেও মনে হচ্ছে বড় বড় কিন্তু আছে । সরকার হয়তো স্বীকার করবেন না , আপন ইগোর কারণে । আসলে লকডাউন নিয়ে উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর কি?

একটি উদাহরণ দিয়ে বলি ( সম্ভবত উদাহরণটি কোথাও একবার লিখেছিলাম  ), তাহলে হয়তো বিষয়টি পরিষ্কার করা যাবে ।

মনে করুন একটি পুকুরে অনেক প্রজাতির মাছ আছে ।রূই, কাতল, মৃগেল, কৈ, পাঙ্গাস, পুঁটি, তেলাপিয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।  সেই মাছগুলোর মধ্যে থেকে মৃগেল মাছগুলোর কোনো রোগ হয়েছে । সেই মৃগেল মাছ থেকে অন্যান্য মাছগুলোর রোগ ছড়ানোর একটি সম্ভাবনা আছে। ফলে এক সময় পুকুরের সব মাছ রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন নাশ হবে । মানে সব শেষ ।

তাহলে করণীয় কি? ভেরী সিম্পল । সেই পুকুরে সব মৃগেল মাছ তুলে এনে অন্য কোনো জলে রেখে, চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে হবে । এতে হয়তো অনেক মৃগেল মাছ মারা যেতে পারে, অনেকগুলো টিকে যাবে , সুস্থ হবে এবং মৃগেল প্রজাতির মাছ থেকে যাবে । অতঃপর সুস্থ হলে আবার সেই পুকুরে অন্যান্য মাছের সাথে ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া।

তাহলে এই উদহারণ থেকেই বুঝা যাচ্ছে লকডাউন বিষয়টি।  মানুষের মাঝেও একি বিষয়। জনমানুষের ভির থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মৃগেল মাছের মতন ব্যবস্থা নিতেই, পুরো পুকুরের মতন দেশকে বন্ধ করে দেওয়া। তারপর বেছে  বেছে    সকল করোনা  আক্রান্তদের টেস্টের মাধ্যমে চিহ্নিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সুস্থ করে আবার জনসমাজে ফিরিয়ে আনা । বেশ এখানেই সেই লকডাউনের প্রশ্ন।  সে কারণেই ওয়াল্ড হেল্থ অরগানাইজেশন ” হূ” একটি ম্যাথড দিয়েছে, টেস্ট- টেস্ট- টেস্ট।

লেখা বড় হয়ে যাচ্ছে বলেই লকডাউনের শেষটা আমাদের দেশে কখন হবার, সেটা নিয়ে বলবোর চেষ্টা করবো। আমাদের দেশের সরকার আছে মহা বিপদে। না পেরেছে লকডাউন সঠিক প্লান অনুযায়ী ধরে রাখতে, না পারছে পুরোপুরি তুলে দিতে। এখানে ইউরোপের দেশ অষ্ট্রিয়ার উদাহরণ দেই, তাহলে বুঝতে সুবিধে হবে। নিজের বসবাসের দেশ, যা দেখলাম বা দেখছি , সেটাই বলছি মাত্র।

গত সপ্তাহ থেকেই অষ্ট্রিয়ায় লকডাউন অনেকটা শিথিল করা হয়েছে । যা কিনা আজকে থেকে বেশ শিথিল হয়েছে। এখানে এখনও কিছু তবে/ কিন্তু সরকার ধরে রেখেছে । বার/ রেস্টুরেন্টগুলো খোলা হয়নি এবং কোনো প্রকার ইভেন্ট করা সম্পূর্ণ বন্ধ । তবে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে সাথে নিয়ে যেতে পারছে, অনলাইনে ব্যবস্থা আরো পূর্ব থেকেই চলছে । বসে খাবারের সুবিধে এ মাসের শেষের দিকে আসবে । কেননা গ্রীষ্মকালে ইউরোপের দেশগুলোতে রেস্টুরেন্টের গার্ডেনে বসে খাবারে একটু বেশিই ভীড় হয় । সেই জনসমাগম  কমিয়ে রাখতেই এমন ব্যবস্থা।  তবে সময়ে অষ্ট্রিয়ার ” করোনা ফাইট “ নিয়ে বিস্তারিত অবশ্যই লিখবো।   মোদ্দা কথা  হচ্ছে  অষ্ট্রিয়া উপরের বর্ণিত পুকুরের উদাহরণের মতন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। অসুস্থ মৃগেল মাছের মতন করোনা আক্রান্তরা  মোটামুটি টেস্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে এবং সুস্থ হচ্ছে, স্বাভাবিক জীবনে সবার সাথে মিশে যাচ্ছে ।

আমাদের দেশেও সরকার বর্তমানে কিছু কিছু ছাড় দেওয়া শুরু  করেছে । এই কিছু কিছু নিয়েই যত সমস্যা।  সরকার না পারছে পুরো তূলে নিতে , না পারছে ধরে রাখতে । এর মূল কারণ সরকার নিশ্চয়ই জানে বলেই ধারণা করি । সেখানেই সরকারের মূল দূর্বলতা বারবার কার্যক্রমে প্রকাশ পাচ্ছে । সরকার লকডাউন নিয়ে  শুরুতেও যেমন প্ল্যানহীন ছিলো, বর্তমানেও তুলে দিতে প্ল্যানহীন মনে হচ্ছে ।  এর পিছনের কারণটিও ভেরী সিম্পল । ১৮ কোটি জনতার মাঝে কয়জনই বা টেস্ট হয়েছে ?  অর্থাৎ সেই পুকুরের উদাহরণে আসলে বলাই যায়, সরকার জানেই না কতগুলো মৃগেল ( করোনা আক্রান্ত রোগী ) পুকুরে ছিলো । মানে, ধরাও সম্ভব হয়নি, কিছু করাও সম্ভব হচ্ছে না ।

সুতরাং এই আধা আধা কাজে কোনো লাভ তো হবেই না , বরং সরকারের বিপদ আরো ঘনীভূত হচ্ছে  । না পারছে জনমানুষের মন জয় করতে, না পারছে সমাধান  দিতে । তাই বলছিলাম, একে তো  রমজান মাস , সামনে আবার ঈদ পার্বণ । বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে লকডাউন নিয়ে সরকার যা করছে তা সম্পূর্ণ বেঠিক বা ভুল ।  তারচেয়ে ভালো সব বিসমিল্লাহ্ বলে তূলে দিয়ে , জনমানুষদের নিরাপদ থাকার পরামর্শ ফলাও করে প্রচার করুন । পাশাপাশি ইগো থেকে সরে এসে, যতটা সম্ভব দ্রুত গতিতে জেলায়-জেলায়, পাড়া মহল্লায় টেস্টের ব্যবস্থা করুন। হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ান । ধারণা করি জনমানুষের ভিতরে যে ভয়  জন্মেছে, তারা নিজেরাই সতর্ক থাকার চেষ্টা  করবে , অন্তত যারা সচেতন ।  আর যারা সচেতন না, তাদের সেনা দিয়েও  সতর্ক রাখা যাবে না , কেননা আমরা বাস্তবতায় একেবারেই ভিন্ন প্রজাতির বটে । আর সরকারের জন্য বলবো, এই করোনা থেকে শিক্ষা নিন , আগামীর বাংলাদেশের জন্য।  কেননা আপনাদের অতি কথা, অতি বাহাদুরি, অতি ভাব এই করোনায় সব পরিষ্কার হয়ে গেছে । বাস্তবতা কি ? সেটা বেশ ফকফকা  !

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.