স্লোভেনিয়াতে কিছুতেই করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না বরং এখন রাজধানী লুবলিয়ানা ছাড়িয়ে কপার, নোভা গোরিছা, ম্যাটলিকা, পোস্তোয়ানা এমনকি অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী শহর মারিবোরেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ আজ ১৪ই মার্চ স্থানীয় সময় দুইটা পর্যন্ত দেশটির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১৮১ জনের শরীরে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবেলায় ইতোমধ্যে স্লোভেনিয়ার সরকার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ইতালির সাথে সাময়িকভাবে সকল ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছে এবং অন্যান্য সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে স্পেশাল মেডিকেল টিম স্থাপন করেছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী কোনও রাষ্ট্র থেকে স্লোভেনিয়াতে কোনও যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে যার প্রভাবে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। বিশেষ করে গতকাল স্লোভেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার সীমানায় প্রায় আঠারো ঘণ্টার মতো ট্রাকের জট বিরাজমান ছিলো। কারও শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কোনও খবর দেখা গেলে তৎক্ষণাৎ ১১২ কিংবা ০৮০১৪০৪ এ দুইটি নাম্বারের যে কোনও একটি নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। পুরো বিশ্বজুড়ে মহামারী রূপ ধারণ করা এ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশটির মানুষের জীবনে এক চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে, লুবলিয়ানার বাহিরে অন্যান্য শহরগুলোতে বিভিন্ন সুপারশপ যেমনঃ মার্কাটোর, লিডল, হফার এ ধরণের বিভিন্ন চেইনশপগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অনেক সময় পর্যাপ্ত সরবারহ পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের উপচে পড়ার মতো ভীড় দেখা যাচ্ছে। দেশটির পর্যটন খাতেও বিশাল এক ধস নেমে এসেছে, লুবলিয়ানা ক্যাসেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যটন কেন্দ্রকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটা পর্যন্ত লুবলিয়ানাতে সকল মিউজিয়াম আর আর্ট গ্যালারি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাকিব হাসান, শিক্ষার্থী, ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ফিজিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছা, স্লোভেনিয়া।

