ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় বিমান থেকে উদ্ধার করল জার্মান পুলিশ

জার্মান পুলিশ অফিসার দ্বারা  একজন নারীকে জোর পূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা  থেকে উদ্ধার করা   হয়েছে ।বিমানের পথে যাত্রী এক যুবতী তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কায় একটি এরেঞ্জ   বিবাহ করতে যাচ্ছিল। তবে শেষ সেকেন্ডে একজন সতর্ক পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কারণে সেই বলপূর্বক বিবাহকে বানচাল করে দেন। পুলিশ সোমবার জানিয়েছে, একটি অল্প বয়স্ক মহিলাকে অবাঞ্ছিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার ফ্লাইট ছাড়ার কয়েক সেকেন্ড আগে তাকে উদ্ধার করা হয়। জার্মানির ডুসেলডর্ফ বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় মহিলা কর্মচারীদের দ্বারা খবর দেওয়া হয়েছিল যে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক যুবতী তার বাবা-মা এবং ভাইবোনদের সাথে শ্রীলঙ্কা রওয়ানা হবেন। তার পরিবার তাকে শ্রীলংকায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ২১ বছর বয়সী এই জার্মান নাগরিক আগেই যাকে বিমানবন্দরের লাউঞ্জ এ  থাকা অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেকে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মেয়েটির অস্বাভাবিক ভাবমূর্তি দেখে পুলিশের চোখে তাকে সনাক্ত করা খুব একটা বেগ পেতে হয়নাই। তিনি তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের সাথে যথাযথভাবে বিমানে উঠলেন। পুলিশ অফিসার মেয়েটির দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করলেন যে এখানে কিছু একটা অঘটন ঘটতে চলেছে। সেই পুলিশকর্মকর্তা যখন দেখলেন যে সেই যুবতীটি বিমানে চড়তে বেশ ভয় পাচ্ছিলো তখন অফিসার প্লেন ঢুকে পাইলটের সাথে কথা বললেন। তারপরে তারা মহিলাটিকে সনাক্ত করে এবং জিজ্ঞাসা করল যে তার কোনও সাহায্যের দরকার আছে কিনা। তখন “নার্ভাস” যুবতী অফিসার এবং পাইলটকে বলেছিলেন যে তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একজন অচেনা ব্যক্তিকে বিয়ে করার জন্য শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করা এই মহিলা তার নিজের ইচ্ছার বিমান থেকে বের হয়ে আসেন  এবং কর্তৃপক্ষ তাকে একটি নিরাপদ মহিলা আশ্রমে নিয়ে যায়। তার পরিবার তাকে ছাড়াই শ্রীলঙ্কায় যাত্রা করেছে কিনা এ বেপারে পুলিশ কোনো মন্তব্য করে নাই। জার্মানিতে জোরপূর্বক বিবাহ অবৈধ, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যে মহিলাদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুদ্ধস্বর/মাহাবুবুল হক

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.