শ্যামনগর উপজেলায় অবস্থিত ফ্রেন্ডশীপ এনজিওর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আক্তারুজ্জামান শিকদার তার বাসায় মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করার সময় আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় জনতা আটক করে শ্যামনগর থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে। গত কাল ১২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলা সদরে পশু হাসপাতাল সংলগ্ন ডাঃ সামছুর রহমান এর ভাড়া বাসায় আক্তারুজ্জামান পশ্চিম মাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ গাজীর কন্যা ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালের ওয়ার্ড এ্যাসিট্যান্ড সেলিনার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ লোক চক্ষুর অন্তরালে আক্তরুজ্জামান নিজ ক্ষমতাবলে প্রায়ই মেয়েকে নিয়ে নিজ বাসায় এ ধরণের অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আক্তারুজ্জামান শিকাদার আটক হওয়ার পর তারই অর্থে পুষ্ট এক একটি মহল তাকে মুক্ত করতে প্রানান্তর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ২৯০ ধারায় মামলা হয়। স্থানীয় সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সেলিনা নামের ওই মহিলা আক্তারুজ্জামানের নিজ বেড রুমে প্রবেশ করে। সন্ধার পরে স্থানীয় লোকজন একজন নারীকে সিকদারের বাসায় ঢুকতে দেখে সন্দেহ মনে হলে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে তার বাসায় যায়। এসময় স্থানীয়রা দেখতে পান বাসার লাইট বন্ধ এবং বারান্দায় গেট তালা দেওয়া। স্থানীয়রা সিকদারকে ডাক দিলে তিনি লাইট জ্বালিয়ে সকলের সাথে কথা বলেন। স্থানীয়রা উনার বাসার ভিতরে কোন নারী আছে কিনা জানতে চাইলে সিকদার উপস্থিত সকলকে তার অফিসে তিনি ছাড়া অন্য কোন মানুষ নেই বলে জানিয়ে দেয়। স্থানীয়রা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে অফিসের ভিতরে কোন নারী আছে কিনা দেখার কথা বলার পর সিকদার পরবর্তীতে সত্যতা স্বীকার করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা শ্যামনগর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আক্তারুজ্জামান সিকদার ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি নিয়ে আক্তারুজ্জামান শিকদার সাংবাদিকদের বলেন-“ওই মহিলা প্রয়োজনীয় কাজে আমার বাসায় আসার পর স্থানীয়রা তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- “আটককৃতদের ২৯০ ধারা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।” স্থানীয় ও ভূক্তভোগীদের অভিযোগ বিগত দিনেও তিনি অাঞ্চলিক সমন্বয়কারী হিসেবে দ্বায়িত্ব থাকাকালিন সময়ে হাসপাতালে নিয়োগে টাকা আত্মস্বাৎ করেছেন। কোন নারী কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার আগে কুপ্রস্তাব দিতেন। তার কথায় রাজী না হলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে যোগ্য মেয়েদের চাকরী থেকে বঞ্চিত করতেন। প্রভাষক মোশারফ হোসেন জানান সুরাইয়া নামীয় এক নারীকেও তিনি চাকরী দেওয়ার নাম করে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের ভূমিদাতারাও বিভিন্ন সময়ে সিকদারের হয়রানীর স্বীকার হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানায়। তবে বিষয়টি ঢাকা হেড আফিস এইচ আর প্রধান এর আগে জানার পরও নিরবতা পালন করে।।।
শুদ্ধস্বর / বিটি

