শিলিগুড়ির ইচ্ছেবাড়িতে কলকাতা ছায়ানট আয়োজিত নজরুল সন্ধ্যা ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’

গত ১৮ই আগস্ট শিলিগুড়ির সুভাষপল্লীর ‘ইচ্ছেবাড়িতে’ ছায়ানট (কলকাতা) এবং অর্চক যৌথভাবে আয়োজন করেছিল নজরুল সন্ধ্যার – ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’।বিশেষ সহযোগিতায় বাঁশরী (বাংলাদেশ)। চমৎকার এক সাংস্কৃতিক অঙ্গন ‘ইচ্ছেবাড়ি’। পত্র-পুষ্প-পল্লবে আবৃত বুটিক ও দেশজ আয়োজনের মাঝে রয়েছে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির আবহ। শিলিগুড়ির কালচারাল আইকন ‘ইচ্ছেবাড়ি’তে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটি আলোকময় করে তোলে কলকাতার ছায়ানট,অর্চক এবং বাঁশরী-এর শিল্পীরা। কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতায় সমৃদ্ধ মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উত্তরের শহর শিলিগুড়ির দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতাপাঠে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সোমঋতা মল্লিক, অর্ণব মুখার্জী, সুরূপা মল্লিক, ইন্দ্রানী লাহিড়ী, অনির্বাণ দাশগুপ্ত, দেবযানী মজুমদার,পরদেশী সিদ্দিক (বাংলাদেশ), কল্লোল দে, অপরাজিতা চন্দ। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন তবলায় রানা সরকার, পারকাশনে সমর কুমার মল্লিক, গীটারে শুভ্রদীপ মুখার্জি, কীবোর্ডে অনির্বাণ দাস। অনুষ্ঠান শুরু হয় কাজী নজরুল ইসলামের গান ‘সৃজন ছন্দে’ – এই গানটিতে নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে,অংশগ্রহণে মেঘা মজুমদার। কিশোরদের জন্য লেখা কাজী নজরুল ইসলামের ২টি কবিতা আবৃত্তি করেন ইন্দ্রানী লাহিড়ী, তার মধ্যে ‘তাল গাছ’ ও ‘বর প্রার্থণা’ খুবই চমৎকার উপস্থাপনা। অর্ণব মুখার্জীর কন্ঠে ‘সাম্যবাদী’ দর্শকদের বিশেষ ভালো লাগে।অনির্বাণ দাশগুপ্ত ২টি নজরুলগীতি পরিবেশন করেন, একটি শ্যামা সংগীত ‘আমার হাতে কালি মুখে কালী’ ও অন্যটি ‘গোঠে রাখাল বলে দে রে ‘, দেবযানী মজুমদারের কন্ঠে শোনা যায় ‘পরদেশী প্রিয়তম, সেদিন ছিল কি গোধূলি লগন’, পরদেশী সিদ্দিক (বাংলাদেশ) – এর কন্ঠে শোনা যায় কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামিক গান এবং ভাটিয়ালী গান। কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন আঙ্গিকের গান পরিবেশন করেন সোমঋতা মল্লিক, তার মধ্যে লেটো গান, গজল,ঠুংরী ভাঙা গান,কীর্তন সহ আরো অনেক আঙ্গিক পরিবেশিত হয়।অনুষ্ঠান শেষ হয় ‘যেদিন লব বিদায়’ গানটির মধ্য দিয়ে। নৃত্য পরিবেশন করে অর্চক এর শিল্পীরা – অনসূয়া, শ্রাবন্তী,পাঞ্চালী, তন্বী,অদ্রিজা,অরুনিমা, সম্প্রীতি, সৌমি,অঞ্জলি, সৃজনী, পরিচালনায় অদিতি দাস ঘোষ। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জুঁই ভট্টাচার্য্য। সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সোমঋতা মল্লিক। ইচ্ছেবাড়ির অভয়া বসুর আন্তরিকতায় ও আতিথেয়তায় সমগ্র অনুষ্ঠানটি সকলের কাছেই উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
শুদ্ধস্বর/এইচ বি

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.