মা গো, তোমার মৃত্তিকার বুকে কতো রক্তের বন্যার স্রোত বয়ে যাবে।
তুমি কী কেবলেই চুপ করে চেয়ে চেয়ে দেখবে?
একাত্তরে তোমার বুকে লাখ লাখ তরতাজা প্রাণ শহীদ।
লাখ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে তুমি স্বাধীন।
বায়ান্ন তে তোমার বুকে রক্ত ঢেলে আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি স্বাছন্দ্যে।
তোমার স্বাধীন বুকে আজও পিচাশরা ঘটায়,
খুন ধর্ষণ রাহাজানি ইভটিজিং।
মা গো আমরা কী আজও স্বাধীন হতে পেরেছি?
প্রতিদিনই খবরের কাগজ খুললেই,
চোখে পরে হত্যা ধর্ষণ নানা অপকর্মে জড়িত কাহিনি!
রোধ করতে পারি না মা চোখের পানি।
এক নববধু হারিয়েছে সদ্য বিবাহিত স্বামীকে,
মা বাবা হারিয়েছে তাঁর একমাত্র চোখের মণিকে।
শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে পারেনি স্বামীকে বাঁচাতে,
কী মর্মান্তিক ঘটনা সামনে ঘটেছে বর্ণনাতীত!
পারবে কী মেয়েটি ভুলে থাকতে বেদনাবহ দৃশ্য।
চোখের সামনে স্বামীর করুণ মৃত্যু!
আমৃত্যু পর্যন্ত মেয়েটিকে দুঃস্বপ্ন তাড়িত করবে,
সদ্য মেহেদী রাঙা হাতে স্বামীর রক্তে রঞ্জিত!
মেয়েটির চিৎকারে কেউ আসেনি এগিয়ে,
আমরা কেমন দেশে বাস করি মা গো ;
ভাবতে কষ্ট হয়।
একাই যুদ্ধে লড়াই করলো পেলনা সাহায্য,
ধিক্! মোদের মনুষ্যত্ব
বোধ।
শত মানুষের সন্মুখে নৃশংস হত্যাকাণ্ড!
মা গো তোমার মাটিতে আমরা কী নিরাপদ?
জবাব চাই মা গো কাল আমার জীবনে ও ঘটতে পারে করুণ আর্তনাদ।

লায়লা আহমেদ সেলিনা

