কেন সারাক্ষণ লেখালেখি নিয়ে
অযথা ব্যস্ত থাক খোকা?
ওসব ফালতু কথা সকলের জানা আছে,
ভেবো না তোমার চারপাশে যারা ঘুরঘুর করে দিনরাত
তারা সব হাড়হদ্দ বোকা,
সব কথা আদ্যোপান্ত সকলের জানা।
জানো না কী এর নাম মিডিয়াজগৎ
সত্য-মিথ্যা বানাবার সবচেয়ে বড় কারখানা?
এখানে সবাই চালাক চতুর মা’শাআল্লা
চলছে সময় বুঝে দাড়ি ও টুপির মহাভন্ডামি
প্রতারক ধরেছে সাধুর বেশ
চাপিয়েছে শরীরে বিশাল আলখাল্লা।
নিজেরটা সবাই বোঝে ষোল আনা,
গালে-ঘাড়ে চকচক করে চেকনাই।
দলাইমলাই করা রেসের ঘোড়ার মত
মসৃণ পুষ্ট প্রত্যেকের সুখি দেহখানা;
খেয়ে পরে আছে বেশ তাজা তন্দুরস্ত।
চেহারায় সেঁটে রাখে গোবেচারা ভাব,
কর্মক্ষেত্রে একে অন্যের চেয়ে দ্বিগুণ সেয়ানা।
কুমিল্লার ঘুড়ির মতো উড়ছে তো উড়ছে
আকাশ ছিদ্র করে ঢুকে যাচ্ছে গভীর আকাশে,
লাটাই বিরামহীন কলের চাকার মতো ঘুরছে।
সড়কে ট্রাফিক নাই
জেব্রাক্রসিং নাই
গাড়ির ফিটনেস নাই
ড্রাইভারের লাইসেন্স নাই
মামলা মোকদ্দমা
জরিমানার টাকা জমা
পাঁচ আইন মোবাইল কোর্ট হাজত চালান
কোন কিছু নাই,
ঝাঁকের কৈ মাছ হবে সে সুযোগটাই
লুট করে নিয়ে গেছে বাদুড় ও চামচিকের দল।
তুমি শালা ফুটপাতে বসে
গাঁজার কল্কিতে টান দিতে থাক কষে,
আর শৈশবের ভুলে যাওয়া হিন্দি গানগুলো
আবোল তাবোল সুরে গেয়ে যাও
বেসুরো গলায়,
শুনে নেড়ি কুকুরের দিবানিদ্রা ভেঙে যায়।
হে বন্ধু তুমি কি আদৌ টের পাও
তোমার চুলের জটে ক্রমাগত জমতে রয়
জীবনের নানান স্তরের সব ধুলা,
তোমার নাকে ও কানে ঠেঁসে দেয়া আছে
আতরে চুবানো সাদা সুগন্ধি তুলা।
তুমি কি নিজের কথা লিখবে বলে কলম ধরেছ?
তোমার নিজের কথা শুধু?
আঠাই নদির খাড়া পাড়, চিথলিয়া বিল
চন্দনা, ধনিকুন্ডা, বরইয়া পাথার
বাঁশপদুয়ার সেই বন বাবার মাজারের কথা
যেখানে ভাদ্রের ভরা পূর্ণিমায়
বাঘ ও মানুষেরা একপাথে তবারুক খায়!
তারপর বাঘেরা বনের দিকে
মানুষেরা লোকালয়ে ফিরে চলে যায়।
খোকা, ওরে খোকা
তুমি তো এ জীবনে করেছ অনেক লেখাজোকা
পড়ে পড়ে পুস্তকের টিলা বানিয়েছ,
যখন যে কথা বলতে চাও
তার পক্ষে সুতীব্র যুক্তি শানিয়েছ
নিজে আবিস্কার করেছিলে অজস্র নতুন কথাও।
এতো যে লড়াই করলে নিজের ছায়ার সাথে
ছুটলে এতো যে দীর্ঘপথ ভাদ্রের অমাবস্যা রাতে
প্রেমে ও বিরহে, সম্প্রীতি সংঘাতে,
খোদার কসম কেটে বুকে হাত দিয়ে বলো
দিন শেষে লাভক্ষতি কিছুই কি হলো?
শামসুদ্দিন পেয়ারা

