হঠাৎ দেখা পথের মাঝে

শনিবারের সন্ধ্যায় আমার শহর থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার দুরে ফ্রাংকফুর্টের দক্ষিন-রেল স্টেসানে ট্রামে করে যাচ্ছি। মামুনের সাথে দেখা করতে। ও বিকেলে ওখানে একটা পত্র-পত্রিকার দোকানে পার্ট টাইম কাজ করে । সাড়ে সাতটায় কাজ শেষ। কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে নানান রকম পত্রপত্রিকা পড়তে পারে। এতে ও খুব খুশী।  আমাদের শহরে একটাই ট্রাম লাইন। শুধু তাই নয়, এখানেই ট্রামের শেষ স্টপ। যাত্রী নামিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ও আবার যে পথে এসেছিল সে পথেই ফিরে যায়। কাজের দিনে, রবিবার ছাড়া প্রতি কুড়ি মিনিটে একটি করে ট্রাম আসে। আজ শনিবার তাই স্টপে তরুন তরুনীদের বেশ ভীড়। ফ্রাংকফুর্ট ও আশেপাশের নানা শহরে সবাই ডিস্কোতে নাচতে যাচ্ছে। এদের দেখে প্রায় অর্ধশত বছর আগের হারানো যৌবনের কথা মনে হয়।  প্রতি সন্ধ্যায় সুর্য ডোবার আগে বাড়ী ফেরার কড়া নির্দেশের ঝুঁকি নিয়েও মফ:স্বল শহরের সিনেমা হলের সামনে দাঁড়িয়ে, ইভনিং শো শুরু হবার আগে বাইরে মাইকে বাংলা গান শুনছি। এটাই ছিল আমাদর ঐ সব দিনের একমাত্র বিনোদন। একাধবার মাসে ম্যাটিনি শো ছবি দেখা ছিল মহা উৎসব। এটার জন্য যে কাঠখড় পোড়াতে হত, তা বিস্তারিত লিখলে চার/পাঁচ পাতাতেও কুলোবে না। এই সব দেশে কোন বাড়ীতেই ’সুর্যাস্ত আইন’ নেই। বয়স্ক ছেলেমেয়েরা নিজেদের দায়িত্বেই দিনের শেষে বাড়ী ফেরে। আমাদের মত কয়েকমিনিট দেরী করে রাতের আঁধারে বাড়ী ফেরার পর চ্যালা কাঠের  পিটুনিতে পিঠ জর্জরিত হবার কাহিনী এদের কাছে মধ্যযুগীয় রূপকথা! অনেককে বলে দেখেছি, বিশ্বাস করে না! একজন বলেছিল তোমার বাবা এত বর্বর ছিলেন, পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করোনি কেন? কোন উত্তর দিতে পারিনি।
ট্রাম এল। যাত্রীরা সবাই নামার পর, দলে দলে সবাই যখন উঠছে আমি ও আমার মত কয়েকজন বয়স্ক অপেক্ষা করছি। যৌবন জলতরঙ্গ শেষ হবার পর বগীতে উঠে দেখি একটা আসনই খালি। দুজন বসতে পারে। জানালার দিকে বসলাম আমি। আমি জানি আমার পাশে কেউ বসবে না। জার্মানিদের অশ্বেতাঙ্গ প্রীতি বেশীর ভাগই বাইরে বাইরে। আইন শৃংখলার লোকেরা সাদা কালোর পার্থক্য করে না। বইপুস্তক, পত্রপত্রিকায় সমস্ত মিডিয়ায় সব সময় ’গাহি সাম্যের গান’। চাকরী পড়াশুনা সব জায়গায় সব বর্ণের অবাধ যাতায়াত। কিন্ত অন্তরে অন্তরে এরা নিজেদের রংএর বাইরে কোন অপরিচিতের সাথে পারতপক্ষে নৈকট্যে আসে সা। তেত্রিশ বছরে ট্রামে বাসে রেলে এ অভিজ্ঞতাটি অসংখ্যবার হয়েছে। প্রথম দুযেক বছর রাগ হতো। এখন ভাবি মন্দ কি। দুজনের সিটে একা শরীর এলিয়ে বসা যায়। তবে উঠেই আসনটি  পুরো দখল করতে নেই। পাশের জায়গাটি গাড়ী না ছাড়া পর্যন্ত খালি রাখতে হয়। যাতে যে কেউ বসতে পারে। অনেক সময় বাদামী-কালো কেউ এসে আনন্দটি মাটি করে দেন। ওদের তো আমাকে নিয়ে কোন দ্বিধা নেই।
এখানে ট্রাম ট্রেনে এক বগী থেকে আরেকটাতে যাওয়া যায়। মাঝখানের জোড়ে প্রশস্ত দরজা আছে। এতে খালি জায়গা খোঁজার সুবিধা। একটাতে না পেলে হেটে পরেরটাতে এসে ভাগ্য পরীক্ষা করা যায়। এরকমই  একজন স্থান-অন্বেষক মহিলা পেছন থেকে এসে আমার পাশে ধপ করে বসে পড়লেন। হাঁপাচ্ছেন। মনে হয় ট্রাম ছাড়ার আগের মুহূর্তে কোনমতে দৌড়ে এসে পাশের বগীতে ঢুকে জায়গা না পেয়ে আমাদেরটাতে এসেছেন। আমি জানি এখন কি হবে! মহিলা পঞ্চাশোর্ধ। সুশ্রী। মাথায় পাতলা সাদা চুল। এদের ভাষায় ব্লন্ড।
আমার দিকে তাকিয়ে সাপ দেখার মত শশব্যস্তে উঠে গেলেন। আরেকদিকের সিটে বসা এক তরুনী তার এই দ্রুত উঠার ভংগিটি দেখে হো হো করে হেসে উঠল। মনে হল ঘটনায় হাসছে না। আমার গায়ের রঙকে ব্যংগ করছে। আমি সাধারনত উত্তেজিত হই না। অনেক সময় অনেক উস্কানি এড়িয়ে যাই। ভাবি দেশটা তো ওদের! কিন্ত আজ এই তরুনীর হাসিতে মনে হল পিঠে বাবার চ্যালাকাঠের আঘাত। মহিলা উঠে কয়েক পা এগিয়ে ছাদের রড ধরে দাঁড়ালেন। আমি বলরাম,  ’ওপয ংঃরহশব হরপযঃ. ডবহহ ঝরব ড়িষষবহ, ৎঁযরম নবর সরৎ ংরঃুবহ.’  ’আমার গায়ে কোন গন্ধ নেই। ইচ্ছা করলে আমার পাশে স্বচ্ছন্দে বসতে পারেন।’ ইলেক্ট্রিক ট্রাম। ভেতরে তেমন শব্দ নেই। আমি ইচ্ছে করেই একটু জোরে বলেছি। হাস্যময়ী তরুনী হাসি বন্ধ করে মুখটি শক্ত করে অন্যদিকে তাকালো। গাড়ীর আর সবাই আমার ও মহিলার দিকে তাকিয়ে দেখছে। কি ভেবে মহিলাটি এসে বললেন, ঊহঃংপযঁষফরহমবহ ঝরব. ওপয ড়িষষঃব ঝরব হরপযঃ ংঃস্খৎবহ!’ ক্ষমা করবেন, পাশে বসে  আপনাকে আমি রিবক্ত করতে চাই নি। বলেই পাশের খালি জায়গায়  বিনা সংকোচে বেশ গা ঘেঁসেই বসলেন। আমি বললাম, একজন সুন্দরী নারী পাশে বসলে রিবক্ত হব, সেরকম গবেট পুরুষ আমি নই। এ কথায় মহিলা হেসে দিলেন। আশে পাশে সবারই মুখে কৌতুকের হাসি। এক মুহূর্তে অবহাওয়া পাল্টে গেল। আমার প্রথম বাক্যের পর, সবাই নীরব হয়ে গিয়েছিল। এবারে কথাবার্তা শুরু হল সবার। এরা এসব ব্যাপারে মোটেও কৌতুহুলি জাতী নয়। মহিলা আমার পাশে বসেছেন। সবাই খুশী। আমাদের দিকে আর কেউ তাকিয়ে নেই।
আমি ডোরিস। ডোরিস বোরিংগার। একটু আশ্চর্য হলাম। এখানে প্রথম পরিচয়ে সাধারনত কেউ তার ডাক নাম বলে না। বলে পারিবারিক নামটি। উনি প্রথমেই তার ছোট নাম ডোরিস ও পরে পারিবারের নাম নিলেন। এর অর্থ একটাই। উনি সত্যিই আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি আবদুল্লাহ, এবং থেমে আল-হারুন বলে তার বাড়ানো হাতটি নিয়ে করমর্দন করলাম। আমিও তার মত আমার ডাক ও পারিবারিকনাম (যা এদেশে এসে স্থির করেছি) বললাম। জার্মান সামাজিক নিয়মে আমরা এখন পরস্পরের পরিচিত হয়ে গেলাম।
তারপরই সেই সনাতন প্রশ্ন, আপনি কোথা থেকে এসেছেন?
আসছি তো এই শহর থেকে। উনি বললেন, না না আপনার দেশটি কোথায়?
পাসপোর্টের দেশ না জন্মভুমি কোনটা শুনতে চান?
দুটোই।
পাসপোর্টে আমি ও আপনি স্বদেশী কিন্ত আমার জন্মভুমি বাংলাদেশ।
অনেক দুরে।
তবে চাঁদের চেয়ে কাছে। প্রশ্ন করলেন তার মানে?
আমি বললাম, চাঁদে তো ইচ্ছা করলেই যাওয়া যায় না। আমার দেশে আমি চাইলেই, মানে প্লেনের টিকেট কিনতে পারলেই যেতে পারি।
আপনি বেশ মজা করে কথা বলেন তো।
আপনার ভালো লাগছে শুনতে?
অবশ্যই।
কিন্ত আমি অন্তত দশটি চাকরী এরকম কথাবার্তা বলেই হারিয়েছি।
সবারই তো রসবোধ এক নয়। আমি আপনাকে কখনও চাকরী থেকে নোটিশ দিতাম না।
আছে নাকি আপনার কাছে কোন চাকরী? আমি ২০০৭ থেকে বেকার। পেনশনের আরেক বছর বাকি আছে। শেষ বছরটা চাকরী করতে পারলে মন্দ হত না। উনি হেসে বললেন আমি ফ্রাংকফুর্টে একটা বানিজ্যিক অফিসে কাজ কর্।ি আপনি আসুন ওখানে। আমি বসকে বলব, আপনার জন্য কোন কাজ আছে কিনা। এই এক বিপদ জার্মানদের নিয়ে। সব কথাই সিরীয়াসলি নেয়। আমি বললাম, ধন্যবাদ। কিন্ত ফ্রাংকফুর্ট বহুদুরে। কাজ করলে আশেপাশেই খুঁজে নেব।
সেকি গাড়ীতে তো আধঘন্টার রাস্তাও না! আমি বললাম আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিন্ত গাড়ী সেই ২০০২ থেকে নেই। শুনে একটু দমে গেলেন। প্রসঙ্গ বদলে বললেন, কতদিন ধরে জার্মানিতে আছেন? বছরের সংখ্যা শুনে বেশ বিস্মিতই হলেন। বললেন বুঝলাম আপনি কেন এত সুন্দর জার্মান বলেন। আমি বললাম, আপনাদের ভাষার প্রেমে পড়ে কিন্ত আমি জার্মান শিখিনি।
ব্যাখ্যা করুন দয়া করে। আমি বললাম, সাঁতার শেখানোর সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কি জানেন? উনি মাথা দোলাতে আমি বললাম, যে জানে না তাকে নিয়ে পানিতে ফেলে দিন কয়েকবার। প্রাণ বাঁচানোর জন্য কদিনেই সাঁতার শিখে যাবে। তবে এ বিধি শুধু বয়স্কদের জন্য। শিশুদের জন্য নয়। আমিও বত্রিশ বছর বয়সে জার্মানে এসে কথা না বলার না বোঝার সাগরেই পড়ে হিয়েছিলাম। জান বাঁচানোর তাগিদেই শিখতে হয়েছে।
তারপর বললাম, আমার কথা তো অেেনক শুনলেন। এবার আপনার কথা বলুন।
আমার চাকরী বাড়ী সবই ফ্রাংকফুর্টে। আপনাদের শহরে আমার এক বুড়ো কাকি থাকেন ওল্ডহোমে। তাকে দেখতে এসেছিলাম। আমি বললাম আপনার বাড়ীতে কি নো ভেেেকন্সির প্লাকার্ড টানানো?
বুঝলাম না, কি বলতে চাইছেন?
আপনি কি একা না সঙ্গী সাথী, মানে পরিবার—-
ও, তো এত ঘুরিয়ে বলছেন কেন? আমি বছর তিনেক হল একা। স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয়ে গেছে।
ছেলে মেয়ে? বললেন, ওহ গড, সে ঝামেলা নেই। আপনার কি অবস্থা? আমার মতই কৌতুক করে জিজ্ঞেস করলেন।
আপনার কার্বন কপিই বলতে পারেন। তবে ডিভোর্সের ঝামেলা হয় নি। আমরা বিয়েই করিনি। সাত বছর আগে ছাড়াছড়ি হয়ে গেছে।
ও বাব্বা, সাত বছর ধরে একা থাকেন?
আপনিও আর চার বছর পরেই এসময়ে এসে যাবেন। দেখবেন সময় ঠিকই বয়ে চলে। আপনি সিঙ্গল না জোড়া এটা নিয়ে সময়ের কোন মাথাব্যাথাই নেই।
আপনি ভেকেন্সির কথা জিজ্ঞেস করলেন কেন ? এপ্লাই করার ইচ্ছে আছে? আমি বললাম, পেশায় আমি জন্ম বেকার। নিজের দেশেও, এ দেশেও। তবে এখন সাবধান হয়ে গেছি। যখন তখন আর আবেদন করি না। সে বয়সও নেই। এ কথায় কেন জানি ডোরিসের হাসি হাসি মুখটি একটু থমথমে হয়ে গেল। কি জবাব আশা করেছিল ও?
একা থাকতে আপনার মনে হয় ভালোই লাগে। বললাম, একা থাকার কিছু কষ্ট তো আছেই। তবে বেশ কিছু সুবিধাও আছে। কি সুবিধা, তার প্রশ্ন। আমি বললাম বাথরুমে গেলে দরজা বন্ধ করতে হয় না। রাত বিরেতে উঠে চা বানিয়ে খাওয়া যায়, গান শোনা যায়, বই পড়া যায়। কেউ বলেনা, আ: আবার বাতি জ্বালালে, আমার ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছে! ডেিিরস হেসে বলল, তাই তো এসব ভেবে দেখিনি। আসলেই তো একা থাকার অনেক সুযোগ সুবিধা!
বুঝুন তাহলে, কিভাবে সাত বছর কাটিয়ে দিলাম! তবে আপনার বয়স তো আমার চেয়ে অনেক কম মনে হয়। বলছিলেন পেনশনের এখনও ১০/১২ বছর দেরী আছে। তাহলে আরেকটি চান্স নিতে পারেন। এটা ঠিকমত না লাগলে, আমৃত্যু একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন। হঠাৎ কোন ভাবনাচিন্তা না করেই ডোরিস বললেন, আসুন না চান্সটা দুজনে মিলেই নেই! বলে কি? এতটা ঠাট্টা রসিকতা করা ঠিক হয় নি। আমি বললাম, আপনাকে তো বলেছি এক বছর পরেই আমার পেনশন।
আমি বয়স্ক লোকদের খুব পছন্দ করি। তারা বিশ্বস্ত হয়। আমার বাবা চিলেন আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু।
উনি বেঁচে আছেন? বললেন, না গত বছর মারা গেছেন। বয়স হয়েছিল ৭২। ক্যান্সারে মারা গেছেন। বেশীদিন ভুগতে হয়নি। রোগটি ধরা পড়ার তিনমাসের মাথায়ই চলে গেরেন। টমাসের সাথে ঘর ভাংগার পর যতটা না দু:খ পেয়েছিলাম, বাবার মৃত্যুতে আমি তার চেয়ে আনেক বেশী কষ্ট পেয়েছি। সব সময় মিস করি। ওর মৃত্যুর পর আমি সত্যিই একা হয়ে গেছি।
আমি প্রানপনে চাইছি গন্তব্য এসে যাক। কথাবার্তার মোড় ভালো নিচ্ছে না।
অনেক সময় আমার আকাংখা পূর্ণ হয়! দক্ষিন ষ্টেসানের ষ্টপ এসে গেল। ডোরিস এখানে থেকে অন্য গাড়ীতে ফ্রাংকফুর্ট যাবে। নেমে ও টিকেটের আরেক পাতায় ওর টেলিফোন নম্বর লিখে আমাকে দিল। বলল, ইচ্ছে হলে টেলিফোন করো আমাকে । এবার তুমি করেই বলল। আমি বললাম, আমার নম্বর নেবে না? তুমি যদি টেলিফোন করো, তোমার নম্বর এমনিতেই পেয়ে যাবো। সম্পর্কের দড়িটি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে একটু বিরস মুখে আবার দেখা হবে বলে আমার হাতে সামান্য স্পর্স করে কোনদিকে না তাকিয়ে হন হন করে স্টেসানের দিকে চলে গেল।
আমি কিছুক্ষন বিমুঢ় হয়ে দাড়িয়ে থাকলাম। টেলিফোন নম্বর লেখা কাগজটি একটু দেখেই কয়েক টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে ডাষ্টবিনে ফেলে দিলাম। নিজের উপর ভীষন রাগ হল। কেন বেচারীকে এত কিছু বললাম?
মনে অনুতাপ আর হৃদয়ে ব্যাথা নিয়ে মামুনের দোকানের দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলাম।
প্রাক্তন প্রেমের স্মৃুতির বোঝা এখনও ঘাড় থেকে নামাতে পারিনি। ন্যাড়া তো আর দুবার বেলতলায় যায় না।

আবদুল্লাহ আল-হারুন , লেখক এবং কথাসাহিত্যিক
জার্মানি ২০০৭

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.