নেপাল-চীন সীমান্তের ল্যাংটাং অঞ্চলের কাছে এক বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে বরফ, পাথর আর কাদার বিধ্বংসী স্রোত। ঘটনার মূল উৎস নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে হলেও সীমান্তের পাহাড়ি নদী—বিশেষ করে লেন্দে খোলা এবং এর সাথে যুক্ত ভৌটকোশি ও ত্রিশূলী নদীর মাধ্যমেই এই দুর্যোগ ছড়িয়ে পড়ে। ভৌগোলিকভাবে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তজুড়ে প্রবাহিত এই নদীগুলো কোনও রাজনৈতিক সীমানা মানে না। সীমান্তের গিরং বন্দর এলাকা ঠিক যেখানে এই নদীগুলোর মোহনা সংলগ্ন, সেখানেই ছিল বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
হিমবাহ ধসের পর যখন কয়েক লক্ষ টন বরফ ও পাথর নিচে আছড়ে পড়ে, তখন ঘর্ষণের তাপে এবং গতিবেগে বিপুল পরিমাণ জল উৎপন্ন হয়। সেই প্রচণ্ড জলের তোড় নদীখাত উপচে কয়েক মিনিটের মধ্যে দুই দেশের মধ্যবর্তী সংবেদনশীল গিরিখাত ধরে নিচে ধেয়ে যায়। লেন্দে খোলা ও ভৌটকোশির জলস্তর মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় নয় মিটার পর্যন্ত বেড়ে গিয়ে সীমান্ত চৌকি, রাস্তাঘাট ও সেতু ধুলিসাৎ করে তিব্বতের গিরং অঞ্চল পর্যন্ত প্লাবিত করে দেয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের হিমবাহগুলো যেভাবে দ্রুত গলছে ও ভারসাম্য হারাচ্ছে, তাতে পাহাড়ি নদীগুলো দিনে দিনে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। ভৌগোলিক সান্নিধ্য এবং যৌথ নদীপ্রবাহের কারণেই নেপালের উৎসস্থল থেকে শুরু হওয়া দুর্যোগ মুহূর্তেই আঘাত হেনেছে তিব্বতের মাটিতেও। প্রকৃতির এই সীমানাহীন রুদ্ররূপ আবারও প্রমাণ করে দিল, হিমালয়ের বুক চিরে বয়ে চলা নদীগুলো কেবল পানির উৎস নয়, সতর্ক না থাকলে তা উভয় দেশের জন্যই সমান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সুত্র : আজকাল

