প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার জাহাজে করে চালের চালানটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ২২ জুলাই নমুনা পরীক্ষায় চালকে মানবদেহের জন্য নিরাপদ ও খাদ্যোপযোগী হিসেবে সনদ দেওয়া হয়। এরপর ২৩ ও ২৪ জুলাই প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করে তেজগাঁও, হালিশহর, দেওয়ানহাট এবং জয়দেবপুরের সংরক্ষণাগারে পাঠানো হয়।
তবে ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের কর্মকর্তারা চালের মান নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাদের দাবি, চালের গুণগত মান সন্তোষজনক নয় এবং এটি বিতরণের উপযোগী নয়। বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়।
এ ঘটনার পর বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, অবশিষ্ট চালানটি ভারতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে বলে ভারতের কিছু ব্যবসায়ী মনে করছেন। যদিও এ বিষয়ে তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাদের একজনের দাবি, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে চাল আমদানি করছে, তাই হঠাৎ এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আরেক ব্যবসায়ীর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের খাদ্য আমদানির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অন্য একজন ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, বিষয়টির সঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও জড়িত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে চাল আমদানির চুক্তি হয়। সেই চুক্তির আওতায় এই চালানটি বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল।

