বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দীর্ঘ পথচলার এক পরিচিত নাম মাহমুদুর রহমান মান্না। ডাকসুর সাবেক ভিপি, কিংবদন্তি ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের জনপরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সম্প্রতি দেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় দৈনিক সমকাল-এর উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের সংবাদ নিঃসন্দেহে সাংবাদিকতা অঙ্গনের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
আজ তাঁর সঙ্গে এক আন্তরিক আলাপচারিতায় তিনি নিজেই আমাকে এই সুখবরটি জানান। সংবাদটি শুনে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীর আনন্দ অনুভব করেছি। তাঁর এই নতুন দায়িত্বের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, সততা এবং লেখনীশক্তি সমকাল-এর সম্পাদকীয় নীতিমালা ও চিন্তার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
মাহমুদুর রহমান মান্নার লেখালেখির অভিজ্ঞতা প্রায় ছয় দশকের। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি লেখার জগতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। রাজনৈতিক আন্দোলন, সমাজ-রাষ্ট্রের নানা সংকট, গণতন্ত্র, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণধর্মী লেখাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাঠকমহলে সমাদৃত। তিনি কখনোই কেবল একজন রাজনীতিক নন; বরং একজন চিন্তাশীল লেখক, সমাজ পর্যবেক্ষক এবং সময়ের নির্মোহ বিশ্লেষক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
একজন সম্পাদক বা উপদেষ্টা সম্পাদকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, অভিজ্ঞতা এবং সত্যের প্রতি অঙ্গীকার। এই তিনটি গুণই মাহমুদুর রহমান মান্নার ব্যক্তিত্বে সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। তিনি বিভিন্ন সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অধিকার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তাই তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির সমকাল-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের সাংবাদিকতার জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দ্রুত তথ্যপ্রবাহের যুগে সত্য, নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ এবং নীতিনিষ্ঠ মানুষের সম্পৃক্ততা গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। আমি আশা করি, মাহমুদুর রহমান মান্না তাঁর অভিজ্ঞতার আলোয় সমকাল-কে নতুন চিন্তা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং আরও গভীর বিশ্লেষণধর্মী সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
দেশের ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতি, সামাজিক আন্দোলন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ পথচলা তাঁকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন আমরা তাঁর লেখায় বারবার দেখতে পাই। তাঁর ভাষা যেমন প্রাঞ্জল, তেমনি যুক্তিনির্ভর; তাঁর বিশ্লেষণ যেমন বাস্তবসম্মত, তেমনি ভবিষ্যৎ ভাবনারও দিকনির্দেশনা দেয়। এমন একজন মানুষের সম্পাদনা-পরামর্শ একটি জাতীয় দৈনিকের জন্য নিঃসন্দেহে মূল্যবান সম্পদ।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা আজ এমন মানুষদেরই বেশি প্রয়োজন, যারা কেবল সংবাদ প্রকাশে নয়, বরং সমাজকে চিন্তার খোরাক জোগাতে সক্ষম। মাহমুদুর রহমান মান্না সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে কলমের মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানুষের কথা বলেছেন। তাঁর নতুন দায়িত্ব সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত করবে বলেই আমার বিশ্বাস।
আবারও মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সফল কর্মজীবন কামনা করি। আশা করি, সমকাল-এর উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে তিনি তাঁর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করবেন এবং আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। দেশের গণমাধ্যমের বিকাশ, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা এবং জাতীয় স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে তাঁর এই নতুন অধ্যায় সফল ও ফলপ্রসূ হোক—এই প্রত্যাশাই রইল।
লেখক: হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

