মুক্তি পেয়েই ৫ দাবি জানাল রাহুল গান্ধি

ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে তুঙ্গে উঠেছে কেন্দ্রীয় রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে আটকের পর নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
গতকাল মঙ্গলবার দিনভর অভূতপূর্ব রাজনৈতিক নাটক ও ধরপাকড়ের পর সন্ধ্যায় মুক্তি পেয়ে এই দাবিগুলোর কথা জানান কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।
দাবিগুলো হল: ১. নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ; ২. আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার; ৩. সোমবারের পুলিশি হামলার ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা; ৪. চলমান সংসদ অধিবেশনে নিট কেলেঙ্কারি ও শিক্ষা সংকট নিয়ে অবিলম্বে আলোচনার সুযোগ দেওয়া; ৫. দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে দ্রুত মৌলিক সংস্কার আনয়ন।
ভিডিও বার্তায় শিক্ষা ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে কেন? কেন বারবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? কোনো সাধারণ পরিবারকে কেন সন্তানের শিক্ষার খরচ চালাতে গিয়ে আর্থিক নিঃস্ব হতে হবে? এগুলো বৈধ প্রশ্ন, আর প্রশ্ন তোলা কোনো অপরাধ নয়।
মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রার নেতৃত্বে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি (ধরনা) শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধীকে আটক করে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। রাত ৯টার দিকে উভয়কে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
রাহুল গান্ধীর এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, সরকার সংসদে গঠনমূলক আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেস গণতান্ত্রিক আলোচনার চেয়ে রাজনৈতিক নাটককে বেছে নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান তাদের উদ্দেশ্য নয়, তারা সস্তা শিরোনাম হতে চায়। রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনীতি করছেন।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে এসে এখন মন্ত্রীদের পদত্যাগ দাবি করছেন, যা একজন দায়িত্বশীল বিরোধীদলীয় নেতার আচরণ হতে পারে না।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.