ফেসবুকে ‘নাম’ লিখে আত্মঘাতী তৃণমূল নেতা

রাজনৈতিক পালাবদলের পর মিথ্যে প্রচার সহ্য করতে পারেননি। শেষমেশ নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিযুক্তদের নাম লিখে আত্মঘাতী হলেন প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমূল নেতা দিলীপ দেবনাথ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শীতলকুচি ব্লকের গোসাইরহাট এলাকায়। মৃত্যুর আগে তাঁর করা একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। উঠেছে প্রশ্নও।

একটি পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন, ভরসা আর আশ্রয় যেন মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। পরিবারের সদস্যের মুখে একটাই কথা- যে মানুষ গতকালও পরিবারের সঙ্গে ছিলেন, ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা করছিলেন, আজ তিনি নেই! তাঁর চলে যাওয়ার খবর যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়-স্বজন কিংবা এলাকার মানুষ।

 

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে তাঁদের জীবন একের পর এক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ওঠে। বাড়িতে ভাঙচুর, হুমকি এবং নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশে পরিবারকে বারবার আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। দিলীপবাবুর স্ত্রী লক্ষ্মী দেবনাথ বর্তমানে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা।

গত শুক্রবার স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গোসাইরহাট বাজার সংলগ্ন এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, কয়েকটা দিন হয়তো একটু স্বস্তিতে কাটবে। কিন্তু কেউ কল্পনাও করতে পারেননি এই পরিণতি।

রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে পাশে না দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন লক্ষ্মী দেবনাথ। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। অবশেষে গোসাইরহাট বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার হয় দিলীপ দেবনাথের নিথর দেহ। মুহূর্তের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়।

ঘটনার পর সামনে আসে তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট। সেখানে কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাঁর নামে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক চাপ এবং অপমান তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। ওই পোস্টে নিজের যন্ত্রণার কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি। এমনকী মৃত্যুর জন্য কয়েকজনকে দায়ী করার কথাও উল্লেখ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। যদিও পোস্টটির সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে তার যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

 

 

এদিকে বাবুরহাট ভারত কলোনি ও হরিমালা খাগড়াবাড়িতে অবস্থিত তাঁর বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। স্ত্রী লক্ষ্মী দেবনাথ বারবার ভেঙে পড়ছেন। একমাত্র মেয়ে মধুমিতা দেবনাথও যেন এখনও মেনে নিতে পারছেন না এই নির্মম বাস্তবতা। যে বাবা তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ছায়াসঙ্গীর মতো পাশে ছিলেন, সেই মানুষটির হঠাৎ চলে যাওয়া তাঁকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু একজন মানুষের মানসিক অবস্থাকে এমন জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে মত তাঁদের।

পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্ট, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোসাইরহাটের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এক অসহায় মানুষের বুকভরা কষ্টের শেষ আর্তনাদ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from শুদ্ধস্বর ডটকম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading