তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এটি কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো কোনো বৈশ্বিক মহামারির পরিস্থিতি নয়। সংস্থাটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কারকোহভ বলেছেন, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বর্তমানে এটি একটি নির্দিষ্ট জাহাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাহাজটিতে থাকা সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মারিয়া ভ্যান কারকোহভ জানিয়েছেন, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে রোগীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত এক ধরনের ভাইরাসগুচ্ছ, যা সাধারণত ইঁদুর বা ছোট আকারের দন্তযুক্ত প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর লালা, মল-মূত্র অথবা তাদের বাসস্থানের ধূলিকণার সংস্পর্শে এলে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে।
প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের বড় অংশ এশিয়া ও ইউরোপ অঞ্চলের বাসিন্দা। ভাইরাসটি মানবদেহে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা তৈরি করতে পারে, তবে এটি কোভিড-১৯ এর মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে না।
বর্তমানে প্রমোদতরিটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে এমন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এই ভাইরাসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: রয়টার্স

