রাষ্ট্রপতি থাকাকালেই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার আসামি হন সাহাবুদ্দিন

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি হয়েছিলেন। প্রায় ১০ মাস পর, তার পদত্যাগের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদালত মামলাটি আমলে নেয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দেয়। সর্বশেষ গত ২৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দাখিল হয়নি। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার এজাহারে ১২ নম্বর আসামি হিসেবে ‘মো. শাহাবুদ্দিন’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক এবং জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে জে এম সি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালক এবং পরে ভাইস চেয়ারম্যান হন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ওই পদ ছেড়ে দেন।

তবে মামলার এজাহারে নাম, বাবার নাম ও ঠিকানায় অসঙ্গতি থাকায় শুরুতে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। পরে মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ জানান, মামলার ১২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখিত ব্যক্তি সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে তালিকা দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের পরিচয় সম্পর্কে তিনি আলাদাভাবে অবগত নন।

মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম), ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ এবং ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বর্তমান ও সাবেক পরিচালক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি কার্যধারা শুরু বা চালিয়ে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মামলা করার সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে আদালতকে বিভ্রান্ত করে আদেশ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কমিশন নেবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.