পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিশাল জয়ের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবার তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় ও বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের ঘটনাকে তিনি ‘অনৈতিক’ এবং ‘বেআইনি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (৪ মে) নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি একতরফা ছিল এবং নির্বাচন কমিশন ‘বিজেপি কমিশন’ হিসেবে কাজ করেছে। এই পরিস্থিতির পর দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য আজ মঙ্গলবার কালীঘাটের নিজ বাসভবনে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয়লাভ করে বিজেপি এক বিশাল জয় নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরে পরাজিত হয়েছেন।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই হারের পর সোমবার দুপুরের দিকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন মমতা। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। তবে সন্ধ্যা গড়ানোর আগেই গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাকে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সিআরপিএফ-এর সামনেই তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
তৃণমূল নেত্রীর দাবি অনুযায়ী, বিজেপি জোর করে এবং কারচুপির মাধ্যমে শতাধিক আসন দখল করেছে। তিনি একে একটি ‘দানবিক পার্টির’ কাজ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘এটি কোনো নৈতিক জয় নয়, বরং পুরোপুরি একটি অনৈতিক ও অবৈধ জয়।’
মমতা আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়ালের কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানালেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। লুটপাটের মাধ্যমে নির্বাচন জয়ী হওয়ার এই অভিযোগ তুলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস এই পরাজয় কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। তার এই অনমনীয় অবস্থান দলের হতাশ কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর তৃণমূলের মধ্যম ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে বড় ধরনের হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত দেড় দশক ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দলটির এমন ভরাডুবির পর আজকের সংবাদ সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে হারের বিস্তারিত কারণ এবং পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজেপির এই ‘ভূমিধস’ জয়ের প্রেক্ষাপটে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো ভারত।
সূত্র: আনন্দবাজার।

