তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় কবিতা পরিষদের মতবিনিময়, কবিতা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি

 বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাত ৮টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বর্ষীয়ান কবি মতিন বৈরাগী, কবি ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য।

সভায় সূচনা বক্তব্যে কবি মোহন রায়হান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় কবিতা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রগতিশীল কবিরা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা চান না, তারা চান বাকস্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক উগ্র গোষ্ঠীর উত্থানে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংস্কৃতি হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কবিরা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান।

তিনি জানান, ‘সংস্কৃতি বিরোধী আস্ফালন রুখে দেবে কবিতা’—এই স্লোগানে আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির আদলে একটি ‘কবিতা ভবন’ ও ‘কবিতা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, অতীতে জাতীয় কবিতা পরিষদকে দলীয় অঙ্গসংগঠনে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠাকালীন কবিরা সংগঠনটিকে একটি স্বাধীন ও গণমুখী সাংস্কৃতিক সংগঠনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি কৃষিকার্ড ও পরিবারকার্ডের পাশাপাশি একটি ‘শিল্পী–সাহিত্যিক কার্ড’ চালুর প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।

বর্ষীয়ান কবি মতিন বৈরাগী বলেন, লেখার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই আমাদের প্রধান দাবি। লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম এখনো নানা ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। দলনিরপেক্ষ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বিএনপির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

সব বক্তব্য শোনার পর তারেক রহমান বলেন, জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে পুরোনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি জানান, বিএনপির পরিকল্পনায় পাঠ্যসূচিতে নাচ, গান, কবিতা, আবৃত্তিসহ শিল্পকলার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানকে বহুমাত্রিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার কথাও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাঁর সময়ে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়। বেগম খালেদা জিয়াও শিল্প–সাহিত্য–সংস্কৃতির বিকাশে উদার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এলে কবিতা ভবন ও কবিতা একাডেমি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সভায় বক্তব্য রাখেন সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা অপরিহার্য। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জাতীয় কবিতা পরিষদের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিএনপি কবিতা পরিষদের পাশে থাকবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.