মেঘনায় যাত্রীবাহী দুই লঞ্চের সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৪

মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষে ৪ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে চাঁদপুরের হাইমচর সীমান্তবর্তী নীলকমল ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনার কবলে পড়া লঞ্চ দুটি হলো— ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-৩ এবং ঢাকা থেকে বরিশালগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯।

লঞ্চের যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতে নদীজুড়ে প্রচণ্ড ঘন কুয়াশা ছিল। রাত ২টার পর জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি হাইমচর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি দিক নির্ণয় করতে না পেরে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মাঝনদীতে ডুবো-ডুবো অবস্থায় ভাসতে থাকে।

ওই সময় ভোলা থেকে ঢাকাগামী এমভি কর্ণফুলী-৯ নামের আরেকটি লঞ্চ দ্রুত এগিয়ে এসে অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ সর্বশেষ ৪ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা সবাই এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের যাত্রী। তারা হলেন- ১. আব্দুল গণি (৩৮), লালমোহন উপজেলার কাজিরাবাদ এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ২. মো. সাজু (৪৫), একই গ্রামের মো. কালু খাঁর ছেলে। ৩. রীনা (৩৫), কচুখালি গজারিয়া গ্রামের মিলনের স্ত্রী। ৪. মো. হানিফ (৬০), চরফ্যাশন উপজেলার আহমেদপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ইকবাল জানান, খবর পেয়ে রাত পৌনে ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সেখানে কোনো লঞ্চ পাওয়া যায়নি। লঞ্চগুলো সংঘর্ষের পরপরই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঝালকাঠির সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বায়জিদ ইবনে আকবর জানান, অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি সকালে বরিশাল হয়ে ঝালকাঠি পৌঁছালে পুলিশ সেটি জব্দ করে।

এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সদরঘাটে ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চ পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেনের। বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, কুয়াশার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.