ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্রমপুর সমিতির ঈদ পুনর্মিলনী : প্রবাসে মিললো আনন্দ, সম্প্রীতি ও আপনজনের ছোঁয়া

প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, কর্মব্যস্ত সময় আর স্বজনহীন একাকীত্বের মাঝেও ঈদের আনন্দকে সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত হলো বিক্রমপুর সমিতির বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। গত শনিবার স্থানীয় একটি বিশাল হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সারা জার্মানি থেকে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল পুরো আয়োজনস্থল।

আয়োজকরা জানান, প্রায় আট শতাধিক অতিথির জন্য আয়োজন করা হয়েছিল এই মহতি অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন শহর থেকে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন। শিশুদের হাসি, বড়দের কুশল বিনিময় আর দীর্ঘদিন পর পরিচিত মুখগুলোর সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে পুরো হলজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। অনেকের কাছেই এটি ছিল প্রবাসের মাটিতে ঈদের আনন্দকে নতুন করে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য ছিল সুস্বাদু নৈশভোজ এবং বাহারি স্ন্যাকসের আয়োজন। অতিথি আপ্যায়নে ছিল আন্তরিকতার উষ্ণ ছোঁয়া। দেশীয় ঐতিহ্যের নানা স্বাদের খাবার যেন সবার মনে ফিরিয়ে আনে দেশের ঈদের স্মৃতি। পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। গান, আড্ডা, হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশ আর মিলনমেলায় প্রবাসের ক্লান্তি ভুলে কিছু সময়ের জন্য সবাই ফিরে যান আপন সংস্কৃতির শিকড়ে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিক্রমপুর সমিতির সভাপতি শামসুল করিম পল এবং সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ভুঁইয়া। তারা বলেন, প্রবাস জীবনে সবাই কর্মব্যস্ত থাকলেও এমন আয়োজন মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। তারা উল্লেখ করেন, যদিও এটি বিক্রমপুর সমিতির আয়োজন, তবুও দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, “প্রবাসে আমরা সবাই একে অপরের আত্মীয়। দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও যেন আমরা বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ককে ধরে রাখতে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দুলাল আহমেদ, আব্দুল মান্নান খান, দোলন খান, দেলোয়ার হোসেন, কোহিনুর, সোরহাব হোসেন, মুরাদ আহমেদ, শোয়েব হাওলাদার, কাওসার হাওলাদারসহ সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তারা। তাদের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিকতায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে সুশৃঙ্খল ও সফল।

সুন্দর ও মনোরম আবহাওয়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি মধ্যরাত পর্যন্ত প্রাণবন্ত পরিবেশে চলতে থাকে। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি যেন এক আবেগঘন মিলনমেলায় রূপ নেয়। অনেকেই বলেন, প্রবাসে এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের নয়, বরং এটি একে অপরের সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধন গড়ে তোলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সারা জার্মানি থেকে আগত প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, হাজার ব্যস্ততার মাঝেও দেশের প্রতি ভালোবাসা, সংস্কৃতির প্রতি টান এবং একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা আজও অটুট রয়েছে। প্রবাসের মাটিতে বিক্রমপুর সমিতির এই আয়োজন তাই শুধু একটি ঈদ পুনর্মিলনী নয়, বরং ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের হৃদয়ের মিলনমেলা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.