অফেনবাখে শিশুগ্রন্থ প্রদর্শনীর ৭০ বছর পূর্তি

অফেনবাখের ক্লিংস্পোর মিউজিয়ামে শুরু হয়েছে বার্ষিক আন্তর্জাতিক শিশুগ্রন্থ প্রদর্শনী। এ বছর প্রদর্শনীটি উদযাপন করছে প্রতিষ্ঠার ৭০তম বর্ষপূর্তি। ১৯৫৫ সালের ৯ ডিসেম্বর “বুনতে কিন্ডারভেল্ট” নামে যে প্রদর্শনী প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করেছিল, সেটিই আজ সাত দশক পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

মিউজিয়ামের পরিচালক ডরোথে আডার জানান, ছবি-বই শুধু শিশুদের বিনোদন নয়—এগুলো সমাজের ভাবনা, সময়ের প্রবণতা এবং শৈশবকে ঘিরে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তার ভাষায়, “বই সমাজের বর্তমান উদ্বেগ ও আগ্রহের একটি সূচক।

১৫০ নতুন বই ও ৭২ আর্কাইভের শিরোনাম

এবারের প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে ১৫০টি সাম্প্রতিক ছবি-বই এবং আর্কাইভ থেকে বাছাই করা ৭২টি পুরোনো বই। আডার ও স্টেফানি এহরেট-পোল যৌথভাবে এই সংগ্রহ নির্বাচন করেছেন। তাঁদের কাজে সহায়তা করেছেন বাংলাদেশে থেকে ফেলোশিপে আসা মিতিয়া ওসমান  , যিনি নিজ দেশের উল্লেখযোগ্য কিছু বই যুক্ত করেছেন প্রদর্শনীতে।

সাত দশকে ছবি-বইয়ের ভাষা ও বিষয়বস্তুর পরিবর্তনও চোখে পড়ার মতো। পঞ্চাশের দশকের আদর্শিক ও নির্দিষ্ট ভূমিকার “শান্ত শিশু-জগত” থেকে শুরু করে সত্তরের দশকের সচেতনতামূলক ও সমাজমুখী বই—সবই এখানে দেখা যাবে। পরিবেশ-সচেতনতার মতো বৈশ্বিক বিষয়ও এসেছে বেশ কিছু বইয়ে।

বৈচিত্র্য, নিউরোডাইভারসিটি ও সমসাময়িক বিষয়

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈচিত্র্য ও পরিচয়ের বিষয় শিশুগ্রন্থে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মানুষের অপ্রকাশিত মিল খোঁজার গল্প “কেনেন ভিয়্‌ উন্স”–এর পাশাপাশি নিউরোডাইভারসিটি নিয়ে লেখা “ভুণ্ডারফোল আন্দার্স”, “আন্দার্স রিশ্টিগ, রিশ্টিগ আন্দার্স” ও “ভির্বেলভিন্ড”–এর মতো বইও রয়েছে তালিকায়।

যোগাযোগ, ফেক নিউজ, যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতি—সমসাময়িক জটিল বিষয়গুলোও শিশুদের জন্য সহজ করে তুলে ধরেছে বেশ কিছু বই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিবিলে হাইনের “ফেক” এবং ক্লোদ কে. ডুবোয়ার যুদ্ধ-পরিস্থিতির গল্প “আকিম রেন্‌ট”।

পরিবারের জন্য উন্মুক্ত—পাঠের আরামদায়ক পরিবেশ

দর্শনার্থীরা প্রদর্শনীতে থাকা নতুন বইগুলো পড়তে পারবেন বিশেষভাবে সাজানো লেসে-জুর্ট বা পাঠ-কুটিরে বসে। তবে আর্কাইভের পুরোনো বইগুলো সংরক্ষণের স্বার্থে কাচের ভিট্রিনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে ইভান গান্তশেভের ৪০টি মূল চিত্রকর্ম এবং শিল্পী তাতজানা প্রেন্‌জেলের আঁকা বড় আকারের দেয়ালচিত্র, যা পূর্ববর্তী প্রদর্শনীর ছবি থেকে অনুপ্রাণিত।

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের মতে, এ বছরের প্রদর্শনী শুধু ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকানোই নয়, বরং দেখিয়ে দেয়—শিশুগ্রন্থ কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে এবং আগামী প্রজন্মের কাছে কী বার্তা পৌঁছে দিতে চায়। সুত্র : অফেনবাখ পোষ্ট ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.