৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানকে বুঝতে হলে ১৯৭৫ সনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা দরকার। সদ্য স্বাধীন দেশে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকাঠামো বদলে দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের জন্য কাঠামোগত প্রস্তাব তুলে ধরেন ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগ-কৃষক লীগ নেতৃত্ব। তারা ১৯৭০ সানে নির্বাচিত গণপরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সকল দলের সমন্বয়ে বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। ৫ বছর বা অনুরূপ কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সে বিপ্লবী সরকার স্বাধীন দেশের উপযোগী করে রাষ্ট্রকাঠামো-অর্থনীতি-সংস্কৃতি-শিক্ষা সহ কাঠামো-উপরিকাঠামোর সকল সংস্থা পুনর্গঠন সম্পন্ন করবে। প্রয়োজনে উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ছাত্রসমাজকে মুক্তিযুদ্ধের মত সারা দেশে এ মহাকর্মযজ্ঞ সম্পাদনের নিয়োজিত করা হবে। এ ধরণের আরো অনেক প্রস্তাব ছিল যা প্রস্তাবকারীদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন বই-পুস্তকে প্রকাশিত হচ্ছে। এ ধরণের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুললে পাকিস্তানী ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা রাজনৈতিক বিভেদের সুযোগ নিয়ে দেশ পুনর্গঠনকে নস্যাৎ করার সুযোগ পাবে না।
কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এ প্রস্তাবকে গ্রহণ করলেন না। তারা সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করার নামে কার্যতঃ রাজনৈতিক বিভেদের সুযোগ সৃষ্টি করলেন। আর মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত দেশী-বিদেশী মহল এ সুযোগটিরই অপেক্ষায় ছিল। বিভেদকামী পরাজিত শক্তি একদিকে সরকারের অভ্যন্তরে ভোল পাল্টানো পাকিস্তানী সামরিক বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিভূদের মাধ্যমে প্রতিবাদী প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির ওপর চরম দমন-নিপীড়ন চালিয়েছ্,ে অন্যদিকে অর্থনীতি ও জনগণের মনোবলকে ভেঙ্গে দেবার জন্য নানা অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালিয়ে তা বিরোধী দলের ওপর চাপিয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যখন ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক নেতৃবৃন্দের বিপ্লবী জাতীয় সরকার ও বিপ্লবী জাতীয় পুনর্গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ না করে সনাতনী শাসন ব্যবস্থা বহাল রাখার উদ্দেশ্যে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন প্রতিবাদী ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক নেতৃবৃন্দ নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রস্তাবের পক্ষে জনমত গঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। ১৯৭২ সানের ৩১ অক্টোবর ঘোষণা এল নতুন রাজনৈতিক দলের, জন্ম নিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (যা এখন বাংলাদেশ জাসদ, জাসদ ও জেএসডি এ তিন নামে পরিচিত)।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সংসদীয় পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ছাত্র-যুব সমাজের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবী চেতনাকে নিস্তেজ করে দেবার জন্য। তিন বছর ধরে এ সর্বনাশা কর্ম চলার পরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দেশ গড়ার নামে তাদেরই প্রবর্তিত সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল করে সকল বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ করে এক দলীয় বাকশাল পদ্ধতি কায়েম করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পরই ১৯৭২ সালের মে মাসে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক নেতৃবৃন্দের প্রস্তাব ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সকল দলের সমন্বয়ে জাতীয় বিপ্লবী সরকারের, আর ১৯৭৫ সালের জানুয়ারীতে অন্য সকল দলকে নিষিদ্ধ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে চালু হয় একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ১৯৭৩ সনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রায় আড়াইশ সংসদীয় আসনে। ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক কারসাজিতে তাদেরকে মাত্র একটি আসনে জিততে দেয়া হয়। অথচ আরো ১০টিরও অধিক আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল প্রার্থীগণ জয়লাভ করেছিলেন। অন্যান্য বিরোধী দলের প্রার্থীরাও বেশ কয়েকটি আসনে জিতেছিলেন। এমনকি গণমাধ্যমে বিজয়ের খবর প্রচারিত হলেও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সে সব আসনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয়ের ঘোষণা করে। এর তাৎপর্য হল এই যে, সংসদীয় ব্যবস্থায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় নি, কিন্তু বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কাজ করতে দেয়া হল না। বিরোধী মতকে তৎকালীন সরকার মোটেও সহ্য করতে রাজী ছিল না। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল সংগঠক হবার কারণে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতৃত্বের মাঝেও একটা আস্থার ভাব ছিল এই ভেবে যে, তারা যেভাবে ঔপনিবেশেক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোটা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে সামিল করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন, তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশে সামাজিক বিপ্লব সফল করতেও তারা সক্ষম হবেন। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের বক্তব্য ও আন্দোলনের ধার ছিল খুবই তীব্র ও তীক্ষè। বুর্জোয়াদের স্বার্থরক্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্তরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বকেই প্রধান দ্বন্দ্ব হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল।
সংসদীয় রাজনীতিই শুধু নয়, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র)-এর নিশ্চিত বিজয়কে রুখে দিতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ডাকসু’র ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে। অন্যান্য বেশ কয়েকটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনদের সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে। ১৯৭৪ সাালের ১৭ মার্চ তদানীন্তন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচীকে সরকারের রক্ষীবাহিনীর রক্তাক্ত পথে মোকাবেলা করে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। এ ধরণের পরিস্থিতিতে কারাগারের বাইরে থাকা নেতৃত্ব তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে মিলিত হন। খসড়া থিসিস প্রণয়ন করে সরকার হটানোর লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থানমূলক আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন, এবং রাজনৈতিক কর্মসূচী হিসেবে গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে সামনে আনেন। জাসদের কাছে সংসদীয় রাজনীতির গুরুত্ব পেছনে চলে যায়। ১৯৭৪ সালের শেষদিকে জরুরী অবস্থা জারী ও ১৯৭৫ সালের শুরুতে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার পরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ সকল বিরোধী দল নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তখন গোপনে সংগঠনের কাজ পরিচালনার জন্য বিপ্লবী পার্টি প্রক্রিয়া মূল ভূমিকাতে চলে আসে। কোনো কোনো অঞ্চলে বিপ্লবী গণবাহিনী সক্রিয় হয়। উল্লেখ্য, কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিপ্লবী গণবাহিনী গড়ে না উঠলেও ১৯৭৫এ বহু জেলায় বিপ্লবী পার্টি প্রক্রিয়ার গোপন কাঠামোর পাশাপাশি গণবাহিনীর কাঠামো গঠিত হয়। তবে বিপ্লবী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার গঠনের কৌশল অপরিবর্তিত থাকে।
এ ধরণের পরিস্থিতিতে ঘটে যায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও রক্তাক্ত সামরিক ক্যু দেতা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল একে মার্কিন ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করে এবং সামরিক শাসনকে আওয়ামী লীগের শাসনের চাইতে প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর বলে মূল্যায়ন করে। গোপন পার্টি প্রক্রিয়া ও গণবাহিনী নেতৃত্ব দ্রুত বৈঠকে বসে। তারা বিপ্লবী গণঅভ্যুত্থান গড়ে তোলার চলমান কৌশলকে এক মুহুর্তের জন্যও বিরতি না দিয়ে খন্দকার মোশতাকের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে আরো তীব্র করার সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল তথা পার্টি প্রক্রিয়ার নেতৃত¦ ১৫ আগস্টের সামরিক ক্যু দেতাকে বাংলাদেশে আসন্ন বিপ্লবের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করার সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র বলে চিহ্নিত করে। সামরিক সরকার শক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছার আগেই তাকে গণঅভ্যুত্থানের আঘাতে পতন ঘটানোর লক্ষ্য স্থির করে পার্টি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব। ১৯৭৫ সানের ৩ নভেম্বর পুনরায় সামরিক ক্যুদতো ঘটলে জাসদ পার্টি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব একই ধরণের মূল্যায়ন করে, যা খন্দকার মোশতাকের সামরিক সরকারের ব্যাপারে করেছিল।
খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ৩ নভেম্বর সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দখলের প্রচেষ্টার মধ্যেই ঘটে যায় জেলখানাতে জাতীয় চার নেতার নৃশংস হত্যাকান্ড। খালেদ মোশাররফের কোন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তার প্রচেষ্টাকে খন্দকার মোশতাকের পাল্টা ক্যু দেতা ও খালেদ মোশাররফের ভাই ও মা বঙ্গবন্ধু ভবন অভিমুখে শোক মিছিলে যোগদান করায় খালেদের ক্যু দেতাটি আওয়ামী লীগের পক্ষে – এ গুজবটি জনমনে প্রভাব ফেলে। আরো যে বিষয়টি মারাত্মক ছিল সেটি হল এর সাথে ভারতকে জড়ানো। খন্দকার মোশতাকের পক্ষের কুশীলবরা এ গুজব ছড়ায় যে, বাংলাদেশ-ভারত ২৫ বছর মেয়াদী মৈত্রী চুক্তি বলে ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে খালেদ মোশাররফ সরকারকে পাকাপোক্ত করবে তথা আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতাসীন করবে। এমনকি এ গুজব ছড়ানো হয় যে, সীমান্তে ভারতীয় সৈন্য সমাবেশ ঘটেছে। এ সবের উদ্দেশ্য ছিল খন্দকার মোশতাক ও তার দেশী-বিদেশী মুরব্বীদের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
এবার কর্নেল আবু তাহেরের প্রসঙ্গে আসি। ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর যে পটভূমি ও উদ্দেশ্য নিয়ে জাসদের জন্ম হয়েছিল, প্রায় একই রকম পটভূমি ও লক্ষ্য নিয়ে কর্নেল আবু তাহের স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীকে একটি গণতান্ত্রিক উৎপাদনশীল গণবাহিনীতে রূপান্তরের চেষ্টা চালান, ব্যর্থ হয়ে সেনাবাহিনী ত্যাগ করে জাসদের বিপ্লবী প্রক্রিয়াতে যুক্ত হন। তিনি বিপ্লবী প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তক্রমে গণবাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৩ নভেম্বরের সামরিক ক্যুদেতার পর সৈনিকদের মাঝে প্রচন্ড অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। বারবার সামরিক অভ্যুত্থানে সৈনিক-জনতা ছিল তিক্ত বিরক্ত, অপরদিকে ছিল ভারতীয় সেনাবিাহিনীর হস্তক্ষেপের আশংকার গুজব। পরিস্থিতি ছিল খুবই বিপদজনকভাবে বিস্ফোরন্মুখ। কর্নেল আবু তাহের জাসদ বিপ্লবী প্রক্রিয়া অনুসৃত বিপ্লবী গণঅভ্যুথানের কৌশল অনুযায়ী বিক্ষুব্ধ ও অসংগঠিত সৈনিকদেরকে একটা শৃংখলার মধ্যে নিয়ে এসে ৭ নভেম্বর প্রত্যুষেই সুশৃংখল সৈনিক-জনতার অভ্যুত্থান সংগঠিত করার পরিকল্পনা জাসদ বিপ্লবী প্রক্রিয়ার কাছে পেশ করেন ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায়। পার্টি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব জনগণকে প্রস্তুত করার জন্য আরো সময় নেবার কথা বলেন এবং সে অনুযায়ী ১০ নভেম্বর ১৯৭৫ সোমবার দেশব্যাপী হরতাল আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, তখন সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল রোববার। কিন্তু কর্নেল আবু তাহের ক্যান্টমেন্টে সৈনিকদের মাঝে অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতিতে খন্দ্কার মোশতাক-রশিদ-ফারুক-ডালিম চক্র ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের চাইতেও আরো ব্যাপক হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে বলে নেতৃবৃন্দকে জানালেন। অনেকটা ১৯৬৬ সালে ইন্দোনেসিয়ায় প্রায় ১ লাখের মত প্রগতিশীল মানুষকে গণহত্যার মত পরিকল্পনা ও আশংকার কথা তারা বলেছিলেন। নেতৃবৃন্দ অনেক আলোচনার পরে ৭ নভেম্বরেই সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত করার অনুমোদন দেন।
৭ নভেম্বরের সৈনিক-জনতার অভ্যুত্থানের বারুদাগারে দিয়াশলাই ঠুকেছিল ভারতীয় হস্তক্ষেপের কাল্পনিক আশংকা। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের মানুষ এবং বিশেষ করে জাতীয় প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা এ বিষয়ে খুবই স্পর্শকাতর ছিল। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে এক শ্রেণীর মানুষের কি তীব্র বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছিল গুজবকে কেন্দ্র করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছিল। এ সুযোগ নিয়েছে প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, যার জের জাতিকে বহুদিন টানতে হচ্ছে। আজ যেন আবার আমরা একই ভুল ও একই পরিণতি ডেকে না আনি। ৭ নভেম্বর থেকে অন্ততঃ আমরা যেন এটুকু হলেও শিখি। #
মুশতাক হোসেনঃ বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – বাংলাদেশ জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য। ডাকসুর সাবেক জিএস

