লন্ডন, ৪ নভেম্বর ২০২৫:
মালয়েশিয়ার গ্লাভস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেডিসেরাম (Mediseram) কর্তৃক বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি অমানবিক ও দমনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রবাসী সংগঠন “কানেক্ট বাংলাদেশ ইউকে”।
সংগঠনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্প্রতি মেডিসেরাম প্রায় ১৯০ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করেছে এবং এর মধ্যে অন্তত ১০ জনকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। আরও শ্রমিককে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব শ্রমিক ২০২৩ সালে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তারা অনিয়মিত বেতন, ভিসা নবায়নে বিলম্ব এবং ন্যায্য পাওনা না পাওয়াসহ নানা শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হন। শ্রমিকরা বারবার দাবি জানালেও কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিবাসী অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনাটিকে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের জঘন্য উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিশেষ করে যেসব শ্রমিককে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও হাইকমিশনের প্রতি দাবি
কানেক্ট বাংলাদেশ ইউকে তাদের বিবৃতিতে নিম্নোক্ত দাবিগুলো উত্থাপন করেছে—
১. অবিলম্বে মেডিসেরামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করতে হবে।
২. ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায় ও পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো শ্রমিকদের জন্য আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।
৪. ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্যায় রোধে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
‘অভিবাসী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডস্বরূপ। তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় সরকারকে এখনই দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
কানেক্ট বাংলাদেশ ইউকে সকল প্রবাসী সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে।
বিবৃতিদাতা:
আবু আহমেদ খিজির — সভাপতি, কানেক্ট বাংলাদেশ ইউকে
নাসিম চৌধুরী — সাধারণ সম্পাদক, কানেক্ট বাংলাদেশ ইউকে ।

