হল্যান্ডে লিবারেল দল Democrats 66 এখন বড় নিয়ন্ত্রক দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে

আজ (৩০ অক্টোবর ২০২৫) নেদারল্যান্ডসের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে

কেন্দ্রীয় দল Democrats 66 (D66) ও দূর-ডানপন্থী Party for Freedom (PVV) উভয়েই প্রায় ২৬টি করে আসন পেয়েছে — ১৫০ আসনের নিম্নকক্ষে।

তবে PVV-র জন্য   দুঃসংবাদ হচ্ছে  অন্যান্য প্রধান দলগুলো এখনই PVV-র সঙ্গে কোন সরকার গঠন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।

D66-র নেতা Rob Jette নির্বাচনের পর বলেছেন তিনি “খুব নিশ্চিত” একটি সরকার গঠন করতে পারবেন বলে।

এটি ইউরোপীয় -ডানপন্থী ধারা (“পপুলিজম”)-র প্রতি ভোটারদের এক জোরালো প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যেতে পারে — “বিকল্প নয়, মাঝারি ও স্থিতিশীলতা”-র পক্ষে ভোট।

নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টে প্রায় ১৫টি পার্টি নির্বাচিত হয়েছে, যা গভীর বিভাজন নির্দেশ করে।

কোনো একক দল একা Gobierno গঠন করতে সক্ষম নয়; মিনিমাম ৭৬ আসনের জোট দরকার। তাই জোট গঠন সময়সাপেক্ষ হবে।

D66 ও PVV-র মধ্যে বসে “সবচেয়ে বড় দল কে হবে?” এই বিতর্ক চলতে পারে। যদিও আসনের সংখ্যায় সমান, কার কাছে প্রথম ছক্কার দায়িত্ব যাবে, তা এখনও ঘোর অনিশ্চিত।

 জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

নেদারল্যান্ডসের নির্বাচন শুধুই দেশীয় বিষয় নয় — ইউরোপে ডানপন্থী আধিপত্য বা কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ফিরে আসার চিত্রে এটি এক পরীক্ষা।

D66-র মতো প্রো-ইউরোপ, লিবারাল-প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গা গ্রহণকারী দল সম্ভবত দেশকে আরো বেশি “ইউরোপ-মুখী” ও “বহুপাক্ষিক” পথে যেতে উৎসাহিত করবে।

অন্যদিকে, PVV-র অবস্থানের সংকোচন দেখাচ্ছে যে কঠোর অভিবাসন-নীতির প্রতি ভোটারদের ধাক্কা থাকতে পারে।

আগামী সময়ের কী দেখার আছে

কোয়ালিশন আলোচনা: এখনই একটি প্যারামিটার স্পষ্ট — PVV সরকারের অংশ হওয়া প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে, কেননা অন্যান্য বড় দলগুলো স্পষ্টভাবে তা অস্বীকার করেছে। A

নেতৃত্ব-বদল: Rob Jetten প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন — তিনি নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে যুব প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন এবং প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন।

নীতিগত পরিবর্তন: আশঙ্কা রয়েছে—মজাদার না হলেও—কোন যুক্তিসঙ্গত মধ্যম কোয়ালিশন গঠন হবে কি না, কারণ পার্টিগুলো মধ্যে অনেক ভিন্নতা রয়েছে অর্থনৈতিক, পরিবেশ, অভিবাসন ও নাগরিক অধিকারের বিষয়ে।

ভোটার সংকেত: ভোটের ফলাফল দেখাচ্ছে ভোটাররা হয়তো “উগ্রতা” বা “বিষয়ভিত্তিক উত্তেজনা”র পরিবর্তে “স্থিতিশীলতা, সমন্বয় ও পরিকল্পনা” চান।

উপসংহার

নেদারল্যান্ডসের আজকের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে — যেখানে দেশীয় ভোটাররা একটি সংকট-বিভাজিত রাজনীতির পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল ও মাঝারি-রাস্তায় ফিরে আসার সংকেত দিয়েছেন। যদিও এখনও কনক্রিট সরকার গঠন হয়নি, তবে ‌D66-র উত্থান এবং PVV-র ধাক্কা ইউরোপীয় রাজনীতিতে বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসন্ন সপ্তাহগুলোতে যে জোট গঠন হবে, সেটি আগামী কয়েক বছরের জন্য নেদারল্যান্ডসের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি একটি নতুন ধারা পাবে।

হাবিব বাবুল , লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.