বাংলাদেশের কিশোরী শিল্পী রিদিতা ইসলাম শ্রেয়া বিশ্বমঞ্চে দেশের জন্য বয়ে এনেছেন গৌরব। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাদৈর গ্রামের সন্তান শ্রেয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্জন করেছেন বিরল স্বীকৃতি। যুক্তরাজ্যের সংরক্ষণমূলক প্রতিষ্ঠান Explorers Against Extinction আয়োজিত Sketch for Survival Competition (১২–১৬ বছর ক্যাটাগরি)-তে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন Best Art Winner হিসেবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রাথমিকভাবে দীর্ঘ তালিকা প্রণয়নের পর প্রতিযোগীদের আঁকা আসল চিত্রকর্ম ডাকযোগে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়। তিন ধাপের বাছাই শেষে বিচারকরা মাত্র তিনটি অসাধারণ শিল্পকর্ম নির্বাচন করেন। সেখানেই জায়গা করে নেয় শ্রেয়ার আঁকা এক অনন্য ছবি।
শ্রেয়ার শিল্পকর্ম সম্পর্কে আয়োজকরা বলেন, “একটি হেলমেটেড হর্নবিল নাটকীয় ভঙ্গিতে আকাশে উড়ছে। কিন্তু তার ডানাগুলো ভেঙে যাচ্ছে, পালকগুলো একে একে ঝরে পড়ছে। ছবিটি তুলে ধরে এই অপূর্ব পাখিটির মর্মান্তিক বিলুপ্তি। এখনও সে টিকে থাকার জন্য লড়ছে, কিন্তু শেষটা যেন একেবারেই কাছাকাছি।”
এই অসাধারণ কাজটির স্বীকৃতি হিসেবে ছবিটি বর্তমানে Explorers Against Extinction-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মূল ব্যানার ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে—যা একজন কিশোরী শিল্পীর জন্য নিঃসন্দেহে বিশেষ সম্মানের।
শ্রেয়ার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাদৈর গ্রামে। তিনি জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. মো. সফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী মোসলিমা আক্তার জামানের আদরের কন্যা। বর্তমানে তিনি আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়াশোনা করছেন।
তার বাবা-মা জানান, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আর্ট শিক্ষা ছাড়াই শ্রেয়া ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ ও নিষ্ঠার মাধ্যমে চিত্রকলার চর্চা করে আসছে। তারা বলেন, “আমাদের সোনামণি একেবারেই নিজে নিজে আঁকাআঁকি শিখে আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। আমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। সকলে আমাদের মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।”
শ্রেয়ার এই অর্জন শুধু পরিবার নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্য গর্বের। তার সাফল্য প্রমাণ করেছে—প্রতিভা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠা থাকলে সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

