“জলের শ্যাওলা”- হেডিং (heading) শিরোনাম পড়েই ধরে নিবেন না যেন, শেখ হাসিনাই একমাত্র ভুল এবং তারেক জিয়া সত্যিই সাহসী। আসবো সেই বিষয়ে তবে আসুন আবার খোলাখুলি আলোচনা করি, যা বছরের পর বছর করেই এসেছি। সমস্যা হলো আমাদের মতন ছোটোখাটো মানুষের লেখা বা কথার কোন মূল্য নেই। এখানে সেফুদার একটি কথা বলি। সেফুদা যখনই ফৌনকল করেন, সেফুদা উনার স্টাইলে প্রথমেই লাভ ইজ পাওয়ার বলেই বলেন, গরীব। তো আমি গরীবের কথার মূল্য থাকতে নেই যে।
শেখ হাসিনার ভুল। ওটা বহুবার বহু কলমে উনার ক্ষমতা থাকাকালীন লিখেছি, প্রশ্ন করেছি তবে কেউ কানে তুলেনি। আজকে গরুর চর্বনের মতন কিছুটা অংশ চর্বন করবো। গরুর চর্বন মানে, গরুর চিবিয়ে খাবার গ্রহণ ও হজম করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। গরু মূলত একটি রুমিন্যান্ট প্রাণী অর্থাৎ গরুর পাকস্থলীর চারটি অংশ থাকে এবং তারা খাবারকে আবার মুখে ফিরিয়ে এনে পুনরায় চিবায়। আমিও সেই সব পুরান লেখা বা বলা কথাগুলোই সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরছি। জানি না কারো হজম হবে কিনা?
শেখ হাসিনার ভুলের লিস্ট অনেক লম্বা। তবে সবচাইতে বড় ভুল ছিল, সবাইকে শত্রু বানানো। রাজনীতিতে সবাইকে শত্রু বানিয়ে টিকে থাকা দায়। বিদেশ থেকেই শুরু করি। সাহসী ছিল অবশ্যই তারপরেও বাংলাদেশের মতন রাষ্ট্রের প্রধান মার্কিন মুল্লুকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে (জন ক্যারি) টেলিফৌন কলে (ক্যারি নিজেই ফৌনকল করেছিল) মুখের উপর বলে দেওয়া, “শুনুন (listen)” অতঃপর আলাপের সমাপ্তি না হওয়া। হিলারি ক্লিনটনকে মুখের উপর দুই কথা শুনিয়ে দেওয়া। এগলো সাহসী ভূমিকা বটে এবং জনগণ সেই সময়ে বেশ প্রশংসাও করেছে, হীম্মতওয়ালা প্রধানমন্ত্রী বলে তবে প্রশ্ন শত থেকেই যায় কেননা রাষ্ট্রটি বাংলাদেশ বলে। তবে হ্যা যদি এমনটা হতো, সমগ্র রাষ্ট্রের জনমানুষ সরকারের পাশেই আছে এবং জাতীয় সংকটে সকল রাজনৈতিকদল একত্রিত হয়ে যায় এমন ন্যাশন আমরা, তাহলেও একটা ভিন্ন বিষয় ছিল। রাষ্ট্রের জনমানুষেরা এমন সাহসী রাষ্ট্র প্রধান মনে মনে আশা করে তবে আমরা আবার এমন জাতি যে, নেতাকে সামনে ঠেলে দিয়ে তামাশা দেখতেও ভালবাসি কিন্ত। জানি না বিষয়টি অনুধাবনীয় হলো কিনা।
দেশের ভিতরে এমন কোন রাজনৈতিক দল ছিল না, যে বা যারা আওয়ামী ও সরকারের শত্রু ছিল না। মূলত সরকার সবাইকে শত্রু বানিয়ে ফেলেছিল। কোন কারণে সরকার খালেদা জিয়ার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল? আজও আমার বুঝে আসেনি। কোন কারণে এতিমের টাকা এতিমের টাকা বলে খালেদা জিয়াকে জেলে ভরে রেখেছিল? আজও বুঝলাম না। হ্যা নিয়মের ব্যত্যয় ছিল তবে টাকার পরিমাণ বেড়ে ছিল। তবুও খালেদা জিয়াকে চোর চোর বলেই গেছে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে দলের বড় বড় নেতাগণেরা। কোন কারণে চিকিৎসার জন্য বৈদেশে যেতে না দেওয়া। আজও বুঝিনি। বৈদেশে গিয়ে ষড়যন্ত্র করে সরকার ফেলে দেবে। এইতো ছিল ভাবনা। তাই নয় কি? অতঃপর পেরেছেন কি ষড়যন্ত্র ঠেকাতে? এমন বহু ভুলের কথা উল্লেখ করা যাবে। সেই সময়েও বারবার প্রতিবার লিখেছিলাম, ভুল ভুল ভুল। তবে কেউ কথা শুনেনি। জানি না, আজকের দিনে আওয়ামীদের উপলব্ধি হয় কিনা?
কতবার লিখেছিলাম, সরকারের দলীয় লোকজন চুরি- দূর্নীতি করছে। অন্ততপক্ষে দেশের টাকা বাহিরে নেবার সুযোগ দেবেন না। চুরি করছে তবে দেশের টাকা দেশেই ইনভেস্ট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করুন। অন্ততপক্ষে কর্মের সংস্থান হবে। মানুষের আয় উপার্জন থাকলে সরকার ভাল অবস্থানে থাকে এবং জনগণ নিজেদের ধান্দায় ব্যস্ত থাকে। তাছাড়াও দেশের টাকা চুরি করে দেশে ইনভেস্ট করলে চোরেরা কচ্ছপের মতন মাথা বেশি বের করবে না। বাড়াবাড়ি করবে না বা করার হীম্মত দেখবে না। ও হ্যা ভাববেন না যেন, আমি দূর্নীতকে উৎসাহিত করছি। ওটা ছিল দূর্নীতিগ্রস্থ দেশে আপত সমাধানের একটি বয়ান। ভুলে যাবেন না আমরা মূলত সবাই দূর্নীতির আপন ভাই। কেবলমাত্র সুযোগের অভাব। এমন কঠিন বচনে গোস্বা না করে বাস্ততা উপলব্ধি করুন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন, উত্তর মিলে যাবে যদি সতার সাথে উত্তর খুঁজেন। শেখ হাসিনার কথায় দলের লোকজন একঘাটে সবাই মিলে ঘোলা জল পান করত বা বাধ্য হতো, এটা প্রমাণিত সত্য। ইচ্ছা করলেই শেখ হাসিনা চুরি- দূর্নীতির টাকা দলের চোরদের ধমক দিয়ে দেশেই ইনভেস্ট করাতেই বাধ্য করতে পারতেন। সেই সময় লিখেছিলাম, প্রয়োজনে বড় বড় মাত্র দুই- তিনটাকে ঝুলিয়ে দেন দ্রুত বিচারের নামে। বিচার ভুল হবে না কারণ আপনি জানেন কারা সত্যিই বড় চোর এবং ঝুলিয়ে দিলেই দেশের জনগণ বাহ্ বাহ্ বাহ্ করে আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবেই হবে। কথা শুনেননি এবং এত সাহসী নেত্রী হয়েও সাহস দেখাতে পারেননি। আপনার মুখে যে বচনই থাকুক না কেন, ভিতরে ভিতরে আপনি ছিলেন ভিতু ও মৃত্যু ভয়ে। কে বা কারা দল থেকেই খন্দকার মোশতাক হয়ে যায়। এটাই ছিল আপনার ডর। এখন কি খন্দকার মোশতাকদের অভাব হয়েছে?
ভোটটার বারোটা বাজিয়েছেন। এই রাষ্ট্রে ভোটটার সরাসরি ধর্ষণ আপনার হাত দিয়েই হয়েছে। তারপরেও বিরাট সুযোগ কিন্ত বিএনপির মতন প্রতিদ্বন্দ্বী দল আপনাদের দিয়েছিল। ১৮ ‘র নির্বাচনে সমঝোতার মাধ্যমে সবাই অংশগ্রহণ করলো অথচ আপনি সেই সমঝোতার মূল্যায়ন করলেন না। লোকমুখে শোনা যায় ১৮ নির্বাচনে বিএনপিকে ১০০ এর বেশি সাংসদ দিয়ে সংসদে বৃহত্তর বিরোধী দল করার কথা ছিল। শুনেছি, বিএনপির আপত্তি ছিল না (সত্য- মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবো না)। বিএনপি সংসদে ঢুকতে চেয়েছিল বহু সাংসদ নিয়ে। সেটাও হতে দেন নাই। বিএনপির মাত্র সাতজন সদস্য নিয়ে সংসদে ঢুকাও কিন্ত ওমন শোনা কথার প্রমাণ দেয়। দলের আনাচে- কানাচে দলের চেয়েও ক্ষমতাবানদের হাতে কট হয়েছিলেন। আপনি একবার ধমক দিলে ওইসব আনাচে- কানাচের নেতারা বঙ্গপো সাগরে ভেসে যেতো। বিএনপিকে ১৮ তে সংসদে মর্যাদার সাথে ফিরিয়ে এনে, খালেদা জিয়াকে সম্মানিত করে, সমঝোতার সাথে ২৪ ‘র নির্বাচনে একটা প্রকৃত গণতান্ত্রিক ভোটের ব্যবস্থা করতে পারতেন। রিপেরিং করার সুযোগটা বিএনপি দিয়েছিল তবে আপনার তথাকথিত উপদেষ্টাদের মগজে বিষয়টি ঢুকেইনি এবং আপনিও দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ হয়েও রাজনীতির প্যাচানো সুপথটি অনুধাবন নিতে সক্ষম হননি। অনেকেই বা প্রায় সবাই বলে, আপনি ছিলেন দলের মাঝে খোদাসম ক্ষমতার অধিকারী। আমি সেই সময়েই (১৮ ‘র নির্বাচনের পরে) লিখেছিলাম, আপনিই হলেন দলের সর্বোচ্চ দূর্বল ও হীম্মতহীন নেত্রী। আজকের দিনে সেগুলো সব প্রমাণীত হচ্ছে।
ভাল করে লক্ষ্য করুন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শত চেষ্টা করেও আপনার ব্যক্তিগত দূর্নীতি তছনছ করেও খুঁজে পাচ্ছে না। আপনার সকল ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করে সর্বসাকুল্য কোটি টাকার বেশি খুঁজে পেলো না। যা একজন প্রধানমন্ত্রীর একাউন্টে একান্তই সম্ভব। কি লাভ হলো নিজে শুদ্ধ থেকে? সেই সময়ে কত শতবার লিখেছি, এই চুরি চামারি আপনাদের নৌকাকে চিরতরে ডুবিয়ে দেবে। আজকের দিনে সেই সব চুরির টাকা থেকে কয়টা টাকা দলের বিপদে দলের সাধারণ নেতা- কর্মীরা উপকৃত হচ্ছে। বেশ জেনে শুনেই বলছি, আপনার দলের সাধারণ নেতা- কর্মীরা আজকের দিনে রাস্তায় রাস্তায় হাত পাতে, রিক্সা চালায়, পেটে ভাত যোগাতে পারছে না এবং উপরন্ত হামলা- মামলার শিকার অথচ এই সাধারণ নেতা- কর্মীরা ছিল দলের আসল শক্তি তবে এদেরকে আপনি পাশে নেননি। পাশে নিয়েছিলেন চোর বাটপারদের এবং রক্তের তাপসদের। যে তাপসেরা আপনাকে ফেলে বিমানবন্দর থেকে আপনাকেই বলে, আমাকে যেতে দিতে বল অথচ আপনি তখন বলি হবার সামনে।
আপনি অন্তত একটি কাজ জাতির ইজ্জতের জন্য করেছিলেন। এটা স্বীকার না করাটা হবে আপনার প্রতি অন্যায় ও অবিচার। যুদ্ধাপরাধীদের ঝুলিয়েছিলেন। বিচারকী আদালতে হ্যান- ত্যান ভুল, ওগুলো শত প্রশ্ন উঠুক না কেন, বাস্তবিক সত্য হলো, ভুল কাউকেই ঝুলানো হয়নি। যাদের ঝুলিয়েছিলেন, সবগুলো ছিল বাস্তবিক যুদ্ধাপরাধী। বিচারে হেরফের থাকলেও কঠিন সত্য হলো অন্ততপক্ষে সঠিক কিছু বড় বড় যুদ্ধাপরাধীদের ঝুলিয়েছিলেন। যে কেউ আইন আদালত দেখিয়ে তর্ক করতেই পারে তবে যারা তর্ক করবে তাদের নিজেদের ভিতরেই আইন আদালত কতটুকু আছে? সেটাও একটি প্রশ্ন বটে। তবে ভুলটি করেছিলেন, জামায়াতের মতন সর্পকে ধ্বংস করতে গিয়ে বন্ধু রাখলেন না পাশে। একসাথে বিএনপি ও জামায়াত মোকাবিলা করাটাতো সহজ বিষয় নয়। অযাচিত বিএনপিকে শত্রু বানিয়ে বিপদের আকাশে মেঘের জমা করেছিলেন। আজকে সেটার ফলাফল ভুগছেন অথচ বিএনপিকে আপনার শত্রু বানানোর কোন প্রয়োজনই ছিল না। যেহেতু যুদ্ধাপরাধীদের ঝুলিয়েছিলেন (জানি বিএনপি পক্ষে ছিল না), তাই সেখানে রাজনৈতিক কৌশলে বিএনপিকে পাশে রাখাটা হতো সঠিক রাজনীতি। সেখানে আপনার ছিল ভুল আর ভুল। যা হোক, মোদ্দা কথা ভুল হবেই কাজ করলে তবে রাজনীতিতে এত ভুলের মাসুল গুণতেই হয় কেননা গণতন্ত্র রাজনীতির মূল বয়ান এবং শত ভুলে গণতন্ত্রের হত্যা কখনোই জনমানুষেরা মেনে নেয় না এবং এটা জনমানুষের ভাল ভাবনা বলেই মনে করি।
তারেক জিয়ার সাহসিকতার কথা বলেই শেষ করব। তারেক জিয়া সাহসী নেতা অথবা সাহসী নয়, ওগুলো বলার আগে কিছু উপসর্গ তুলে ধরতেই হয়। বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে বিএনপির রাজনীতিই একমাত্র বিপদজনক অবস্থাতে নেই। সার্বিক অর্থেই দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ধ্বস সর্বত্রই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একপ্রকার জাতীয় রাজনৈতিক ধ্বস বেশ লক্ষ্যণীয বটে। তারেক জিয়া আপনি জাতীয় রাজনৈতিক নেতা। স্পষ্টতই মনে করি যে, জাতীয়ভাবে রাজনৈতিক ধ্বসে শুধুমাত্র বিএনপির জন্য নয়, সামগ্রিক রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্যও তারেক জিয়ার ঘাড়ে অনেক কিছুই বর্তায়। বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে তারেক জিয়ার মতন একজন জাতীয় রাজনৈতিক নেতার জাতির স্বার্থেই সেই দায়িত্ব পালন করা বাঞ্ছনীয় বলেই মনে করি। যদি তারেক জিয়া আপনি এমন ক্রান্তিকালেও নিজ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ না করেন, ওটা হবে বিএনপির জন্য এবং খোদ তারেক জিয়া আপনার জন্যও রাজনৈতিক ভূমিধ্বস।
এতদিন প্রয়োজনেই বৈদেশে বসে থেকে দলের নেতৃত্ব প্রদান করেছেন এবং দলকে মোটাদাগে বেশ শক্তভাবেই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন এবং বিএনপি আপনার সার্বিক বিয়য়াদি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে হাজার মাইল দুর থেকে ভার্চুয়াল নেতৃত্বকে সর্বোচ্চ সম্মান ও সমর্থনের সাথেই গ্রহণ করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেহেতু আপনার ঘাড়ে আর কোন খড়গ নেই (যেভাবেই হোক), এখনও যদি একজন সাহসী নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে না পারেন তাহলে লিখে রাখুন, এই রাজনীতির অপরাজনীতি আপনাকেও চিরতরে ভাগারে ফেলে দিবে এবং সেদিন আপনার আপন দল বিএনপির লোকেরাও আপনার সমালোচনায় অবতীর্ণ হবেই হবে এবং আপনাকে সর্বোচ্চ ভিতু নেতার খেতাব দিবেই দিবে। এখনও যদি সাহসী ও শুদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তা করে, দেশে না এসে সাত সমুদ্র তের নদীর পার থেকেই নেতৃত্ব চালাতে চান, ওটা হবে সর্বোচ্চ ভুল এবং এই ভুলের মাশুল গুণতে তৈরী থাকতে পারেন তবে সেদিন আর মাশুল গুণে কোন কাজেই আসবে না, শুধুমাত্র বড় বড় লম্বা শ্বাস নেওয়া ছাড়া।
জনাব তারেক জিয়া, আপনার পিতা জিয়াউর রহমান সাহেব ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আপনি কোন অবস্থাতেই বিএনপির কিছু উঠতি আর বাড়তি নেতা- কর্মীদের অকাজকে যদি এখনই শক্ত হাতে দমন না করেন, ওটা হবে আপনার রাজনৈতিক চরম ভুল। উদহারণস্বরুপ বলছি, ৩২ ভাঙা বা মুক্তিযুদ্ধকে অপমান অপদস্থ করার পিছনে জামায়াত শিবিরের ভূমিকা সর্বোচ্চ তবে কিছু জ্ঞান বহির্ভূত কাজ করে সকল দুর্নাম কুড়াচ্ছে আপনার দল বিএনপি। ৩২নং দখল নিলাম/ তারেক ভাই… হ্যান- ত্যান ইত্যাদি। ওটা যে রাজনীতিতে কতবড় গর্হীত কাজ হয়েছে অথচ আপনি এমন গর্হীত কাজের বিপরীতে একটি বচনও উচ্চারণ করলেন না এবং দলের গর্হীত কাজকে নিরুৎসাহিত করলেন না। কি ভেবেছেন? এমন কাজে আপনাকে সম্মানিত করবে কি রাজনৈতিকভাবে? যেহেতু আপনি বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করেননি তাই স্পষ্টতই বলছি, এটা আপনার চরম ভুলের একটি চরম রাজনৈতিক ভুল। এভাবে বহু বলা যাবে। আপনি নিশ্চয়ই সব অবগত আছেন। আমরা সাধারণ জনগণ আওয়ামীদের আমলে আওয়ামীদের বলেছি কথা শোনেনি এবং দেশের রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে আপনার বিষয়েও বলছি , শোনা বা না শোনা একান্তই আপনার আপন বিষয়
হে সাহসী জাতীয় রাজনীতিবিদ জনাব তারেক জিয়া, যদি ভেবে থাকেন এখনও দেশে সশরীরে এসে দল পরিচালনা করবেন না, তাহলে নিজের নোটবুকে অগ্রীম লিখে রাখুন, আগামীতেও আপনার জন্য এই দেশে ফিরে আসার পথ আরও শতগুণ কণ্টকাকীর্ণ’ হবেই হবে। এমনকি চিরতরে আসার পথ রুদ্ধ হলেও অবাক হব না। স্মরণে রাখুন, আপনার প্রতিপক্ষ কিন্ত বর্তমানে দেশের চরমপন্থী দল জামায়াত ও উগ্র ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো। আপনা পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আপনাদের দলটি মূলত একটি প্লাটফর্ম হলেও মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে নয়। তবে দেশের চরমপন্থী জামায়াত আর উগ্রপন্থী ইসলামিক দলগুলোর কিন্ত মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে না। সুযোগ পেলেই ওরা আপনাকে ও আপনার দলকেও দংশন করবেই করবে। ওরা সেই সুযোগের অপেক্ষামান আছে এবং পথ তৈরীতে মগ্ন আছে কিন্ত। সেদিন আর বিষ নামাতে পারবেন না। কথা প্রসঙ্গেই বলছি, উদহারণস্বরুপ ডাকসুকে ধরে নিতে পারেন। জাতীয় নির্বাচন আর ডাকসু এক বিষয় নয়, ওটা পাগলেও বুঝে তবে ডাকসুর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে সর্বসময় ছিল- আছে এবং থাকবে।
যা হোক, এতটুকু নিশ্চয়তার সাথেই বলতে পারি, আজকে আপনি বাংলাদেশে পা রাখলেই আপনার জোয়ারে রাজনীতির বহু খড়কোটা রাজনীতির নোংরাজলেই ভেসে যাবে। একজন জাতীয় নেতা ও বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে যদি রাজনীতিতে সময়কালের সঠিক হিসেব করতে না পারেন, তাহলে ওটা হবে আপনার এবং আপনার দলের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এমনকি এই দেশের রাজনীতির জন্যও।
জনাব তারেক জিয়া, আমার মতন একজন ক্ষুদ্র ও সাধারণজনের বচনটি গভীরভাবে ভেবে, দোয়া ইউনূস পড়ে (দোয়া ইউনূসতো আপনার নখদর্পণেই/ ওটাতো লণ্ডনেই হয়েছে), বুকে ফু- ফা ও থুতু দিয়ে, বাংলাদেশ বিমানবন্দরে যত দ্রুত সম্ভব নেমে পড়ুন। হে জনাব তারেক জিয়া, সাহসী নেতার ভূমিকা গ্রহণ করুন। লালন বলে গেছেন, সময় থাকতে সাধন করতে হয় যে। থিংক ট্যুয়াইস।
বুলবুল তালুকদার
শুদ্ধস্বর ডটকম

