লতিফ সিদ্দিকী-সাংবাদিক পান্নার জামিন নামঞ্জুর

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধ আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান পান্নার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাস পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

লতিফ সিদ্দিকীর মেডিকেল রিপোর্ট না পাওয়ার কারণে গতকাল জামিন আবেদন করেও তা প্রত্যাহার করে নেন আইনজীবী। আজ আবারও লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল হোসেন ও ইফফাত জাহান রনি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পান্নার পক্ষে জামিন আবেদন করেন ফারজানা ইয়াসমিন রাখী।

লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে মোহাম্মদ কামরুল হোসেন বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এটা কারও অজানা না। ঘরোয়া পরিবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজের বিশিষ্ট লোকদের মব ভায়োলেন্স করে উত্তেজিত হয়ে মারধর করা হয়। তিনি কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলেও জেলে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই ফ্যাসিস্ট, আওয়ামী বানিয়ে দেন। তাহলে কি মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জন আওয়ামী লীগের? অনেক দলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছে। ৮৭ বছর বয়সের একজন লোক। তাছাড়া তিনি অসুস্থ। তার জামিনের প্রার্থনা করছি।’

পান্নার পক্ষে ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, ‘এজাহারে সাংবাদিক পান্নার বিরুদ্ধে একটা সিঙ্গেল লাইনও নেই। আলোচনা সভা করার আগে কিন্তু ডিএমপির অনুমতি ছিল। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে সমাজের ভদ্র মানুষ লাঞ্চিত হলো। যারা লাঞ্চিত করল তাদের বিরুদ্ধে মামলা মামলা না দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলো। তার জামিনের প্রার্থনা করছি।’

শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি’ বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ডিআরইউতে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। এক পর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েক জনকে লাঞ্ছিতও করেন।

হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অপর আসামিরা হলেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, গোলাম মোস্তফা, জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খান, আমির হোসেন সুমন, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, আব্দুল্লাহীল কাইউম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.