ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার বোমাবর্ষণ ও তীব্র হামলায় একদিনে অন্তত ৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কেবল গাজা শহরেই নিহত হয়েছেন ৪৪ জন। এই ভয়াবহ হামলায় পুরো গাজা শহর এখন পরিণত হয়েছে ‘আতঙ্কের নগরীতে’।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের নির্বিচার বোমাবর্ষণে গাজার পাড়া-মহল্লাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। অসংখ্য ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাচ্ছেন এবং যারা আশ্রয়ের সন্ধানে পালাচ্ছেন, তারাও কোথাও নিরাপদ নন। গত ২৩ মাস ধরে চলা এই নির্মম হামলা থামার কোনো লক্ষণ নেই। ইউনিসেফ (জাতিসংঘ শিশু তহবিল) ইতোমধ্যেই গাজা সিটিকে ‘আতঙ্কের নগরী’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজনই শিশু।
হামলার শিকার হওয়া ইসরা আল-বাসুস বলেন, আমি ও আমার সন্তানরা তাঁবুতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ বোমা পড়ল, শরীরে টুকরো এসে লাগল, আমার চার সন্তান ভয়ে চিৎকার শুরু করল।
গাজা সিটির জেইতুন, সাবরা, তুফাহ, নাসর ও শুজাইয়া এলাকায় হামলা সবচেয়ে তীব্র ছিল। তুফাহ পাড়ায় কমপক্ষে আটজন এবং শুজাইয়ায় একটি আবাসিক ভবনে দুজন নিহত হয়েছেন। জেইতুন এলাকা থেকে একটি পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আল-জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালালেও হামলা তাদের পিছু ছাড়ছে না। অনেকেই শেখ রাদওয়ান এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে ইসরায়েলি ট্যাংক ঢুকে ঘরবাড়ি ও তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

