ফ্রান্সে শনিবার ২১ জুন বিশ্ব সঙ্গীত উৎসব ২০২৫ পালিত হয়েছে। এই দিবসের শুরুটা হয়েছিল জুনের প্রথম দিকে ইউএস ইউনেস্কো ১৯৭৫ সালে আয়োজিত “International Music Day” কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে, রেডিও ফ্রান্সে যুক্ত আমেরিকান মিউজিশিয়ান জোয়েল কোহেন ১৯৭৬ সালে “Saturnales de la Musique”‑এর ধারণা দেন, যা সমগ্র সমাজে সঙ্গীত ছড়িয়ে দেওয়ার মনোভাবকে কেন্দ্র করে ছিল ।
১৯৮১ সালে ফ্রান্সে “Fête de la musique et de la jeunesse” নামে একটি উৎসব শুরু হয়। এরপর ২১ জুন ১৯৮২ সালে সাংস্কৃতিক মন্ত্রী জ্যাক লং এবং সঙ্গীত ও নৃত্য বিভাগের পরিচালক মরিস ফ্লোয়ের দ্বারা ‘Fête de la Musique’ নামে একটি জাতীয়, জনসাধারণ উপভোগ্য সঙ্গীত উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ।

📍 কোথায় ও কখন অনুষ্ঠিত হয়?
প্রতিটি বছর ২১ জুন, উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মদিনের দৈর্ঘ্যের কারণে এই দিনটি বেছে নেওয়া হয় । অনুষ্ঠানের স্থান নির্দিষ্ট নয়—শহরের রাস্তা, পার্ক, ক্লাব, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ ইত্যাদি—যে কোনো জায়গাকে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উদযাপন শুরু হয় দুপুর থেকে এবং রাত গভীর পর্যন্ত চলে, সাধারণত দিনভর ও রাত্রিকাল অবস্থান করে ।
এটি সঙ্গীতকে সর্বজনীন, মুক্ত ও উদার করে তুলে, পেশাদার এবং অপ্রথাসঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই সুযোগ করে দেয় ।
এর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: সঙ্গীতের ভাষাকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক স্থাপন ও মানুষের মধ্যে মানসিক সুস্থতা আনা ।

🌍 কোন কোন দেশ এটি পালন করে?
১৯৮৫ সালে প্রথম ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে, ১৯৯৭ সালে “European Charter”–এর অধীনে আন্তর্জাতিক পরিধি বাড়ে ।
বর্তমানে ১২০টির বেশি দেশে অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি পালিত হয়, যেখানে ৭০০–৮৫৪ টি শহর অংশগ্রহণ করে ।
নামভেদে বলা হয়: World Music Day, Make Music Day, Music Day ইত্যাদি ।
অংশগ্রহণকারীর তালিকায় রয়েছে: ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ক্যানাডা, জাপান, নিউ জিল্যান্ড, উরুগুয়ে, কাইপ্রাস, তুরস্ক, সৌদি আফ্রিকা প্রভৃতি ।
প্রতি দেশে নাম আর সময় ভিন্ন হতে পারে—যেমন উরুগুয়েতে এটি অক্টোবর বা নভেম্বরে পালিত হয় ।
ফ্রান্সে Fête de la Musique‑এর রঙিন উৎসবে প্রতিবার নতুন ও বহুমুখী সঙ্গীত, জনতার মুক্ত আবেগ, আর বিশ্বব্যাপী সঙ্গীতের ঐক্য ফুটে ওঠে।
এই দিবসে শুধুমাত্র শোনাই নয়, নিজের হাতেই তৈরি সুর ছড়িয়ে দেওয়াই মূল অংশ—“Make Music!” ।
রাকিবুল ইসলাম, শুদ্ধস্বরের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি।

