“জলের শ্যাওলা”- আগস্ট মাঝামাঝি সময়ে শুদ্ধস্বর পত্রিকাতেই একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম, “বাঘ- ভেড়া- ইউনূস ও ভূ-রাজনীতি”। সেই লেখাতেই বিস্তারিত লিখেছিলাম , “মার্কিনিনীতি ও স্বার্থ” নিয়ে। আজকে নানান খবরে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিতেই আবার শুদ্ধস্বরেই কলম হাতে তুলে নিলাম।
ভূ- রাজনীতি আসলে কি? সম্প্রসারণবাদী ক্রিয়াকলাপকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টাই মূলত ভূ-রাজনীতি। ইহা সরাসরি দখলদার রাজনীতি। ইউনিপ্রজেক্টে ভূ-রাজনীতি ভৌগলিক স্থানের সাথে রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির মিলন অধ্যয়ন করানো হয়। বলাই বাহুল্য যে, এটি একটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিজ্ঞান। এই বিজ্ঞানের ক্রিয়াগুলিকে সমর্থন করার জন্য বিশ্বব্যাপী বহু তত্ত্ব তৈরি করা হয়েছিল, শিক্ষিত- জ্ঞাণী- বিদ্বান ও পণ্ডিতের দ্বারাই এবং চলমান আছে এবং বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ড যতদিন আছে ততদিন থাকবেও। ভাল- মন্দ ভিন্ন অর্থ বহন করে।
এই যে, ছিল- আছে- থাকবে এটাই বাস্তবতা এবং তারচেয়েও বড় বাস্তবতা এই ক্রিয়ায় মার্কিনিদের প্রভাব সব সময় ছিল- আছে এবং থাকবে। এর পিছনে বহুবিধ কারণ লুকায়ীত আছে। সহজ কারণ ক্ষমতা বা প্রধান কারণ বলা যায় বিশ্বব্যাপী মার্কিনিদের প্রভাব বিস্তার রাখা। কেন আমি আবার এই ভূ-রাজনীতির কথা বলছি? এবং কেন আমি মার্কিনিদের প্রভাবের কথা বলছি?
খবর এসেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হ্যান্ড করবে- ত্যাগ করবে। আমি আর বিস্তারিত খবরে যাচ্ছি না। ওগুলো হয়তো নানান মাধ্যমে সবার ইতিমধ্যেই বেশ জানা হয়ে গেছে লেখাটি ছোটো করে অল্প কথায় বলছি:
বাইডেন বা ট্রাম্প কে মার্কিন মুল্লুকের চেয়েরে? তাতে মার্কিনিদের মূল নীতিতে কোন পরিবর্তন হয় না এবং কখনোই হয়নি। যদি কেউ ভাবেন ট্রাম্প বিনা স্বার্থে বাংলাদেশকে ভালবেসে, এমনকি আ’লীগের সরকার শেখ হাসিনাকে মার্কিনিদের অর্থে বিদায় করেছে বলে, সেই দুঃখে, হাসিনাকে ক্ষমতায়ন করতে চায়, তাহলে ভুলের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। সময়ে তা হারে হারে টের পাবেন, লিখে রাখুন।
ট্রাম্প নিজেও তার পক্ষে যে দলই সমঝোতায় আসবে, হোক সেটা বিএনপি- আ’লীগ- দেশবিরোধী জামায়াত কিংবা বর্তমান ইউনূস সাহেব, সেই দিকেই ধাবিত হবে। তবে হ্যা ট্রাম্প যুদ্ধ বিগ্রহ বাঁধাবে না। নীরবে সম্মতি নিয়েই এগুবে। সুতরাং যে দলই হুজুরে মার্কিনি ট্রাম্পের সাথে যাবে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে, সেই দলই আগামীতে দিনের ক্ষমতার ছড়ি ঘুরাবে। আগামীত আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রইল।
স্বীকার করুন আর নাইবা করুন, এখানে ছোট্ট করে একটি কঠিন সত্য বলে যাই, পূর্বের শেখ হাসিনা সরকার ভারতের কাছে বহু স্বার্থ, বাধ্য বা ইচ্ছাকৃত হোক অথবা বুঝে বা না বুঝে হোক জলাঞ্জলি দিয়ে, অত্র অঞ্চলে মার্কিনিদের ঠেকিয়েছিল। এই যে এত এত বেশি শেখ হাসিনার সরকার দিয়েছিল, বিনিময়ে কেবলমাত্র বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভৌগলিক সমস্যার সমাধান করে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার বাংলাদেশ করতে পেরেছিল মাত্র। এটাও মহাসত্য যে, অত্র এশিয়া অঞ্চলে আমরাই একমাত্র দেশ যে দেশের একটি ভৌগলিক নির্দিষ্ট সীমা রেখা আছে। ওবে আফসোসের যে, মোটা মাথার ভারত সরকার সেটার প্রতিদান দেয়নি দাদাগিরির কল্যাণে। আগামীতে ইহাও সত্য হইবে যে, বর্তমান বাংলাদেশ মার্কিনিদের যে নতুন প্রভাব বজায় হয়েছে বাইডেন সরকারের কল্যাণে, সেই প্রভাবের কারণে ভারতকে বেশি খেসারত গুনতে হবে। কিভাবে? ওই বিষয়ে সময়ে লেখার ইচ্ছা রইল।
একটি উদহারণ দেই। ভারতেও সরকার পরিবর্তন হলে, নীতির দিক থেকে ভারতও বেশ একাট্টা থাকে মার্কিনিদের মতন। ভারতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, একই নীতি বহাল রাখে। স্মরণ করুন, মোদী যখন প্রথমবার জয় লাভ করলো, তখন মনে হয়েছিল আওয়ামী সরকারের দিন শেষ। ভারত বিএনপির সাথেই সমঝোতার পথ খুঁজে নিবে। আরও স্মরণ করুন, সেই সময়ে মধ্যেই রাতে ভারতের দূতাবাসের দরজা খুলিয়ে বিএনপির উচ্চমার্গের নেতারা খুশিতে আটকানা হয়ে ফুল দিয়ে মোদীকে শুভেচ্ছা/ সালাম দিয়ে এসেছিল। তবে আ’লীগ ভারতের কাছে যেভাবে নত হয়েছিল, বিএনপিকে মোদীর আর প্রয়োজন হয়নি। তাছাড়াও ১০ ট্রাক অস্ত্রের কল্যাণেই বিএনপি ভারতের কাছে একটি বিভীষিকা অর্থের দল ছিল।যে।
যা হোক, বাস্তবতা হচ্ছে অত্র অঞ্চল মূলত চীনের কারণেই ভৌগলিকভাবে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক দিকে ভাল যায়, আমরা সেই একই কারণে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠেছিল বিশ্বের বুকে। তবে সেটার মূল্যায়ন আমরা কতটা অনুধাবন করি? সেটাই বড় প্রশ্ন এবং এই প্রশ্নের সমাধান মূলত আমাদের রাজনীতিবিদদের হাতে। আমরা জনগণ অবশ্যই সহায়ক ভূমিকায় বড় শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারি যদি আমাদের রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম বাস্তবিক অর্থেই জাগ্রত থাকে।
বুলবুল তালুকদার
শুদ্ধস্বর ডটকম

