“জলের শ্যাওলা”- প্রথমেই বলি: এতটা উচ্ছ্বসিত হবেন না কেননা ট্রাম্প বিশ্বের ভিন্ন কোন দেশের প্রেসিডেন্ট নন, স্মরণে রাখুন তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মানেই বিশ্ব শাসক। স্রেফ বিশ্ব শাসকের নির্বাচন পূর্ব একটি ট্যুইট বার্তা নিয়ে এতটা লম্ফঝম্প (Jumping about) না করে একটু ধীরস্থির থাকাটাই উত্তম কেননা একজন পূণরায় ফিরে আসা আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে তাদের অভ্যন্তরীণ বহু নীতির বহু পরিবর্তন আনলেও, বৈদেশনীতিতে খুব বেশি ঘষামাজা করবেন না কারণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যিনিই হোন না কেন, বৈদেশনীতিতে একজন প্রেসিডেন্টের হাত বহু রশিতেই বাঁধা থাকে। তবে হ্যা ট্রাম্পের জয়ের কল্যাণে বহু সাংকেতিক আশঙ্কা কম প্রশমিত হবার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে তবে আমেরিকার স্বার্থ বিরোধী কোন কিছুই হবার নয়।
নিশ্চয়ই সবার স্মরণে আছে, ২০২০ সালের নির্বাচনের পর, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেন, সেই সময়েই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, “তিনি আবার ফিরবেন এবং ফিরবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে”। যদিও সেই সময়ে সবাই হাফ ছেড়ে বাঁচে এবং ট্রাম্পের কথাগুলোর কোন মূল্যায়ন কেউ করেনি।
২০২০ সালে জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হবার পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ অনেকেই দেখে ফেলেছিলেন কেননা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চরম বিশৃঙ্খলা এবং অনেক রিপাবলিকান সদস্যের বিরোধিতা, এমনকি ট্রাম্পের নিজের দলের সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল। কিন্তু আজ তিনি এবং তার অনুসারীদের সমর্থনে পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসলেন এবং একজন বিশাল সমর্থনপুষ্ট নেতা হিসেবেই। বলাই বাহুল্য যে, তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দৃঢ়ভাবে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন এবং আপন বচনের প্রমাণ রাখতে সক্ষম হলেন- স্বাগতম।
একটি বিষয় উল্লেখ করতেই হয় যে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ট্রাম্প তার প্রচারণা শুরু করেন বটে তবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে শুরু হয়। আইনি মামলা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ব্যক্তিগত বিতর্ক তবুও তিনি ক্রমাগত জনমতকে নিজের পক্ষে আনতে বেশ সক্ষম হয়েছিলেন। তবে একথা অস্বীকার করার কোন উপায় ছিল না যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস যখন বিরোধীদল থেকে সমর্থন পায়, ট্রাম্পকে বেশ বড় রকমের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল এবং যা নির্বাচনের ফদাফলেও বেশ লক্ষ্যণীয।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন বলেই হয়তো অনেকের উপলব্ধি হচ্ছে না, কতটা কড়া পরিশ্রম আর সাধনার মধ্য দিয়েই ট্রাম্প কে ফিরে আসতে হয়েছে। পরিকল্পনাটি অতটা সহজ ছিল না ট্রাম্পের জন্য। অনেক কাঠখড় পুড়িয়েই ট্রাম্পকে ফিরতে হয়েছে সকল নেগেটিভ অবস্থান থেকে কেননা ২০২০ এর পরে ট্রাম্পের পক্ষে কিছুই ছিল না। উল্টো ছিল শত নেগেটিভ প্রচার ও প্রচারনা একজন সর্বোচ্চ বাজে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে।
একটু পিছনে ফিরে যদি দেখি তাহলে, প্রজেক্ট ২০২৫- প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশন প্রজেক্ট। ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্সির রূপান্তরের জন্য প্রকল্পটি ছিল মূলত রিপাবলিকান পার্টির বিজয়ের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের নির্বাহী শাখাকে পুনর্নির্মাণ করার একটি পরিকল্পনা। যা ২০২৪ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গ্রহণ করা হয়। ২০২২ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে পরবর্তী রিপাবলিকান জয়ের লক্ষ্যগুলিকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল যদিও প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীরা একটি নির্দিষ্ট প্রার্থিতা প্রচার করতে পারে না, তবে লক্ষ্যণীয ছিল যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ২০২৪ সালের মতামত, বিবৃতি এবং পরিকল্পনার সাথে অনেক সংযোগ ছিল রাষ্ট্রপতির প্রচারণায়।
এই পরিকল্পনাটি “ইউনিটারী এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ” তত্ত্বের একটি সর্বোচ্চ সংস্করণের অধীনে সমগ্র মার্কিন নির্বাহী শাখার দ্রুত দখলকে জড়িত করে, যা ধারণা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি তার অভিষেক হওয়ার পরে নির্বাহী শাখার উপর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রাখবে। এই উদ্যোগটি হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে ছিল এবং এটি মূলত একটি আমেরিকান জাতীয়তাবাদী- রক্ষণশীল থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। রার নেতৃত্বে চার্লি কার্কের বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ সহ প্রায় ৮০ জন অংশীদার জড়িত ছিল। কনজারভেটিভ পার্টনারশিপ ইনস্টিটিউট (সিপিআই) সহ ট্রাম্পের প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ মার্ক মিডোস সিনিয়র পার্টনার হিসেবে, সেন্টার রিনিউয়িং আমেরিকার জন্য, যা প্রাক্তন ট্রাম্প নিয়োগকারী অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট এবং বাজেট ডিরেক্টর রাসেল ভাটের নেতৃত্বে সমালোচনামূলক জাতিতত্ত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং ট্রাম্পের প্রাক্তন প্রধান নীতি উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের নেতৃত্বে ছিল MAGA-এর অধীনে আমেরিকা ফার্স্ট লিগ্যাল।
প্রকল্প ২০২৫ সালে মার্কিন সরকার জুড়ে ব্যাপক পরিবর্তন- পরিবর্ধন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতিতে আনবে। ফেডারেল সরকার এবং ফেডারেল সংস্থাগুলো এমন ভূমিকার কল্পনা করা রয়েছে৷ ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (সংক্ষেপে DOJ) এর তহবিল, কেন্দ্রীয় মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI) এবং “হোমল্যান্ড সিকিউরিটি” বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এগুলোতে পরিকল্পনা মাফিক বহু পরিবর্তন আসবে।
যা হোক, ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। আগামীতে দেশ ও বিদেশ নীতিতে মার্কিন প্রশাসনের বহু নতুন নতুন পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েই তিনি হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করবেন। তার লক্ষ্য হচ্ছে সরকারের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা, অভিবাসন আইন এবং অন্যান্য নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্গঠন করা। রাজনৈতিক বাধা ও আইনি ঝুঁকি পেরিয়ে এ অবস্থানে পৌঁছানো ট্রাম্পের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বিরল অর্জন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রত্যাবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এবং রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় বহু বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষক সহ বাংলাদেশের বহু সাধারণ জনমানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে কারণটি উপরেই উল্লেখ করেছি, রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ট্যুইটকে ঘিরেই এবং সেই আলোচনা এখন আরও জোরালো হয়েই সামনে আসবে বটে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বহু অতীত থেকেই মার্কিন রাজনীতিকদের, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট নেতাদের সাথে ভালো সম্পর্ক দেখা গেছে।
অনেকের ভাবনাতেই ভাবনা শুরু হয়েছে, ট্রাম্পের জয়ে বাংলাদেশের জন্য কী হবে? ভারতই বা এখানে কতটা ফ্যাক্টর হতে পারে? ড. ইউনূসের সাথে মার্কিন রাজনীতিকদের সম্পর্ক কি ভিন্ন কোন ভূমিকা রাখবে, এই সম্পর্কে? এই ভাবনাগুলো নানাবিধ কারণেই এবং অনেক বাস্তবতাও আক্ষরিক অর্থেই জড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং লেখক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, যেহেতু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়েছে, ভারতের সাথে ট্রাম্পের ভিন্ন একপ্রকার মধুর সম্পর্কের কারণে অত্র এশিয়া অঞ্চলে ভিন্নতর পরিস্থিতির দেখা মিলবে। এমনকি বিশ্লেষণে কমলা হ্যারিসের বিষয়ে উল্লেখ আছে, কমালা হ্যারিস জয়ী হতে পারলে বর্তমান সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্য বজায় থাকতো, ইহাও স্বাভাবিক ছিল। তিনি আরও মনে করেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগলিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ দেশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে দু’দেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবেই।
কুগেলম্যান স্পষ্ট করে বলেন, আমার মনে হয় না ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান সম্পর্কের কাঠামোকে সমর্থন করবেন, যেখানে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে উন্নয়ন, সংস্কার ও অন্যান্য সহায়তা বা সমর্থন করছে। ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রদানের উপর জোর দেয়ার মত সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী হবে না- বিবিসি বাংলাকে বলেন মিঃ কুগেলম্যান।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়াতে একটি বিষয় ধারণাই করা যায়, বিশ্বজুড়েই আমেরিকার মানবিক সহযোগিতার জায়গা অনেকটাই কমে আসতে পারে, যা ট্রাম্পের একটি লক্ষ্যও হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য অনিশ্চয়তার জায়গা হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুটি থাকতে পারে কেননা জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য যে সহায়তা আসে, তার একটা বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে বলে।
যা হোক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসার পরে বহু কিছুর পরিবর্তন হবে কেননা আমেরিকার ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠিক প্রথাগত কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা হয় না। ট্রাম্প যেভাবে বৈদেশিক নীতির জায়গাগুলো বিবেচনা করেন, সেটি ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকাটাই স্বাভাবিক বটে। এখানে একটি কথা আমাদের স্মরণে রাখা ভাল যে, সাধারণত আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বদল হলেও বৈদেশিক নীতিতে খুব বড় পরিবর্তন হয় না। এর পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা বা কাঠামোগুলোর একটা শক্তিশালী ভূমিকা থাকে বরাবরই। যদিও ট্রাম্প কিছু প্রচারণায় প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের কথা বলছেন বটে। সেটা কত দূর হতে পারবে? সেটাও একটি প্রশ্ন বটে কেননা বিষয়টি আদৌ পররাষ্ট্রনীতির জায়গা থেকে কতটা সম্ভব হবে বা প্রভাব রাখতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যায়।
একটু লক্ষ্য করুন, বাংলাদেশে বিগত কয়েকটি নির্বাচনের গ্রহণযেগ্যতা নিয়ে আমেরিকা প্রথমে শক্ত অবস্থানে থাকলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থনই একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেখানেই ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের সাথে ট্রাম্পের সম্পর্ক এবং যৌথ প্রভাব কতদূর যায়, তা কেবলমাত্র সময়ের উপরেই রাখা যায়। তবে একটি কথা স্পষ্টতই লেখার শেষে বলছি, “যুদ্ধ জয়ী স্বাধীন বাংলাদেশকে যে কোন সরকারের আমলেই আপন দর্শন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা আর জাতিগত আপন সংস্কৃতির প্রতি সর্বদাই কঠিন অবস্থান ঠিক রেখেই বৈদেশিক নীতির সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা উচিত। যা আমাদের সংবিধানের অংশও বটে”।
সুতরাং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত নয়, তাদের উপর আশা- ভরসা না করে, নিজেদের গণতন্ত্রের জন্য আপন রাজনীতিবিদরাই নিজেদের শতভাগ শুদ্ধ করে আমাদের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক, সেটাই নিশ্চয় যুক্তিযুক্ত চাওয়া হবে এবং নিশ্চয়ই ওমনটাই আমাদের চাওয়া। দেশের বর্তমান সরকার যেভাবেই বর্তমানে থাকুক না কেন, যুদ্ধ জয়ী দেশটির আগামীর কথা ভেবে, মার্কিন মুল্লুক বা ভারতের লম্বা হাতকে খাটো রেখে, আমাদের আপন রাজনীতিবিদদের হাতকে শুদ্ধতার পথ বাতলিয়ে শক্ত রাখাটাই হবে সর্বোচ্চ মঙ্গলজনক। সব শেষে বলি, সব খারাপের পরেও রাজনীতিবিদদের হাতেই দেশ থাকতে হয় কিন্ত।
বুলবুল তালুকদার
শুদ্ধস্বর ডটকম

