মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনওয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফর দুই দেশ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার ঐক্যের প্রতীক। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ মোহাম্মদ হাশিম। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বারনামার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। তারপর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কোনো দেশের সরকারপ্রধান বাংলাদেশ সফর করছেন।
বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশে আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি সফর দেশটির জনগণের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সংহতির প্রতীক।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই সফর ইতিহাসের প্রতিধ্বনি। কারণ, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি মালয়েশিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়।’
এ সময় হাইকমিশনার জানান, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন এবং আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার ২৭ তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল। দেশটির ১৯ তম বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য স্থল ছিল বাংলাদেশ এবং আমদানির ৪৭ তম বৃহত্তম উৎসও ছিল ঢাকা। তবে অঞ্চল বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৭৮ কোটি ডলার।

