উচ্চমাধ্যমিকে পড়া ছেলেটির জন্মসনদ অনুযায়ী বয়স মাত্র ১৬ বছর ১০ মাস, কিন্তু মিরপুর থানা-পুলিশ তার বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করে এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকেলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেয়া হয়।
শিশুটিকে যখন আদালত কক্ষে আসামির কাঠগড়ায় রাখা হয়, তখনো তার হাতে হাতকড়া ছিল। শিশুটি বারবারই বলছিল, তার হাঁপানি রোগ আছে। তবুও তার প্রতি কোনো রকমের সহানুভবতা দেখানো হয়নি।
পরে কিশোরের আইনজীবী আদালতে তার জন্মসনদ জমা দিয়ে তাকে শিশু হিসেবে গণ্য করে মামলাটি শিশু আদালতে পাঠিয়ে দেয়ার আবেদন করেন। এরপর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ শিশুটিকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত চত্বরে এসে ওই কলেজছাত্র সাংবাদিকদের বলেন, তার গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জে। মিরপুরের একটি হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে সে। গত সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর-১০ গোল চত্বরে যায়। তখন পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। সে বারবারই বলেছিল, গত বছর সে মাধ্যমিক পাস করেছে। তার বয়স ১৮ বছর না।
শিশুটির আইনজীবী মোহাম্মদ মইন উদ্দিন বলেন, তার মক্কেল কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নয়। আইন অনুযায়ী, সে শিশু। আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর বিচার কখনো পূর্ণবয়স্ক আসামির সঙ্গে হওয়ার সুযোগ নেই। শিশুদের মামলার বিচার হবে শিশু আদালতে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যখন ওই কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন সে নিজের বয়স ১৮ বছর বলেছিল। এ জন্য মামলার প্রতিবেদনে তার বয়স ১৮ দেখানো হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) চেয়ারপারসন জেড আই খান পান্না বলেন, যে ছেলেটি বলছে, তার বয়স ১৬ বছর ১০ মাস, তাকে কেন মামলায় ১৮ বছর দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য আইনের ব্যত্যয় ঘটাবেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। জবাবদিহি না থাকায় আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের পূর্ণবয়স্ক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। এতে শিশুরা মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সুত্র : চ্যানেল ২৪ ।

