সার্বভৌমত্বের চাবি ভারতের কাছে বন্ধক রেখে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না: রিজভী

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চাবি ভারতের কাছে বন্ধক রেখে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না বলে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার রাজধানীর উত্তরায় তুরাগ থানা বিএনপির উদ্যোগে প্রচণ্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ মানুষদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যালাইন ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে, জনগণের মালিকানা কেড়ে নিয়ে আপনি কি নিজেকে একমাত্র ত্রাণকর্তা মনে করছেন? জনগণ তা জানতে চায়। আপনি জনগণের ভোট ডাকাতি করেছেন। জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চাবি ভারতের কাছে বন্ধক রেখে আর ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না।

পঁচাত্তরের পর দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সবচেয়ে সুষ্ঠু হয়েছে-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনি কী তাহলে স্বীকার করে নিলেন ২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচন ঠিক ছিল না। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো ডামি নির্বাচন। বাংলাদেশের মানুষসহ সারা পৃথিবীর মানুষ এ নির্বাচনকে ধিক্কার জানাচ্ছে।
রিজভী বলেন, এই সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে সবই ডামি নির্বাচন, একতরফা নির্বাচন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। সেই নির্বাচনে জনগণই ঠিক করবে তারা কাদের ক্ষমতায় বসাবে।

তিনি আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন-বিএনপি নেতারা না কী দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন।

আরে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এত মামলা, এত নির্যাতন, তাদের সহায় সম্পদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবইতো ক্ষমতাসীরা দখল করেছে। বিদেশে তো তারা (সরকার) যাচ্ছেন, তাদের আত্মীয়-স্বজনরা যাচ্ছে, যারা লুটপাট করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। ব্যাংক ও মানুষে সম্পদ লুট করেছেন, তারা বিদেশে যাচ্ছেন। লুটপাটকারীরা তাদের টাকা সেখানে রাখতে যাচ্ছেন।

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান এ বৈরি আবহাওয়ার জন্য প্রকৃতি দায়ী নয়। দায়ী হলো আওয়ামী লীগের লুটেরা শ্রেণী। আওয়ামী লীগের অনাচারকারীরা। নদী, নালা, খাল, বিল ভরাট করে, বন-জঙ্গল উজার করে লুটেরা শ্রেণী দেশকে মরুভূমি বানাতে চায়। মানুষ আওয়ামী লীগের লুটেরাদের হাত থেকে পরিত্রাণ চায়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. লতিফ মাসুম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

facebook sharing button
twitter sharing button
skype sharing button
telegram sharing button
messenger sharing button
viber sharing button
whatsapp sharing button

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.