সরকারকে পরাজিত করতে সংগ্রাম আরও বেগবান করবো : মির্জা ফখরুল

সরকারকে পরাজিত করতে সংগ্রাম আরও বেগবান করবো: ফখরুল

সরকার পতনের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা এই সংগ্রাম আরও বেগবান করবো। আমরা বিশ্বাস করি যে, আন্দোলন, আন্দোলন এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পরাজয় নিয়ে আসবো।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমাদের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। কথাও কিছু বাকি নেই। সব তছনছ হয়ে গেছে। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আমাদেরকে জাতীয় ঐক্য অবশ্যই আরও সুদৃঢ়ভাবে গড়ে তুলতে হবে। আগেও বলেছি, চেষ্টা করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, আরও দৃঢ়ভাবে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সেই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে জনগণের শক্তি মধ্যে দিয়েই এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ ও দানবকে পরাজিত করতে হবে।

বিএনপির ২৮ তারিখের সমাবেশে পুলিশ ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা করে বন্ধ করে দিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে ভাবছে, বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ হয়ে গেছে। বিরোধী দলের আন্দোলন নস্যাৎ হয়ে গেছে।

কিন্তু কখনোই না। প্রতিটি আন্দোলনের পরে আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই এটা আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে। আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে, ধীরে ধীরে একটা কিন্তু ইটের পর আরেকটি ইটের স্তম্ভ গড়ে উঠে। সেখানে তাদের (সরকার) অবশ্যই পরাজিত হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, গোটা জাতি, শুধু কোন রাজনৈতিক দল নয় বা ব্যক্তি নয়, শুধু মাত্র পেশাজীবীরা নয়- আজকে আমরা একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। এই প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ছে যে, সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি তার বইতে লেখেছিলেন তার একটি রায়ের মধ্যে বলেছেন যে, একজন মনোস্টার সব কিছু দখল করে নিচ্ছে সব কিছু তচনচ করে দিচ্ছে। আসলে আজকে ব্যাপারটা সেটাই হয়েছে। একজন ভয়াবহ দৈত্য সমস্ত আক্রোশ নিয়ে পুরো বাংলাদেশটাকে তচনচ করে ফেলছে। আমরা এই ১৫ বছরের মধ্যে যখন গণতন্ত্রকে হারিয়েছি সেই সময় থেকে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধবংস করে ফেলা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে যখন গণতন্ত্রকে হারিয়েছি। সেই সময়ে থেকে রাষ্ট্রের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা যাদের উপর বিশ্বাস করি, আস্থা রাখি-গণমাধ্যম। সবচেয়ে আগে আঘাত করা হয়েছে এই গণমাধ্যমে। পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। যারা সত্য কথা লিখেন, লিখতে চান তাদেরকে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন আইনে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়। এই গণমাধ্যমেও রেহাই পায়নি, পায় না। ফ্যাসিবাদ যখন তার সর্বশক্তি নিয়ে আক্রমণ করে তখন কেউ রেহাই পায় না।

জাতিকে রুখে দাঁড়াতে হবে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এটা এখন রাষ্ট্র আছে বলে মনে হয় না। মনে হয় না যে, এটা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র। আমাদের কাছে মনে হয়, পুরোপুরিভাবে একটা আধিপত্যবাদ এবং একটা ভয়াবহ নির্মম ফ্যাসিবাদ আমাদের উপর চেপে বসেছে। এই যুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে আমরা বিরোধী দল এক জোট হয়ে আন্দোলন শুরু করেছি। আমরা যুগপৎ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে একদিকে বাম রাজনৈতিক দল অন্যদিকে ডান রাজনৈতিক দল- সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা সংগ্রাম শুরু করেছি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
ইফতারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জহির উদ্দিন স্বপন, রফিকুল আলম মজনু, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান, আবদুল হালিম, মতিউর রহমান আখন্দ, খেলাফত মজলিসের আহমেদ আবদুল কাদের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.