আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনির ভাইর সাথে আমার পরিচয় ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলাকে কেন্দ্র করে , ২০১৩ সালে অন্যপ্রকাশের সিও মাজহার ভাই ঢাকা থেকে টেলিফোনে জানালেন ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় পরিদর্শনে যাবেন দুজন প্রকাশক ওসমান গনি এবং পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এর কামরুল ইসলাম শায়ক । এর মধ্যে শায়ক ভাই আমাকে ঢাকা থেকে ফোন করে জানতে চাইলেন ইটালি প্রবাসী আইরিন পারভিঙ্কে চিনি কি না , তারা ইটালিও যাবেন , আইরিন পারভিনের নাম্বার আমাকে দিলেন, আমি যোগাযোগ করলাম তার সাথে । ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলাতে আমার সম্পৃক্ততা প্রায় ৪ দশকেরও বেশী , মাজহার ভাই বিষয়টি জানেন , তাই গনি এবং শায়ক ভাইকে আমার রেফারেন্স দিয়েছিলেন । তাদের এই মেলায় আসার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়ভাবে অংশ গ্রহনের সাম্ভাব্যটা যাচাই করা , এর আগে বাংলাদেশ এসেছে কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে নয় ।
যাইহোক , শায়ক ভাই আমার সাথে যোগাযোগ করে তাদের আসার তারিখ জানালেন , আমি বললাম ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্ট থেকে আমি আপনাদের রিসিভ করবো ।তাদের ফ্লাইট ভোরবেলা ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টে অবতরণের কথা, আমি নির্ধারিত সময়ের আগেই ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ২ তে অপেক্ষা করছিলাম তাদের জন্য । যথাসময়ে তারা দুজন আসলেন , সেই প্রথম দেখা তাদের সাথে । তাদের হোটেলে নিয়ে গেলাম, সেখান থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে আসলাম তারপর মেলায় গেলাম, সারা সহর ঘুরে ঘুরে দেখালাম , ফ্রাঙ্কফুর্টের মেয়রের অফিসে সামনে এসে দেখালাম এক নবদম্পতি তাদের বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা সেরে মেয়রের অফিসের গেটের সামনে দাড়িয়ে ছবি তুলছে , গনি ভাই তাদের শুভেচ্ছা জানালেন , তারাও খুব আন্তরিকতার সাথে শুভেচ্ছা গ্রহন করলেন এবং আমাদের সাথে ছবি তুলতে চাইলেন , আমরাও ছবি তুললাম , হাসিখুশি প্রানবন্ত মানুষ গনি ভাই এই জার্মান দম্পতির সাথে আলাপ জমিয়ে দিলেন । গনি ভাই আর শায়ক ভাইর সাথে প্রথম দেখা তাদের কথাবার্তায় আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম , মানুষকে খুব সহজে আপন করে নেয়ার অসাধারণ গুন রয়েছে তার মধ্যে । শায়ক ভাই আর গনিভাইকে নিয়ে মেলায় এলাম , তারা এত বড় একটা বইমেলায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণের বিশেষ করে সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির মেলায় অংশগ্রহনের আশাবাদ ব্যক্ত করলেন , এবং মেলা অথরিটির দক্ষিন এশিয় কর্মকর্তা প্রসস্থি রাস্তগি এবং শবনমের সাথে একাধিক বৈঠক করে ২০১৪ সালে সরকারীভাবে মেলায় অংশগ্রহন নিশ্চিত করলেন ।গনি এবং শায়ক ভাই তখন সৃজনশীল প্রকাশক সনিতির সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক , তাদের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশ নেয় । ফ্রাঙ্কফুর্ট বই মেলায় আসেন ,সংস্কৃতিমন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধান্মন্ত্রিরর বিশেষ সহকারি মাহবুব শাকিল , প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি কবি কামাল চৌধুরী , সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতারি মমতাজসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা, এ ছাড়াও আসেন লেখক কবি মঞ্জুরুল ইসলাম , কবি তারিক সুজাত । প্রায় ১৫টি প্রকাশনা সংস্থাকে এই মেলায় নিয়ে আসেন সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি , এই কৃতিত্ব পাওয়ার দাবী রাখেন ওসমান গনি , কামরুল ইসলাম শায়ক , মাজহারুল ইসলাম । এটা ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহনের ইতিহাসে অন্যতম একটি ঘটনা হয়ে রইলো । বইমেলায় রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের অংশ নেয়াটা আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যেও উৎসাহ উদ্দিপনার সৃষ্টি করে , জার্মান প্রবাসী বইপ্রেমি বাংলাদেশীদের মধ্যেও ওসমান গনি , মাজহারুল ইসলাম , কামরুল ইসলাম শায়ক খুব জনপ্রিয় , বই মেলায় আসলেই প্রবাসীদের জিজ্ঞাসা উনারা কি এইবার মেলায় আসছেন ?
ওসমান গনি বাংলাদেশের প্রকাশক জগতের অন্যতম প্রধান বাক্তি , বহু বড় বড় লেখকের বই তারা প্রকাশ করেন । বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাইরে তার প্রকাসনা সংস্থা আগামী প্রকাশনী অত্যন্ত সুপরিচিত । তিনি ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত বন্ধুবৎসল মানুষ । আমার সাথে প্রথম দেখাতেই তিনি আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন , ঢাকা থেকে আসার সময় বইসহ প্রচুর উপহার সমাগ্রি নিয়ে এসেছিলেন , ধাকার দামী দোকান থেকে মিষ্টিও আনতেন যখন তিনি ফ্রাঙ্কফুর্ট আসতেন । ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি যখন মিডিয়াতে কথা বলতেন তিনি আমার কথা উল্লেখ করতেন এবং অনেকটা বেশীকরেই উল্লেখ করতেন ,এর থেকে তার বড় মনের পরিচয় পাওয়া যায় । তার সাথে সান্নিধ্যও আমাকেও মুগ্ধ করে খুব হাসিখুশি একজন মানুষ , কেউ বিপদে আপদে পড়লে তিনি সবসময়য় পাশে দাঁড়ান আন্তিরিকতা নিয়ে । সামাজিক কাজেও রয়েছে তার সুখ্যাতি । সবমিলিয়ে তিনি একজন অসাধারন মানুষ । আসলে লেখক সৃষ্টি করতেও প্রকাশকদের একটি ভূমিকা থাকে , কলকাতায় যেমন আনন্দ পাবলিশার্সের বাদল বসুর হাত ধরে তেমনি বাংলাদেশে ওসমান গনির হাত ধরে ।

