২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘সন্তোষজনক’ মনে করছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিকেএমইএ বলেছে, এবারের বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পের দুটি প্রধান প্রত্যাশা ছিল। যার মধ্যে কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর বিদ্যুতের সরঞ্জাম আমদানি সহজ করার প্রস্তাব ছিল। দুটি জায়গাতেই এ বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপ সন্তোষজনক।
এতে বলা হয়, শিল্পখাতের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয়ে একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। ফেরৎ প্রাপ্তিটা চেক অথবা ইনস্ট্রুমেন্টাল ফর্মে হতে পারে যা প্রয়োজনে অন্যান্য সরকারি পাওনার সঙ্গে সমন্বয় করা যেতে পারে। বিষয়টি আরও স্পষ্টিকরন করা প্রয়োজন।
রপ্তানিমুখী নন বন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের সুযোগ দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বিকেএমইএ।
তারা বলেছে, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধাগুলো বহাল রাখা এবং বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ইতিবাচক। এ ধরনের নীতিগত ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ট্যাক্স কতটুকু সময়োপযোগী বা বাস্তবসম্মত, তা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ দেশের একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান যা উৎপাদন করে, তা এই মুহূর্তে দেশের মোট চাহিদার দশ শতাংশেরও কম। দেশীয় উৎপাদনকে সেইফগার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরাও একমত, কিন্তু পাশাপাশি ভাবতে হবে সেটা করতে গিয়ে প্রতিযোগী সক্ষমতা হারিয়ে বাজার হাতছাড়া হয় কি না।
তবে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বাজেটে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই বলে মনে করছে বিকেএমইএ।
সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উচ্চ ঋণসুদও বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা দীর্ঘমেয়াদে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। নতুন অর্থবছরের জন্য তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন, যাতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

