অন্তর্জাল থেকে ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’টি সরিয়ে নিন : ড. কানন পুরকায়স্থ

অবশেষে কিছু না লিখে পারা গেল না । কয়েক বছর আগে নজরুলের জন্মদিনে লেখা আমার একটি প্রবন্ধও মনে পড়ে গেল।
এ আর রহমান সাহেবের সুরারোপিত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল এর ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’ গানটি আজ শ্রবণ ও সেবন করলাম। গানটি ১৯৪৯ সালে গিরীন চক্রবর্তী কর্তৃক মেগাফোনে প্রথম গীত ও রেকর্ড করা হয়। হরফ প্রকাশনী প্রকাশিত নজরুলের গানের স্বরলিপির তৃতীয় খন্ডে এই গানটির স্বরলিপি রয়েছে। এই গানটির সুরারোপ নজরুল নিজেই করেছেন। কারন হরফ প্রকাশনী জানিয়েছে যেখানে সুরকারের নাম লেখা নেই, সে ক্ষেত্রে সুরকার নজরুল নিজেই। আলোচ্য গানটির ক্ষেত্রেও তাই। অতএব এই গানটি নিয়ে experiment করার অবকাশ আছে বলে মনে হয় না।
উল্লেখ্য ছাত্র জীবনে এই গানটি আমরা দলবদ্ধ ভাবে অনেক গেয়েছি। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে যে experiment আমরা করেছিলাম তা হলো মূল সুর ও তাল কে বজায় রেখে স্টেজে গানের তালে তালে নৃত্যের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গিরীন বাবু নৃত্য করেননি। আমরা নজরুলের গানের মধ্যে যে ভাবনার ভাস্কর্য রয়েছে, তা উন্মোচিত করার জন্য নৃত্য কে সংযোজন করেছি। সে সময় আমরা হাত উচুঁ করে প্রতিবাদের ভাষাকে ব্যক্ত করেছি। এখন অবশ্য লাঠিসোটা নিয়ে স্টেজে উঠে এই গানটি গীত হতে দেখা যায়। তবে নজরুলের সুরের ব্যতয় ঘটেনি।
রহমান সাহেব যা করেছেন, তাতে আমার কানে ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি, নজরুল যে মিশ্র রাগআশ্রিত সুর ব্যবহার করেছিলেন, তাকে পুরো বিকৃত করলেন। তাই এ আর রহমান সাহেব কে অনুরোধ করব, যেহেতু গানটির একটি ” published notation” রয়েছে, যা এই গানটির লেখক কর্তৃক সৃষ্ট, সেহেতু এটি copyright আইনে protection পাবে। তাই কোর্ট কাছারীর ঝামেলায় না জড়িয়ে অন্তর্জাল থেকে আপনার নির্মিত ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’টি সরিয়ে নিন।
ইংরেজ রোমান্টিক কবি শেলী বলেছেন “Poets are the unacknowledged legislators of the world”। তাই আপনি তাদের সৃষ্টির স্বীকৃতি না দিলেও কিছু যায় আসেনা।
লন্ডন প্রবাসী , লেখক ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.